TRENDS

ঘাটালের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে লোপাট ১৮কোটি! আরামবাগ থেকে গ্রেপ্তার গোয়ালতোড়ের পান্ডা, পুলিশের নজরে ব্যাঙ্কের কেউকেটা

Chandramani Saha

ঘাটালের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে লোপাট ১৮কোটি! আরামবাগ থেকে গ্রেপ্তার গোয়ালতোড়ের পান্ডা, পুলিশের নজরে ব্যাঙ্কের কেউকেটানিজস্ব সংবাদদাতা: নিজেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সারবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ঘাটাল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)শাখা থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল কোটি কোটি টাকা এমনই অভিযোগে হুগলি জেলার আরামবাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হল এক ব্যক্তিকে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি আবার আদতে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় থানা এলাকার বাসিন্দা বলেই জানা গেছে। এপ্রিল মাসের গোড়ায় ধরা পড়েছিল ঘাটালের এই ব্যাঙ্ক জালিয়াতির কান্ড। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এই অন্তর্নিহিত লুটের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল ঘাটাল পুলিশ আর সঙ্গে উন্মোচন করল এক আধ কোটি নয়, লুট হয়েছে ১৮কোটি টাকা! এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কের এক করনিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এখন দেখা যাচ্ছে আরও ৩ জন ব্যাঙ্ককর্মী এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের ভূমিকা কী ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

দ্য খড়গপুর পোষ্ট এই ১৮কোটি টাকা লুটের যে কাহিনী জানতে পেরেছে তাতে দেখা যাচ্ছে ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে ৫ই এপ্রিল SBI খড়গপুর রিজিওনাল ম্যানেজারকে পাঠানো একটি মেল থেকে। ওই মেলটি পাঠিয়েছিল SBI দিল্লি সদর দপ্তর। সেই মেলে বলা হয় ঘাটাল ব্রাঞ্চ থেকে একটি আ্যকাউন্টে (A/C no32622893240) মোট 42 লক্ষ 2 হাজার 705 টাকা পাঠানো হয়েছে। কিসের ভিত্তিতে এত গুলো টাকা একটি ব্রাঞ্চ থেকে পাঠানো হল তা খতিয়ে দেখতে বলা হয় খড়গপুর রিজিওনাল ম্যানেজার জয়ন্ত মনি কে। জয়ন্ত বাবু এই রিজিওয়নের মোট ২৮টি ব্রাঞ্চের দায়িত্বে। জয়ন্ত বাবু মেলটি দেখতে পান ২দিন পরে, ৭ই এপ্রিল। এরপরই তিনি ঘাটাল ব্রাঞ্চে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন জনৈক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি থেকে একটি ফোন করে ঘাটাল SBI কে জানায় যে তিনি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একজন শীর্ষ আধিকারিক। একটি তদন্তের প্রয়োজনে ওই নির্দিষ্ট আ্যকাউন্টে ওই পরিমান টাকা পাঠাতে হবে। সাইবার ক্রাইম দপ্তরের একটি মেল ব্যবহার করেওও এই আ্যকাউন্ট ও টাকার পরিমাণ জানানো হয় ঘাটাল SBI কে।

ঘটনায় কোথাও একটা ফাউল প্লে আছে অনুমান করে জয়ন্তবাবু ওই দিনই খড়গপুর টাউন থানায় একটি অভিযোগ করেন। খড়গপুর টাউন থানার সাইবার ব্রাঞ্চ ওই দিনই জানিয়ে দেন পুরোটাই ফেক। ওই নামে সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চে কোনও লোকই নেই। ওই মেল আইডিও ফেক। পরের দিনই জয়ন্ত মনি ঘাটাল থানায় একটি এফআইআর করেন। ঘাটালের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বিশ্বরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলার তদন্তের ভার তুলে দেন সাব ইন্সপেক্টর শুভেন চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মামলাটির ওপর বিশেষ নজর রাখেন।
শুভেন চট্টোপাধ্যায় মামলার তদন্ত করতে গিয়ে দেখেন শুধু 42 লক্ষ নয়, ওই ব্রাঞ্চ থেকে গলে গেছে আরও কয়েক কোটি টাকা। যা ব্যাঙ্কের নিজস্ব পর্যবেক্ষনে এখনও অবধি ১৮কোটিতে এসে ঠেকেছে এবং যা চলে আসছে এপ্রিলের আরও অনেকে আগে থেকেই। এপ্রিলের শেষে গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যাঙ্কের করনিক ঘাটালের সুলতানপুরের বাসিন্দা সুশান্ত দাসকে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন এবং SBI তাঁকে সাসপেন্ড করেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হল একজন করনিক একা এই কাজ করতে পারে কী করে? এত টাকা ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, ক্যাশিয়ার এবং আ্যকাউটেন্টকে অন্ধকারে কোনও আ্যকাউন্টে পাঠানো সম্ভব নয়। যদিও পুলিশ বিষয়টি নিয়ে এখুনি মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে একটা বিষয় জানা গেছে যে ওই ব্যাঙ্কের ম্যানেজার গৌতম দত্তের পাশ ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছে ব্যাঙ্কের তহবিল থেকে এই টাকা সরানোর জন্য। স্বাভাবিক ভাবে ম্যানেজার এই দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেননা যেমন পারেনননা ক্যাশিয়ার এবং আ্যকাউটেন্ট। ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই গৌতম দত্তকে সাসপেন্ড করার পথে। অসমর্থিত সূত্র বলছে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁকে।

এদিকে ঘাটাল পুলিশ জাল বিছিয়ে গতকালই আরামবাগ থেকে গ্রেপ্তার করেছে নকল সাইবার ক্রাইম আধিকারিক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা রাজীব বক্সী নামে ওই গোয়ালতোড়ের ব্যক্তিকে। ৬দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। চলছে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ। জানা গেছে তিনটি মোবাইল এর বিভিন্ন নম্বর ব্যবহার করত ওই ব্যক্তি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ঘাটাল SBI এর সরষের মধ্যে ভূতের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছে পুলিশ। ঘাটাল পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিশ্বরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ” ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি আমরা। দেখা যাক শেষ অবধি জল কোথায় গড়ায়?”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join