TRENDS

মহারাষ্ট্রে ফের ঝাঁপালো করোনা! সিল করা হল সহস্রাধিক বিল্ডিং, জারি করা হল কঠিন প্রোটকল

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: মহারাষ্ট্রের চিন্তা বাড়িয়ে ফের ঝাঁপালো করোনা ভাইরাস। প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এর দরুন এক হাজারেরও বেশি বিল্ডিং সিল করে দেওয়া হয়েছে মুম্বাইয়ে। বৃহত্তর মুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (বিএমসি) এর বরাদ দিয়ে, সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর খবরে বলা হয়েছে, কোভিড -১৯ এর ২,৭৪৯ টি মামলার অভিযোগ পাওয়ার পরে ১,৩০৫ টি বিল্ডিং সিল করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির দিকে নজর রেখে বিএমসি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই নির্দেশিকা অনুসারে, যেসব বিল্ডিংয়ে পাঁচ জনের বেশি করোনা রোগী পাওয়া যাবে, সেটি সিল করে দেওয়া হবে। পৌর কাউন্সিল শহর জুড়ে মার্শাল সংখ্যাও দ্বিগুণ করে দিয়েছে, যাতে কেউ নতুন কোভিড প্রোটোকলের বিরুদ্ধে কথা বললে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। মাস্ক ছাড়া যেসকল মানুষ যাতায়াত করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও শহরতলির ট্রেনগুলিতে প্রায় ৩০০ মার্শাল মোতায়েন করা হবে। নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীদের পূর্বের ন্যায় স্টাম্প দেওয়া হবে। কোভিড সংক্রমণ ক্ষেত্রে যে ওয়ার্ডগুলি স্পাইক হিসাবে রিপোর্ট করছে তাদের পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়িয়ে দেবে প্রশাসন। এছাড়াও নির্দেশিকায় সাফ উল্লেখ রয়েছে, ব্রাজিল থেকে মুম্বইয়ে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হবে।

অপরদিকে কর্ণাটক সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে যে, মহারাষ্ট্র থেকে রাজ্যে আগত যাত্রীদের কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ এবং আরটি-পিসিআর শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। ট্রেন, বাস, প্লেন বা যে কোনও প্রাইভেট পরিবহণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং শংসাপত্রটি যাতে ৭২ ঘন্টার পুরোনো না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যা অবধি মুম্বাইতে ৩,১৭,৩১০ টি করোনার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১১,৪৩৭ জন। মহারাষ্ট্রে করোনার মোট পজিটিভ কেস রয়েছে ২০,৮৭,৬৩২টি। শুক্রবার তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেস মহারাষ্ট্রে পাওয়া গিয়েছে, যার সংখ্যা হল ৬,১১২। সেখানে শনিবার রাজ্যে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে ৬,২৮১, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি। এতে করে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২০,৯৩,৯১৩।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নির্দেশাবলী শিথিল করাতেই করোনা এইভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। বি জে মেডিকেল কলেজের ডিন ডঃ মুরলিধর তাম্বি এবং সাসসুন জেনারেল হাসপাতালের সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, ছোট ছোট বিষয়গুলি নিয়ে অবহেলা, সমাবেশ, বিবাহ অনুষ্ঠান, এবং শারীরিক দূরত্ব বিধি অনুসরন না করাই করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম মূল কারণ। এছাড়াও মহারাষ্ট্রে এইভাবে হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য মূলত দুটি কারণকে দায়ী করা হচ্ছে; মুম্বাই লোকাল ট্রেনগুলি পুনরায় চালু করা এবং আকোলা, সাতারা, অমরাবতী প্রভৃতি জেলাগুলিতে পাওয়া মিউট্যান্ট স্ট্রেইন। যেখানে অমরাবতী এবং অ্যাকোলা, যোভাতলে উইকেন্ড লকডাউন জারি করা হয়েছে ১০ দিনের জন্য গত বৃহস্পতিবার থেকে, সেখানে বৃহত্তর মুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করে। যদিও প্রয়োজন ছিল কঠোর ভাবে নিয়ম অবলম্বন করা, যাতে করোনার সাথে মোকাবিলা করা যায় দৃঢ় ভাবে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join