TRENDS

বে-আদপ সেই খড়গপুরের বি.এন.আর গ্রাউন্ডই, ইন্দা, খরিদা, প্রেমবাজার, তালবাগিচা করোনা শৃংখলেই

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: সমগ্র খড়গপুরের মধ্যে বে-আদপের চূড়ান্ত জায়গা খড়গপুরের বি.এন.আর গ্রাউন্ড, যেখানে প্রশাসনের তরফে সরিয়ে আনা হয়েছে গোলবাজারের খুচরো ও পাইকারি সবজি বাজারটি। মাঠ পড়ে রয়েছে অন্ততঃ ৪ হাজার বর্গ মিটারের কিন্তু ক্রেতা আর বিক্রেতা ২৫০বর্গ মিটারেই সীমাবদ্ধ। ছোট বড় মিলিয়ে অন্ততঃ ৩০০ সবজি বিক্রেতা এ ওর পিঠ চুলকে দেওয়ার দুরত্বে। আর তারই মধ্যে ঢুকে পড়ছেন হাজার হাজার ক্রেতা। একে অপরের গা ঘেঁষেই দরদাম করছেন, বাজার করছেন।

কারও মুখে মাস্ক নেই, কারও মুখে নাম কে ওয়াস্তে, গলার কাছে নামানো। পান গুটকা খাচ্ছে, থুতু ফেলছে, কাপড়ে মুখ মুছছে, আবার সেই হাতেই পাল্লা ধরছে, খদ্দেরের থলেতে সবজি ভরে দিচ্ছে। সেই হাতেই টাকা নিচ্ছে, খদ্দেরের হাতে খুচরো পয়সা ফিরিয়ে দিচ্ছে। না আছে স্যানিটাইজার, না সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই। পুলিশ দেখলেই কেউ মুখে কাপড় চাপা দেয়, পুলিশ চলে গেলে যেই কি সেই ।     এঁদের মধ্যেই কোনও একজন ক্রেতা বা বিক্রেতা কোনও ভাবে যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে কী হবে অনুমান করা দুষ্কর তবে খড়গপুর শহরের কোনও এলাকাই এই সংক্রমণ থেকে রেহাই পাবেনা কারন প্রচুর মানুষ যেমন এখানে সরাসরি বাজার করেন ঘরের জন্য, তেমনই গোটা শহরের ছোট ছোট সবজি বাজার, এমন কি যে সব মুদি দোকানে আলু পেঁয়াজ রসুন আদা ও সবজি রাখা হয় তারাও বাজার করে এখান থেকেই।

যদি শহরতলির কথা ধরা হয় তবে গোপালী, সাদাতপুর, রূপনারায়নপুর, বলরামপুর, বেনাপুর অবধি পাইকারী সবজি যায় এখান থেকেই। পাঠক ভেবে নিন শুধু একটা বি.এন.আর গ্রাউন্ড কী করতে পারে!
বাজারে দৃষ্টান্ত ইন্দা কৃষ্ণলাল শিক্ষা নিকেতন বা বয়েজ স্কুলের মাঠ। ইন্দা মূল বাজার সরে এসেছে এখানে। নামে ৬৬জন বিক্রেতা হলেও বসছেন ৭০ থেকে ৭৩জন বিক্রেতা। গোটা মাঠের চার পাশে এবং মাঝের পাঁচ সারিতে প্লট ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। নিরন্তর বাজারের ওপর নজর রাখছেন মোহন  রায় , লক্ষী অধিকারী, বিশ্বজিৎ নাথরা। বিক্রেতারা তো মাস্ক পরছেনই, ক্রেতাদেরও মাস্ক পরতে বাধ্য করা হয়েছে। কেউ ভুলে গেলে রুমাল বাঁধতে হচ্ছে। না হলে সবজি পাবেননা। প্রতি ২দিন অন্তর বাজার মনিটর করছে পুলিশ, প্রশাসন।

খরিদার মুল সবজি বাজার বসেছে খরিদা রোড ও গিরি ময়দানের রাস্তায়। করোনা শৃংখলা এখানেও। শহরের দক্ষিনে তালবাগিচা ও প্রেমবাজারও নিয়ম মেনেই চলেছে বাজার করা। তালবাগিচায় রীতিমত দড়ি দিয়ে ঘিরে দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে ক্রেতা দের যাতায়ত। সবই ঠিকঠাক থাকলেও এই সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে শুধু বি.এন.আর.গ্রাউণ্ডের ব্যর্থতায়। এ যেন এক বালতি দুধে এক ফোঁটা, মাত্র এক ফোঁটা গো মূত্র!

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join