TRENDS

সরানো যাবেনা ও.সিকে! পোষ্টারে পোষ্টারে ছয়লাপ দাসপুর

Chandramani Saha

সরানো যাবেনা ও.সিকে! পোষ্টারে পোষ্টারে ছয়লাপ দাসপুরনিজস্ব সংবাদদাতা: সারা রাজ্যে জুড়ে যদি গোপন অভিমত নেওয়া হয় দেখা যাবে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পরিমানই বেশি। পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা আদায়, ঘুষ নেওয়া, সময়ে ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো ইত্যাদি কত শত না অভিযোগ! বেশিরভাগ থানা ঘেরাওর মূল দাবিই থাকে থানার ওসি বা ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে বদলি করতে হবে। কিন্তু বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার রাজনগরে দেওয়ালে দেওয়ালে সাদা কাগজে কম্পিউটারে কালো কালিতে প্রিন্ট করা লেখা গুলো একেবারেই অন্যরকম। চমকে দেওয়ার মতই সেই পোস্টারে দাবি করা হয়েছে দাসপুর ওসিকে বদলি করা যাবেনা!

সামনেই নির্বাচন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসাবে নির্বাচনের প্রাক্কালে পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি নতুন কিছু নয়। বলা হয় নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার স্বার্থে একই এলাকায় টানা তিনবছর বহাল রয়েছেন এমন পুলিশ পদাধকারীদের বদল করা দরকার। এতে নির্বাচন সত্যি নিরপেক্ষ হয় কিনা জানা নেই তবে লোক দেখানো হলেও বদলিটা হয়েই থাকে। বুধবার সাত সকালের এই পোষ্টার দেখে মনে হতেই পারে তবে কী ওসির বদলির নির্দেশ এসেছে? পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মীদের কাছ থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে না, এখুনি তেমন কোনও আদেশ নামা নেই। তাহলে? রাজনগরের এক অংশের বাসিন্দারা দাবি করেছেন যে তাঁদের আশঙ্কা হচ্ছে দাসপুরের ওসি সুদীপ ঘোষালকে সরানো হতে পারে। কিন্তু কেন এই আশঙ্কা?

রাজনগরের এক বাসিন্দা জানান, ‘গত ২২শে নভেম্বর দাসপুর থানার চাঁইপাট গ্রামে তৃণমূলের একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার সভাপতি অজিত মাইতির উপস্থিতিতে দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভূঁইয়া প্রকাশ্য সভায় দাবি করেন দাসপুরের ওসিকে সরাতে হবে। আমাদের মনে হচ্ছে এরপরই ওসিকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।’
দাসপুরের সভায় বিধায়ক এমনটা দাবি করেছিলেন বটে কিন্তু পরক্ষণেই তিনি সামলে নিয়ে বলেছিলেন, আসলে তিনি দাসপুরের মত বড় এলাকার জন্য ২টি থানা দরকার। একজন ওসি আছে, আরেকজন ওসি দরকার। জানা গেছে এরপর ওসির কাছে ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন তিনি। দল তাকে সতর্কও করেছেন।

বিধায়ক সংবাদমাধ্যমেও পরে বলেছেন যে, অমন কথা বলা তাঁর উচিত হয়নি কিন্তু ভবি ভোলার নয়। দাসপুরবাসীর একাংশ বলছেন, বিধায়ক যখন বলেছেন তখন তিনি ওসির বিরুদ্ধে তখন তিনি তাঁর মনের ভেতরের ক্ষোভই উগরে দিয়েছেন তাই তিনি করেই দেখবেন। তাছাড়া শুধু বিধায়ক নয়, সৎ ও দক্ষ আধিকারিক হিসাবে সুদীপ ঘোষাল তৃণমূলেরই অনেকেরই বিরাগ ভাজন। উদাহরন হিসাবে গ্রামবাসীরা বলেন, কয়েকদিন আগেই কলোড়া গ্রামের বাসিন্দারা একজনকে চুরির চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ওই যুবক এক তৃনমূল নেতার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাকে ছাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করে কিন্তু ওসির জন্য সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয়ত আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, করোনা না হওয়া স্বত্ত্বেও দু’জায়গায় দুটি মড়া পোড়াতে বাধা দিয়েছিল স্থানীয় পঞ্চায়েত ও তৃণমূলের স্থানীয় কিছু মানুষ। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ওদের লক্ষ্য ছিল কিছু আদায় করা। এছাড়াও নানা কারণে সুদীপ ঘোষালকে সরাতে চাইছে তৃনমূল যা বিধায়কের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে।গ্রামবাসীদের দাবি বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার জন্য ওসিকে ব্যবহার করা যাচ্ছেনা তাই বিধায়কের এত রাগ। মানুষের দাবি ওসি সুদীপ ঘোষালের আমলে চুরি ছিনতাই কমেছে। রাজনগর পূর্ব ব্যবসায়ী সমিতিও দাবি করেছে সুদীপ ঘোষালকে বহাল রাখা হোক।

তৃনমূল কংগ্রেস অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন একটা সামান্য বিষয় যা মিটে গিয়েছে তাকে ফের সামনে আনার চেষ্টা করে লোক খেপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।এর পেছনে বিরোধীদের চক্রান্ত কাজ করছে। গ্রামবাসীরা অবশ্য বলছেন, শুধু বিরোধীরা নয়, এই পোষ্টার লাগানোর সমর্থনে বহু তৃনমূল সমর্থকও রয়েছেন বিশেষ করে যারা বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীতে অবস্থান করেন।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join