TRENDS

Job: ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট! গোল্ড মেডেল শিকয়ে তুলে ডোম পদেই চাকরি চান স্বর্ণালী

Chandramani Saha

Job: ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট! গোল্ড মেডেল শিকয়ে তুলে ডোম পদেই চাকরি চান স্বর্ণালীনিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে অথৈ জলে। এখন একটা কাজ চাই, যে কোনও কাজ। তাই নিজের গোল্ড মেডেল শিকেয় তুলে তাই ডোমের পদের জন্য আবেদন করেছেন স্বর্ণালী সামন্ত। রবিবার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (NRS) গিয়ে লিখিত পরীক্ষাও দিয়ে এসেছেন স্বর্ণালী। এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। স্বর্ণালী জানান, “আমি মনে প্রাণে চাইছি চাকরিটা হয়ে যাক। কারণ চাকরিটা হলে আমার এই পরিবারতা বেঁচে যাবে। নাহলে সপরিবারে ভেসে যাব আমরা।”

কয়েকদিন আগেই খবর ছড়িয়েছিল যে, NRS মেডিক্যাল কলেজে ডোম পদে চাকরির জন্য স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ইঞ্জিনিয়াররা আবেদন করেছে। যেখানে ওই পদের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাশের যোগ্যতা নির্ধারণ ছিল, সেখানে উচ্চ শিক্ষিতদের হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ায় সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল। আর এরই মধ্যে সেখানে আবেদনকারী এক মহিলা সামনে এসেছেন। যিনি স্নাতকে ইতিহাসে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত। শিবপুরের বাসিন্দা স্বর্ণালী সামন্ত এনআরএস কলেজে ডোম পদে চাকরির জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

জানা গেছে খুবই অল্প বয়সে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন স্বর্ণালী। শিবপুরে দেবব্রতর সঙ্গে অল্প বয়সেই সংসার পাতেন তিনি। তবে বিয়ের পরেও পড়াশোনা ছাড়েন নি। স্নাতকে ইতিহাসে পড়াশোনা করে ফার্স্টক্লাশ ফার্স্ট হয়ে স্বর্ণ পদক পান স্বর্ণালী। সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য হাজার চেষ্টা করলেও সফল হন নি তিনি। এরপর বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় রিসেপশানিস্টের কাজ করতে হয় তাঁকে। স্বর্ণালীর স্বামী দেবব্রত উবের-এর বাইক চালান। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের হলেও কোনওমতে সুখে শান্তিতে কাটছিল জীবন। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে ছোট্ট সংসারে নেমে আসে কষ্টের কালো মেঘ। দম্পতির একমাত্র মেয়ের খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্ত করে সংসার টানা খুব কষ্টকর হয়ে উঠেছিল তাঁদের। আর সেই কারণেই এনআরএসে ডোম পদে চাকরির আবেদন করেন স্বর্ণালী।

স্বর্ণালী জানান, চাকরির বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট। তিনি জানতেন না যে, ওটি ডোমপদের বিজ্ঞপ্তি ছিল। যদিও, পরে জানতে পেরেও আর পিছিয়ে আসেন নি তিনি। স্বর্ণালী জানান, একটা চাকরি খুবই দরকার। সরকারি চাকরি হলে নিরাপদ হয়। মেয়েরা সবই পারে। নার্স, আয়া সব কাজ মেয়েরাই করে। তাই ডোমের কাজ পারব না কেন? এই কারণেই আর পিছিয়ে আসিনি। এবার ঈশ্বর করুন, চাকরি টা যেন হয়ে যায়।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join