TRENDS

নেতাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পদ থেকে সরানোর উদ্যোগ ! জানার পরই ঘাটাল বিডিওর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ‘শারীরিক-মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ মহিলা প্রধান

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: একজন নয়, দু’জন নেতা লাগাতার কু-প্রস্তাব দিয়ে চলেছেন। মোবাইলের হোয়াটস্যাপ ভরে যাচ্ছে অশ্লীল ছবি ও ম্যাসেজে। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দেওয়া হচ্ছে হুমকি, হুমকি গুন্ডা লাগানোর, হুমকি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ারও। আর তারপরেও আত্মসমর্পণ না করায় শুরু হয়েছে প্রধানের পথ থেকে অপসারন করে অন্য আরেক নির্বাচিত মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যাকে নতুন করে প্রধান করার। পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে প্রধান এবং পঞ্চায়েত সদস্যপদ থেকেই পদত্যাগ করতে চাইলেন পশ্চিম মেদিনীপুর ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত মনসুখা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পুতুল পাত্র।

যদিও বিডিওর কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে এই মহিলা প্রধান এসব লেখেননি। তিনি শুধু বলেছেন ‘ শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছেন তিনি। তাই পদত্যাগ করতে চান তিনি। বিডিও সঞ্জীব দাস জানিয়েছেন, ‘আগামী সোমবার বিষয়টা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কারা এই নেতা? জানা গেছে এঁদের একজন ঘাটাল ব্লক তৃনমূলের শীর্ষ নেতাদের একজন, অন্যজন মনসুখা-২ ব্লকের অঞ্চল নেতা।

জানা গেছে পুতুল পাত্রের স্বামী ভিন্ন প্রদেশে থাকেন। তিনি সোনার কারিগর। তৃনমূল থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ব্যস্ত থাকেন প্রধানের পদে। কর্মদ্যোগী হিসাবে এলাকায় যথেষ্ট সুনাম রয়েছে তাঁর। বেশ কয়েকবার ধরেই ঘাটাল ব্লকের তৃনমূল সভাপতি দিলীপ মাঝিকে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। সূত্রের খবর প্রধানের হোয়াটস্যাপে লাগাতার কু-প্রস্তাব পাঠিয়ে গেছেন দুই নেতা। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে হোটেলে যাওয়ার। পাঠানো হয়েছে নগ্ন নারীদেহ থেকে পুরুষাঙ্গের। কিন্তু টলানো যায়নি পুতুলকে। একবার তাঁর ওপর গুন্ডা দিয়ে হামলারও চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। আগাম খবর পেয়ে যাওয়ায় সেদিন পঞ্চায়েত অফিসে যাননি পুতুল।

জানা গেছে এরপরই পুতুলকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ভেতরে ভেতরে। আর সেটা জানার পরই নিজেই পদ থেকে সরে চাইছেন পুতুল, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। আর শুধু প্রধান পদই নয় সঙ্গে পঞ্চায়েত সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। পুতুল জানিয়েছেন, “দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)র আদর্শ অনুপ্রাণিত হয়েই মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কাজ করা অসম্ভব! নির্বাচনের পরই ফতোয়া জারি করা হয়েছে যে গ্রামসংসদ বা বুথে দল জিতেছে শুধুমাত্র সেইখানেই উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের কাজ হবে বাদবাকি এলাকায় নয়। আমার গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় মাত্র তিনটি বুথে জিতেছে আমাদের দল। তাহলে বাকি বুথে কাজ করতে পারবনা। এমন পরিস্থিতিতে কাজ করা অসম্ভব।” উল্লেখ্য এবার ঘাটাল বিধানসভা ক্ষেত্রে পরাজিত হয়েছে তৃনমূল।

ঘাটাল তৃনমূলের ব্লক সভাপতি দিলীপ মাঝি জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ আমাদের এক বড় নেতার বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ আমাকে জানিয়েছেন পুতুল পাত্র। মৌখিক এবং লিখিত দু’ভাবেই অভিযোগ করেছেন একাধিকবার। কিন্তু সেই নেতার হাত এতদূর লম্বা যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কিছু করিনি।” ঘাটাল ব্লকের আরেক নেতা জানিয়েছেন, ” এই প্রথম নয়,ওই নেতার বিরুদ্ধে এর আগেও বহু অভিযোগ এসেছে। কয়েকবার আমরা উঁচু স্তরের নেতাদের জানানোর চেষ্টাও হয়েছে কিন্তু কোনও ফল হয়নি। উল্টে ব্লক সভাপতির পদটাই চলে যেতে পারে। ওই নেতার বিরুদ্ধে ঘাটাল ব্লক সভাপতি কার্যত অসহায়।”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join