TRENDS

ডেবরায় মা নেগেটিভ, আক্রান্ত ১৫ দিনের শিশুকন্যা! পিংলায় একই পরিবারে আক্রান্ত ৩, বেলদায় কমল করোনা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: মা নেগেটিভ কিন্তু আক্রান্ত ১৫ দিনের শিশুকন্যা। জন্মের পর বাড়ির মুখই দেখেনি মেয়ে। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছে আর তারই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত মেয়ে। ডেবরা থানার ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিহরপুরের ঘটনা। গত ২০ সেপ্টেম্বর ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে জন্ম নেয় ওই শিশুকন্যা। জন্মের পরই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। খাওয়ার অসুবিধা। মায়ের সামান্য স্তন পান করার পরই বমি করে দিচ্ছিল। চিকিৎসকরা এসএনসিইউ রাখেন তাঁকে কিন্তু কিছুদিন পরেই তাঁরা অনুমান করেন শিশুটির হৃৎযন্ত্রে সমস্যা থাকতে পারে। তাঁরা একই ছাদের তলায় সমস্ত রকম চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে এমন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন পরিবারকে। পরিবার গত বৃহস্পতিবার নিয়ে আসে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই ভর্তি করে নেওয়া হয় তাকে। সেখানেই তাঁর হৃৎযন্ত্রের ইকো পরীক্ষা করা হয়, পাশাপাশি নিয়ম মাফিক করোনা পরীক্ষাও।

শুক্রবার মা এবং মেয়ের নমুনা সংগ্ৰহ করা হয়। শনিবার অর্থাৎ ৩ তারিখ ফলাফল আসলে দেখা যায় মা নেগেটিভ কিন্তু মেয়ে পজিটিভ। পরিবারের লোকজন জানিয়েছে একে সদ্যজাত তায় সমস্যা সঙ্কুল, জন্ম থেকেই এসএনসিইউতে ছিল তাই মা ছাড়া পরিবারের অন্য কেউ স্পর্শ করা তো দুরের কথা, কাছেও কেউ ঘেঁসেনি অথচ শিশু পজিটিভ হল কী করে? আর মা যেখানে নেগেটিভ সেখানে তাঁর কাছ থেকে সংক্রমন হওয়ার কোনও সম্ভবনাও নেই। অন্যদিকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে আনার মাত্র ২৪ঘন্টার মধ্যে নমুনা নেওয়া হয়েছে শিশুকন্যার ফলে এখান থেকেই সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা কম।

খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেল ঘাটাল হাসপাতাল থেকেই ওই কন্যা আক্রান্ত হয়ে এসেছেন এই সম্ভাবনাই বেশি । পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, যেদিন ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের এসএনসিইউ থেকে ওই শিশু কন্যাকে সাধারন শয্যায় দেওয়া হয়েছিল ওই দিনই বিকালে ওই এসএনসিইউর দায়িত্ব প্রাপ্ত নার্সের করোনা পজিটিভ ফলাফল আসে। যার অর্থ আক্রান্ত অবস্থাতেই তিনি এসএনসিইউর শিশুদের দেখভাল করার দায়িত্বে ছিলেন। আর সেখান থেকেই ওই শিশুকন্যা সংক্রমিত হয়েছে। শিশুটির হৃদযন্ত্রেও কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে এখন একটি বিশেষ কক্ষে রাখা হয়েছে তাঁকে। অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভাল।

এদিকে মাসের তৃতীয় দিনে সংক্রমন অব্যাহত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরাতে। ১৫ দিনের শিশুকন্যা ছাড়াও আক্রান্ত আরও ৬ জন। রাধামোহনপুরের বাঁশদাতে একই পরিবারের ৫৫বছরের প্রৌঢ় ও ৪৪বছরের গৃহবধূ আক্রান্ত হয়েছেন। লোয়াদার জোতনারায়ন এবং জামালচকে ২১ বছরের যুবক ও ৬৫বছরের বৃদ্ধ আক্রান্ত। গোল গ্রামের কাঞ্চনপুরে ৩২ বছরের যুবক ও ডেবরার চকনরসিংয়ে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ আক্রান্ত হয়েছেন।

পিংলা থানার গোবর্ধনপুর গ্রামে একই পরিবারের ৩জন আক্রান্ত যাঁদের মধ্যে ৪৩ বছরের পুরুষ ও ৪২ বছরের মহিলা এবং ১৫ বছরের কিশোর রয়েছেন। পিংলার রাধাকৃষ্ণপুর আস্তি এলাকায় আক্রান্ত ৪৬বছরের ব্যক্তি। এদিন সংক্রমন যথেষ্টই কম বেলদা থানা এলাকাতেও। বেলদার সবুজপল্লী, বাখরাবাদ ও নারায়নগড়ের খুড়শি বালিচাতুরী এলাকায় যথাক্রমে ৫৭, ৬৫ এবং ৬২বছরের এক প্রৌঢ় ও দুই বৃদ্ধ আক্রান্ত হয়েছেন।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join