TRENDS

আলিপুরদুয়ারে চরম অব্যবস্থা! ভ্যাকসিন না নিয়েই ফিরলেন ভোট কর্মীরা

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: ভ্যাকসিন না নিয়ে ভোট নিতেই পারবেননা ভোট কর্মীরা অথচ সেই ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার ভোটকর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ স্বাস্থ্য দপ্তরের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে অগত্যা সাময়িক ভাবে ফিরে গেলেন কর্মীরা। ঘটনা ঘিরে শোরগোল আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা ব্লকে।

জানা যায়, স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাঠানো মেসেজে উল্লেখিত যথাযথ সময় ও স্থানে রবিবার জটেশ্বর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ভ্যাকসিন নিতে পৌঁছে যান ভোট কর্মীরা। কিন্তু অভিযোগ, বেলা হয়ে গেলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দরজায় লাগানো তালা খোলেনি অনেকক্ষণ।

ভোটকর্মীরা অভিযোগ করে জানান, করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য সকাল ৯ টা থেকেই ভিড় জমেছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে। তবু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য কোনও হেলদোল দেখায়নি কর্তৃপক্ষ। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য। তাতেই ঘটনাস্থলেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন ভোট কর্মীরা।

টিকা নিটে আসা একজন ভোটকর্মী তথা হাই স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, “আমাদের মোবাইলে মেসেজ এসেছিল করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমাকে পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সকাল ৯ টা থেকে টিকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এখানে এসে দেখি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তালা খোলেনি। স্বাস্থ্য দফতরে ফোন করেও কোনও সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে আমাদের সময় নষ্ট করলে চলবে কি করে?”

জটেশ্বর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের খবর পাওয়ার পর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরাকে টেলিফোন করা হলে তাঁকে টেলিফোনে পাওয়া যায়। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পার্থ সারথি কয়াল বলেন, ” পরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। টিকা গ্রহণ শুরু হয়েছে।” তিনি এও জানান, কোভ্যাকসিন ও কোভিশিল্ডের একটি ভ্যাকসিন থেকে ১০ ও ২০ জনকে টিকা দেওয়া যায়। যদি সেই সংখ্যা না দেখে ডোজ খুলে ফেলা হয় এবং যদি তা বেঁচে যায়, তাহলে বাকি ভ্যাকসিন নষ্ট হবে। তাই অপেক্ষা করা হচ্ছিল।‘

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল দশটার পর স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি খোলা হয়। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তব্যে গাফিলতি রয়েছে বলেই তারা অভিযোগ করেন। তাছাড়া ভোটকর্মীদের আগেভাগে ডেকে একঘণ্টারও বেশি দাঁড় করিয়ে রাখা হল কেন, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্নমহল থেকে। প্রসঙ্গত, করোনা কালে ভোটকর্মীরদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে লিস্ট ধরে তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। কিন্তু এই ভ্যাকসিন দিতে গিয়েই আলিপুরদুয়ারে দেখা দিল সমস্যা।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join