TRENDS

ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে প্রতিদিন কবরে ঘুমাতে যান এই বাবা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে আসছে মৃত্যু। মৃত্যু জয়ী হবেই এবং কেড়ে নেবে প্রাণাধিকা কন্যাকে। তখন তাকে কবরে শুতেই হবে। আর শুতে যাতে কষ্ট না হয় তাই প্রতিদিনই তাকে নিয়ে কবরে শুতে যান বাবা। তাকে অভ্যস্ত হতে হবে যে! চীনের সিচুয়ান প্রদেশের বাবা মেয়ের এই মর্মস্পর্শী ভালবাসার ছবি আজ বিশ্বজুড়ে। নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে কাঁদিয়ে বেড়াচ্ছে নেটিজেনদের। বাবা আর মেয়ের সম্পর্ক যে কতটা গভীর আর পবিত্র তাই আরও একবার তুলে এনেছে নেট দুনিয়া।

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ঝাঙ্গ ঝিনলেই গ্রামের কৃষক লিয়াং। তার একটি দুই বছরের ছোট মেয়ে আছে, যাকে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। মেয়েটি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। ডাক্তার বলেছেন, মেয়েটি বেশিদিন বাঁচবে না। সেই থেকে লিয়াং মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন কবরে ঘুমান এবং তার সঙ্গে সেখানেই খেলাধুলা করেন। এমন না যে লিয়াং-এর থাকার কোন ঘর নেই। তবুও সে মেয়েকে নিয়ে কবরেই ঘুমায়। এভাবে প্রতিদিন বাবা তার মেয়েকে কবরস্থানে বেঁচে থাকা শেখায়। বাবা হিসেবে এই কাজটি করা তার জন্যে অনেক কষ্টের। তারপরও সে এই কাজটি করে। যাতে নিজেও মেয়ের কষ্টের ভাগীদার হতে পারেন।

মেয়েটি গত এক বছর ধরে লিয়াং-এর সঙ্গে কবরে বাস করা শিখছে। এটি একজন বাবার জন্য খুব যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্ত। শিশুটির চিকিৎসকরা বলেছেন, মেয়েটির রক্তের কোষ সঠিকভাবে কাজ করছে না। আরও জানান, এই ধরনের অবস্থায় মেয়েটি সর্বোচ্চ এক বছর বেঁচে থাকবে।

এমন অনেক রোগ আছে যার কোন চিকিৎসা হয় না। যতই টাকা-পয়সা থাক না কেন সেইসব রোগগ্রস্ত রোগীকে বাঁচানো মুশকিল হয়। আমাদের দেশেও প্রতিদিন অনেক মানুষ মারা যান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে। চীনেও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু তার বাইরে গিয়ে এই যে ছবি, মেয়ের প্রতি বাবার এই অবিনশ্বর ভালবাসা তা মৃত্যু কখনোই কেড়ে নিতে পারবেনা আর এখানেই মৃত্যু পরাজিত।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join