TRENDS

অবৈধ’ সম্পর্ক, সালিশি সভায় কান ধরে ওঠবোস করানো হল যুবক যুব

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক বিবাহিত তরুনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমনই অভিযোগ তুলে সালিশি সভায় কান ধরে দুজনকে ওঠবোস করানো হচ্ছে গ্রাম্য মাতব্বরদের সামনে। শনিবার সকাল থেকে এমনই এক ভিডিও প্রকাশ্যে চলে আসায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল এলাকায়। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তিতে তরুনীর পরিবার।

ঘাটাল এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল থানার মনসুকা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কন্দর্পচক গ্রামে। এই ঘটনায় উপস্থিত থাকতে গেছে সিভিক ভলেনটিয়ারদেরও। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে বেআইনী এই ঘটনা স্বত্তেও কেন ওই সিভিকরা পুলিশকে খবর দিলনা। যদিও সিভিকদের বক্তব্য ওদের উপস্থিতি ছিল বলেই শারীরিক নিগ্রহ থেকে রক্ষা পেয়েছে দুজনে।

স্থানীয় সূত্র মারফৎ জানা গেছে, ওই যুবকের বাড়ি ঘাটালের ইড়পালায়। পেশায় ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি। সেই সূত্র ধরেই পরিচয় গড়ে ওঠে কন্দর্পচক গ্রামের বেরা পাড়ার এক পরিবারের সঙ্গে। পরে ওই পরিবারেরই যুবতীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যুবতীর বাড়িতে তার যাতায়াতও ছিল। গত শুক্রবারও ওই যুবক এসেছিল যুবতীর বাড়িতে। এরপরই গ্রামের কিছু মাতব্বরের কথায় দুজনকে তুলে নিয়ে আসা হয় পাড়ার শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে। অনেক রাত অবধি সালিশি চলার পর জামাইষষ্ঠীর দিন ‘মোচ্ছব’ করার অপরাধে দুজনকেই কান ধরে ওঠ বোস করানো হয়। পরে সেই দৃশ্য মোবাইল বন্দি করে ছেড়ে দেওয়া হয় বাজারে।

ওই সালিশি সভায় হাজির করা হয়েছিল তরুনীর বাবা মাকেও। ঘটনার পরে তরুনীর মা বলেন, ” মুখ দেখানোর উপায় রাখেনি আমাদের। সবার হাতে হাতে ঘুরছে ওই ভিডিও। সিভিক ভলেন্টিয়ারদের উপস্থিতিতে আমাদের চোখের সামনে মেয়েকে এরকম করছে। ঐ ছেলেটি আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো ঠিক। কিন্তু কোন খারাপ সম্পর্ক ছিলনা।”

যুবতীর বাবা বলেন, “মেয়ের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আমরা কোথাও কোন অভিযোগ করছিনা। কিন্তু আমরা আতঙ্কে রয়েছি লজ্জায় মেয়ে না কিছু করে বসে।” ঘটনার পেছনে স্থানীয় তৃণমূলেরও লোকেরা ছিল বলেও জানা গেছে। যদিও স্থানীয় তৃনমূল নেতা কিঙ্কর পণ্ডিত বলেন, “শনিবার আমরা লোকের মুখে এই কথা শুনছি। কত রাত্রে, কী হয়েছে কিছুই জানিনা।” বিষয়টি নিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের না হলেও লকডাউন ভেঙে ভিড় জমানোর জন্য পুলিশ একটি মামলা করছে বলে জানা গেছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join