TRENDS

স্ত্রী পুত্রের সাথে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মৃত্যু করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের, আ্যম্বুলেন্সে বসেই মৃত্যু দেখল পরিবার

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: নিজেরাই করোনা আক্রান্ত, আতঙ্কিত। চারজনের পরিবার চলেছেন করোনা হাসপাতালে ভর্তি হতে। তারই মধ্যে সবার চোখের সামনেই আ্যম্বুলেন্সের মধ্যেই মৃত্যু হল পরিবারের প্রধান কর্তার। নিরুপায়, অসহায় সেই মৃত্যু, পাশে করোনায় আক্রান্ত স্ত্রী, দুই পুত্র। আতঙ্কে থর থর কাঁপছেন। মৃত্যু এত কাছে তাও আবার করোনায় মৃত্যু, যে করোনায় আক্রান্ত নিজেরাই।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানা এলাকার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকায়। উদ্বেগের কারন আরও এই যে ওই পরিবারের যে বৃদ্ধ মারা গেছেন তাঁর বয়স ৯২ আর যারা করোনা আক্রান্ত সেই স্ত্রীর বয়স ৮৬, দুই পুত্র ৬২ এবং ৬০ বছর বয়স। সবাই বৃদ্ধ।

জানা গেছে গত ৮ দিনের কাছাকাছি পরিবারের বেশ কয়েকজন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্থানীয় ভাবে চিকিৎসকও দেখিয়েছিলেন তাঁরা কিন্তু কোনও ভাবেই জ্বর ভাল না হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন তাঁরা। বুধবার পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরই পরিবারের চারজনকে কোভিড হাসপাতালে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, আ্যম্বুলেন্সে কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পরই মৃত্যু হয় বৃদ্ধের।

ঘটনাটি ঘটেছে দাঁতন থানা এলাকার পানিথুপিয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গত ৮/৯দিন ধরেই জ্বর এবং অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে ভুগছিলেন পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। এরমধ্যে আক্রান্ত হন ৯২ বছরের ওই বৃদ্ধও। প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসককে দেখান তাঁরা কিন্তু তারপরও জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ সেরে উঠেছিল না। এরপর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক চিকিৎসককে দেখানো হয়। সেখানেও উপশমের কোনো লক্ষন না দেখা যাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্থানীয় খন্ডরুই গ্রামীন হাসপাতালে পরিবারের ৮ সদস্যই নিজেদের লালরস প্রদান করেন। বুধবার ওই ৮ জনের মধ্যে বৃদ্ধ সহ চারজনেরই পজিটিভ আসে।

ইতিমধ্যে বৃদ্ধের অবস্থাও খারাপ হচ্ছিল। বয়স জনিত কারণে হৃৎপিন্ড ও ফুসফুসের অবস্থা খুবই দুর্বল ছিল তার সাথে কয়েকদিনের টানা জ্বরে কাহিল হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধ। পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরই তড়িঘড়ি পুলিশের উদ্যোগে আ্যম্বুলেন্স পাঠিয়ে চারজনকেই কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরেই তুরকা এলাকায় মৃত্যু হয় বৃদ্ধের।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, পরিবারের বাকি চার সদস্যের নেগেটিভ এসেছে। আপাতত আক্রান্তরা হাসপাতালেই থাকবেন। মৃতদেহ নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসন সৎকার করবে। স্ত্রী পুত্র করোনা হাসপাতালে ভর্তি। মৃতের আচারাদি কি ভাবে করা হবে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা পরিবারের। আক্রান্তদের মধ্যে একজন  স্থানীয় একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তা বলে জানা গেছে ।   প্রতীকী চিত্র

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join