TRENDS

দাদার মতই খোল করতালে মজে দিব্যেন্দুও! নন্দীগ্রামে ধর্মীয় সভায় বিজেপি নেতার সাথে খোশ মেজাজে তমলুকের সাংসদ

Chandramani Saha

সুস্মিতা গোস্বামী : দল ছাড়ার কয়েকমাস আগে থেকেই হরিসভায় গেলেই খোল কিংবা করতাল বাজাতে দেখা যেত শুভেন্দু অধিকারীকে। হঠাৎই তাঁর কপালে প্রকট হচ্ছিল রসকলির চওড়া আঁচড়। কীর্তনিয়াদের কাছ থেকে মৃদঙ্গ চেয়ে নিয়ে তাল ঠোকার মরিয়া চেষ্টা আর বাকিটা ইতিহাস। শেষ অবধি তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান! সেই একই পথে আবারও কী তবে অধিকারী পরিবারে ফুটতে চলেছে পদ্ম! গেরুয়া শিবিরের নেতাদের সাথে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে দিব্যেন্দুর দর্শন মিলতেই চড়ছে রাজৈতিক জল্পনার পারদ। রবিবার রাতে নন্দীগ্রামের সাউদখালি এলাকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায় তমলুকের তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দুকে। সেখানে বিজেপির মন্ডল সভাপতির সাথে বেশ চনমনে মেজাজেই দেখা যায় তাঁকে। এমনকি খোল করতাল বাজাতেও দেখা যায় তাঁকে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিব্যেন্দুর দলবদলের জল্পনা ঘুরছে রাজনৈতিক মহলের আনাচে কানাচে। তবে দিব্যেন্দু সাফ জানিয়েছেন দল বদলের কোনও প্রশ্নই নেই, এটা কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ছিল না। কিন্তু তাতে কী! জল্পনা যে থেমে নেই।

এই জল্পনার পেছনে যদিও সেই কার্য কারণই সূত্রই মেলাচ্ছেন জনতা। যেমনটি দল বদলের বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই শিশির অধিকারী পুত্র শুভেন্দু অধিকারীকেও দেখা গিয়েছিল দলীয় পতাকা ছাড়া সভা করতে। যোগ দিয়েছিলেন একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও। তখনও গুঞ্জন উঠেছিল শিশির পুত্রের দলবদলের এবং সেই গুঞ্জনই সত্যি হয় ২০২০ সালের ১৯ শে ডিসেম্বর। সেদিন মেদিনীপুরে অমিত শাহের মেগা শো ঘিরে সকাল থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। এদিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ মেদিনীপুর কলেজ মাঠে হয় অমিত শাহ-র জনসভা। সেখানেই বঙ্গ বিজেপি সভাপতির হাত ধরে স্টেজে ওঠেন শুভেন্দু বাবু। অমিতের পায়ে হাত দিয়ে প্রনামটাও সেরে ফেলেন শুরুতেই। এরপর বিজেপিতে যোগ দিয়েই বাংলার শাসকদলের উদ্দেশ্যে কামান দাগেন শুভেন্দু। তৃণমূল সুপ্রিমো থেকে শুরু করে ভাইপো প্রসঙ্গ বাদ যায়নি কিছুই।

এরপর চলতি বছরের শুরুতেই ধামাকা দেন অধিকারী পরিবারের কনিষ্ঠ পুত্র সৌমেন্দু অধিকারী। দাদা শুভেন্দুর হাত ধরেই পদ্ম শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন তিন। তাঁর সম্পর্কেও অবশ্য গত বছরের ২৮ শে ডিসেম্বর বোমা ফাটান জেলা তৃণমূল কোঅরডিনেটর তথা রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি। কনিষ্ঠ শিশির পুত্র তথা কাঁথি পুরসভার প্রশাসক সৌমেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে বলেন, দাদার (শুভেন্দুবাবুর) অনুগামীদের বা বিজেপির কর্মসূচি আয়োজন করছেন সৌমেন্দু। তিনি মিছিলেই শুধু হাঁটছেন না, বাকি সব করছেন। কাঁথির প্রশাসকের দ্বিচারিতা দল ও সরকার ধরে ফেলেছে। অখিলের সেই বাণীও সত্যি হয়। তার আগে অবশ্য কাঁথি পরিষদ থেকে সৌমেন্দুকে সরিয়ে দেয় শাসক শিবির।

শুভেন্দু পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়ে ঘোষনা করেছিলেন যে, রাম নবমীতে অধিকারী পরিবারে পদ্ম ফুটবে, যার সূচনা হয়েছিল তাঁর ছোট ভাই সৌমেন্দুকে দিয়ে। তারপর থেকেই তাদের বাবা শিশির অধিকারীর দল বদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে, কারণ শুভেন্দু দল বদলের দলীয় কোনও সভায় অংশ নিতে দেখা যায়নি শিশির অধিকারীকে। এরপর শিশির বাবুর আরও এক ছেলে সৌমেন্দুও দাদার পথ ধরেই পদ্ম শিবিরে যোগ দেন। অধিকারী পরিবারের সাথে শাসকশিবিরের একসময় সুসম্পর্কে চিড় ধরা ফাটল ক্রমশই চওড়া হতে থাকে। কেড়ে নেওয়া হয় শিশির অধিকারীর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতা। দলবদলের ধারণা করে শিশির বাবুকেও বাক্য বাণে বিদ্ধ করতে থাকেন শাসক শিবিরের অনেকেই। তবে গর্জে উঠেছিলেন শিশির বাবুও। বলেছিলেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব পাবে। জবাব দেবেন মেদিনীপুরের মানুষ। আমি যখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম, অবিভক্ত মেদিনীপুরে একটাও নির্বাচিত পদ ছিল না। আমি যোগ দেওয়ার পর দলে দলে সকলে যোগ দিল। আর আমি এখন হলাম মীরজাফর! আমি হলাম বেইমান।’ তবে তিনি যে মমতার দলেই আছেন সে কোথাও জানিয়েছিলেন।

দিব্যেন্দু, শুভেন্দুর দাদাকে নিয়েও কিন্তু সেসময় জল্পনার ঢেউ উঠেছিল। তিনিও অবশ্য সাফ জানিয়েছিলেন, ‘আমি তো আর পাগলা ষাঁড় হয়ে যাইনি।’ সেই সময় জল্পনা চাপা পড়লেও রবিবারের ঘটনা ফের সেই জল্পনা উস্কে দিয়েছে। এবার শাসকশিবির ও পদ্ম শিবিরে অধিকারী পরিবারের ২:২ অনুপাতের ধারা কী এবার ভাঙতে চলেছে! শুভেন্দুর নিজের পরিবারে পদ্ম ফোটানোর যে ভবিষ্যৎ বাণী, তা কী সত্যিই এবারে ফলতে চলেছে! উত্তর শুধু সময় দেবে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join