TRENDS

রাজ্যে করোনা সংক্রমন সহ মৃত্যু ৫৭ জনের, কেবলই করোনা জনিত মৃত্যু ১৮ জনের জানাল রাজ্য

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গে এখনও অবধি এমন ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের শরীরে  করোনা জীবানু ছিল অর্থাৎ তাঁরা কোভিড পজিটিভ ছিলেন কিন্তু শুধুই করোনা জনিত কারনে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশ্ন হল তাহলে বাকিদের মৃত্যু কী কারনে ? উত্তর তাঁদের আরও অন্য রোগ ছিল এবং তাঁদের মৃত্যুর প্রধান কারন সেই সমস্ত রোগ যাকে অডিট কমিটি বলছেন, কোমর্বিডিটি। রাজ্য সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে, শুধুই করোনা জনিত ১৮ জন ছাড়া বাদ বাকি ৩৯ জনের শরীরে ঘটনাচক্রে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিললেও তাঁদের মৃত্যু হয়েছে ‘কোমর্বিডিটি’র কারণেই। শুক্রবার এমনটাই জানালেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।
শুক্রবার বিকেলে  নবান্নে  সাংবাদিকদের মুখ্যসচিব জানান, ‘‘৩ এপ্রিল রাজ্য সরকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি অডিট কমিটি গঠন করে। ওই অডিট কমিটি কেন্দ্রের নির্দেশেই গঠন করা হয়েছে।’’ তাঁর মতে , ‘‘কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য ছিল, করোনার কারণে কত জন মারা গিয়েছেন এবং করোনা-পজিটিভ হয়েও অন্য কোনও কারণে মারা গিয়েছেন কত জন— তা নির্ণয়ের জন্য।’’ এর পরেই মুখ্যসচিব বলেন, ‘‘সরকার নিযুক্ত ওই কমিটি এখনও পর্যন্ত ৫৭টি মৃত্যুর ঘটনা অডিট করেছে। তার মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনার কারণেই। বাকি ৩৯ জনের ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ ‘কোমর্বিডিটি’। তবে, ঘটনাচক্রে তাঁদের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।’’ কোন কোন ক্ষেত্রকে ‘কোমর্বিডিটি’ ধরা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও এ দিন অডিট কমিটির রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃত করেছেন মুখ্যসচিব। যেখানে তাঁদের কিডনি, হার্ট, মাল্টি অর্গান ফেইলিওর ইত্যাদি কারন গুলি উল্লেখ হয়েছে।

এক্সপার্ট কমিটি জানিয়েছে, করোনা থাকলেও মৃত্যুর মূখ্য গুলি হল কিডনির অসুখ, মাল্টিঅর্গান ফেলিওর, লিউকোমিয়া, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদি। এই সবটাই এবং মোট ৫৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা কমিটিতে পাঠানোর বিষয়টি আজ, শুক্রবার প্রথম সামনে এল। অনেকেরই মত, কেন্দ্রীয় টিমের উপর্যুপরি চোখা প্রশ্ন ও চিঠির ধাক্কাতেই রাজ্য তা সামনে এনেছে।
বৃহস্পতিবার সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী , গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪৩টি কোভিড টেস্ট হয়েছে এবং সব মিলিয়ে ৮ হাজার ৯৩৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮৫ জন। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া কেউ পাননি। এখনও পর্যন্ত রোগমুক্ত হয়েছেন ১০৩ জন। এ দিন মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, নতুন করে আক্রান্ত ৫১ জনের মধ্যে অর্ধেকের সামান্য বেশি কলকাতা থেকে। ১৮ শতাংশ হাওড়া থেকে, যা বৃহস্পতিবারের থেকে বেশি। ১৩ শতাংশ উত্তর ২৪ পরগনা থেকে। অর্থাৎ ৮২ শতাংশ আক্রান্তই কলকাতা-হাওড়া-উত্তর ২৪ পরগনার।

এদিকে মূখ্য সচিবের ১৮ আর ৩৯ য়ের তত্ত্বকে কটাক্ষ করে বিজেপি আইটি সেলের সর্বভারতীয় প্রধান অমিত মালবীয় টুইট করে লিখেছেন, ‘‘ডেথ অডিট কমিটি নিয়ে বাংলার মুখ্যসচিবকে আইএমসিটি প্রধান চিঠি পাঠিয়েছেন। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই, মুখ্যসচিব চাপের মুখে স্বীকার করেছেন, রাজ্যে করোনা-মৃত্যুর মোট সংখ্যা ৫৭, আজকের মেডিক্যাল বুলেটিনে লেখা ১৮ নয়। ৩৯ জনের মৃত্যুর কারণ অন্য। পর্দা উঠছে।’’
মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা অবশ্য বলেন, “না, তা নয়। কেন্দ্রীয় টিমের কলকাতায় আসার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। এক্সপার্ট কমিটির কাছে আমরা একটা কমপাইলড রিপোর্ট অনেক দিন ধরেই চাইছিলাম, আজ ঘটনাচক্রে সেই রিপোর্ট এসেছে আমার হাতে।”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join