TRENDS

জল বেড়েছে গত দুদিনে, মায়ের সাথে ওপারে যেতে গিয়ে তলিয়ে গেল শাবক! দেহের জন্য নদী তোলপাড় করল হাতির দল

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোয়ালতোড়: গত কয়েকদিন ধরে উচ্চ অববাহিকার জল নামছে তমাল নদীতে। চির পরিচিত যাত্রাপথ কখন গভীর খাদে পরিণত হয়ে গেছে বুঝতে পারেনি হাতির দল। সেই খরস্রোতা পথে মায়ের সঙ্গে নদী পেরোতে গিয়ে জলে তলিয়ে গেল এক হস্তি শাবক। রাতভর তল্লাশি চালিয়েও সন্তানের খোঁজ না পেয়ে ফিরে গেল হাতির দল। ফেরার পথে মা বারবার ফিরে তাকাল সেই নদীর দিকে যেখানে সে ফেলে যাচ্ছে প্রিয় সন্তানকে। ভোর বেলায় কৃষি কাজে আসা মানুষেরা বিষয়টি লক্ষ্য করে খোঁজ চালিয়ে কয়েকশ মিটার দুর থেকে উদ্ধার করেন হস্তি শাবকের দেহটি। যা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনা শুক্রবার রাতে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড়ের চাউলিতে।

স্থানীয় সুত্রে ও বনদপ্তর সুত্রে জানা গিয়েছে বেশ কয়েকদিন ধরেই গোয়ালতোড়ের ধরমপুর, কদমডিহা প্রভৃতি এলাকার জঙ্গলগুলিতে প্রায় ২০-২৫ টি হাতির একটি পাল আস্তানা গাড়ে। এলাকায় তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সেই হাতির পাল টি গতকাল রাতেও দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। প্রথম দলটিতে প্রায় ১০ -১২ টি হাতি ধরমপুর কদমডিহার জঙ্গলের দিক থেকে গোয়ালতোড় আর শাঁখাভাঙ্গার মাঝে মাঠে তমাল নদীর চরে খাবার সন্ধানে বেরিয়ে নদী পেরিয়ে কাঁকড়িশোলের দিকে চলে যায়।

পরের দলটি প্রায় রাত একটা নাগাদ তারাও খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে ওই তমাল নদীর চরের মাঠে। এই দলেই ছিল একটি এক সপ্তাহের হস্তি শাবক। এই হাতির পালটিও তমাল নদী পেরোতে গিয়ে নদীর জলের তোড়ে শাবক টি ভুবে ভেসে চলে যায়। অন্যান্য হাতি গুলি ডুবন্ত ওই বাচ্চা টিকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর খুজে পাইনি। পরে এদিন সকালে স্থানীয়রা দেখেন কিছুটা দুরে নদীর মাঝে মাছ ধরার বাঁধানো পাটায় আটকে পড়ে আছে। এদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মৃত হস্তি শাবক টি কে দেখতে ভিড় জমে যায় তমাল নদীর পাড়ে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি তার উপর কংসাবতী ক্যানেলে জল ছাড়ার কারনে এই নদীটি জলে টইটম্বুর হয়েছিল। তার উপর নদীটি খরস্রোতা। ফলে ওই বাচ্চাটি নদী পেরোতে গিয়েই জলে ডুবে মৃত্যু ঘটে। খবর দেওয়া হয়ে গোয়ালতোড় থানায় এবং গোয়ালতোড়ের রেঞ্জ অফিসে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পুরো ঘটনার সবিস্তারে বলা যাবে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join