TRENDS

লকডাউন এফেক্ট,ছন্দে ফিরছে প্ৰকৃতি, দশক ছাড়িয়ে যমুনার বুকে ফিরল ঘড়িয়াল

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউনে শীতের দেশ দেখেছে রাস্তায় উঠে আসা পেঙ্গুইন, দিল্লি দেখেছে ঘরের উঠোনে চরে বেড়াচ্ছে ময়ূর। বিহারের গ্রাম দেখেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এমন আরও কত কী! এবার আগ্রাবাসী যমুনার জলে ফিরে আসতে দেখল ঘড়িয়ালের দলকে। জলশুন্য, প্রায় নর্দমায় পরিনত একদা পূর্নগর্ভা যমুনা থেকে একে একে অবলুপ্ত হয়ে গেছে জৈব বৈচিত্র্য। সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় এই নদীটি থেকে এক দশক আগে হারিয়ে গেছিল ঘড়িয়ালও ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ফিস ইটিং ক্রোকোডাইল, গ্রাম বাংলায় মেছো কুমির।

ভারতীয় জলমানচিত্রে খুব পরিচিত একটি নাম এই ঘড়িয়াল। চার থেকে সাত মিটার দৈর্ঘ্যের এই সরীসৃপ প্রাণীটি কুমির প্রজাতির হলেও তার স্বভাব হিংস্র নয়। সংকীর্ণ চোয়ালের এই প্রাণীটির প্রধান খাদ্য মূলত নদীর মাছ। তাই এদের মেছো কুমিরও বলা হয়ে থাকে। প্রাণীটি বর্তমানে জায়গা নিয়েছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকায়। যমুনা-সহ একাধিক নদীতে তার আর অস্তিত্ব নেই। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রেও কমেছে সংখ্যা। তবে লকডাউনের সময় যমুনায় প্রায় এক দশক পর দেখা গেল বিপন্ন এই প্রজাতিকে।

সম্প্রতি বন-আধিকারিক সুশান্ত নন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন একটি ছবি। সেখানে দেখা যাচ্ছে যমুনার তীরে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েকটি ঘড়িয়াল শাবক। এই ছবি ঘিরেই উচ্ছ্বসিত পরিবেশবিদদের একাংশ। উচ্ছ্বসিত তিনি নিজেও। কারণ ২০১১ সালে শেষ যমুনায় দেখা মিলেছিল তার। বছর দশেক আগে চিরতরের জন্য যমুনা থেকে বিদায় নিয়েছিল এই বিপন্ন প্রাণীটি। তবে চম্বল নদীতে ঘড়িয়ালের বসবাস হারিয়ে যায়নি এই মাঝের বছরগুলিতে। সেখান থেকেই যমুনায় প্রত্যাবর্তন করেছে এই মেছোকুমির, তা স্পষ্ট পরিবেশবিদদের কাছে। চম্বল থেকে নদীর গতিপথের বিপরীতে ৩০ কিলোমিটার দূরে ডিমও দিয়েছিল তারা। সেই ডিম ফুটেই জন্ম নিয়েছে বেশ কয়েকটি শাবক। তবে গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ইতিমধ্যেই দুটি শাবক মারা গেছে। তবে বাকিরা বেশ সুস্থই রয়েছে। যমুনার তীরে মাঝেমধ্যেই জানান দিচ্ছে তাদের উপস্থিতি।

গত মার্চ মাস থেকেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে লকডাউনের পথ বেছে নিয়েছিল ভারত সরকার। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশের প্রায় সমস্ত কলকারখানাগুলিই। বন্ধ হয়েছিল পরিবহন-সহ মানুষের অন্যান্য কার্যকলাপও। ফলে কমে এসেছিল দূষণ। যা শাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছিল প্রকৃতির কাছে। ধিরে ধিরে ক্রমশ স্বচ্ছ হয়ে উঠছিল দেশের একাধিক নদী। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রের পাশাপাশি অতি-দূষিত যমুনাতেও ঝকঝকে জলস্তর দেখা গিয়েছিল গত এপ্রিলে। সেরে উঠছিল বাস্তুতন্ত্রও। যমুনায় ফিরে এসেছিল পাখির দল এবং নানান প্রজাতির মাছ। এবার সেখানেই সংযোজিত হল বিপন্নপ্রায় প্রজাতির এই সরীসৃপ, ঘড়িয়াল। লকডাউন তাই কখনও কখনও আশীর্বাদ হয়ে এসেছে প্রকৃতি আর প্রকৃতির মানুষের কাছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join