TRENDS

পুজোয় মোবাইল না পেয়ে আত্মহত্যা কিশোরের, মোবাইল পেয়েও আত্মঘাতী তরুন

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পুজোয় মায়ের কাছে আ্যন্ড্রয়েড মোবাইল চেয়ে না পেয়ে অভিমানে আত্মঘাতী এক ১৬ বছরের কিশোর অন্যদিকে হাতে মোবাইল পেয়ে দিনভর মোবাইলে ব্যস্ত থাকা এক যুবক আত্মঘাতী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোহনপুর ও বেলদা থানার ঘটনা দুটি ঘটেছে মহা অষ্টমীর দিন। পুলিশ দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দিয়েছে।

জানা গেছে মোহনপুর থানার নয়াগাঁ এলাকার হত দরিদ্র পরিবারের ১৬ বছরের কিশোর লক্ষীকান্ত। অসীম দরিদ্রের কারনে ক্লাশ এইটের পর পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বছর খানেক আগে। পিতা চৈতন্য মানসিক রোগী, মা আল্পনা কানে কম শোনে আর কথা বলতেও সমস্যা হয়। বাবা কিছু বোঝেনা তাই মায়ের কাছেই লক্ষীকান্ত আবদার করেছিল একটা আ্যন্ড্রয়েড মোবাইল কিনে দেওয়ার। বন্ধুদের মোবাইল দেখে তারও ইচ্ছা হয়েছিল কিন্তু নুন আনতে ফুরায় যে সংসারে সেই সংসারে মোবাইল কিনে দেওয়া আর হাতে চাঁদ ধরতে পারা একই ব্যাপার।

খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে  লাশ নিতে আসা লক্ষীকান্তর এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, পুজোয় মোবাইল না পেয়ে ছেলেটার মন খুব খারাপ ছিল। ওর বাড়ির লোকেরা জানিয়েছে, সন্ধ্যায় সবাই বসে মুড়ি খেতে খেতে কথা বলছিল কিন্তু লক্ষীকান্ত কিছু বলছিলনা। এরপর যে যার কাজে চলে যায়। লক্ষীকান্ত ওদের মাটির ঘরের দোতলা ছাদে চলে যায়। রাতে ওর মা খেতে ডাকে। অনেকবার ডেকেও না সাড়া পাওয়ায় মা দোতালায় উঠে দেখে লক্ষীকান্ত গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। চিৎকার চেঁচামেচিতে আমরা ছুটে যাই কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। ওই দম্পত্তির ১৪বছরের আরেকটি সন্তান রয়েছে যে সেভেনে পড়ে।

অন্যদিকে ওইদিন দুপুরেই আত্মহত্যা করে বেলদা কলেজের এই ২০ বছর বয়সী ২য় বর্ষের আর্টসের ছাত্র। জানা গেছে মৃত ওই ছাত্রের নাম উজ্জ্বল পান্ডা। উজ্জ্বলের বাবা কৃষি মজুরি ছাড়াও পূজা আচ্চা করেন। অন লাইন পড়ার জন্য তাঁকে একটি মোবাইল সম্প্রতি কিনে দিয়েছিল তার পরিবার। যদিও বাড়ির লোকের দাবি ওই মোবাইল নিয়ে দিনভর মোবাইল গেম আর বন্ধুদের সঙ্গে গলগুজবেই ব্যস্ত থাকত সে। অষ্টমীর দিন সকালে তাকে এক বান্ধবীর সাথে কথা বলতে দেখেছিল পরিবার। সকালের জল খাবারের পর তার মা গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে যায়। বাবা চলে গেছিল পূজা করতে। উজ্জ্বলের ছোট ভাইও পাড়ার পূজায় চলে গেছিল।

উজ্জ্বলের মামা চন্দন মিশ্র জানিয়েছেন, “বাড়িতে উজ্জ্বল একাই ছিল। তখনই ঘরের মধ্যে নাইলন দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। বাড়ির লোকেরা পরে দেখতে পেয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। পুলিশ মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করেছে। আমাদের মনে হচ্ছে প্রেম জনিত কারণেই এই আত্মহত্যা।” যদিও এই আত্মহত্যার পেছনে যে প্রেমই এরকম বিষয় পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join