TRENDS

ফের পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনায় মৃত্যু, এবারও মৃত্যু হল স্বর্নশিল্পীর, রাজ্যে আক্রান্তে রেকর্ড পতন

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ফের করোনা আক্রান্ত হয়ে এক স্বর্নশিল্পীর মৃত্যু হল। রবিবার ঘাটাল পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের সিংহপুর গ্রামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে মেদিনীপুর করোনা হাসপাতালে। জানা গেছে মাত্র ৩৯ বছর বয়সী কল্যান বেরা নামক ওই যুবক মুম্বাইয়ে স্বর্নশিল্পীর কাজ করতেন। দিন ১৫আগে বাড়ি ফেরেন তিনি। পরিবার জানিয়েছে, কল্যানের হার্টের সমস্যা ছিল মুম্বাইতে তার চিকিৎসাও হয়েছিল। বাড়ি ফেরার পর কয়েকদিন ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হার্টের উপসর্গের সাথে শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুরু হয়।

বাড়াবাড়ি হওয়াতে রবিবারই সরাসরি মেদিনীপুর কোভিড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরুর কয়েকঘন্টা পরেই মারা যান তিনি। পরে সোয়াব পরীক্ষার পর জানা যায় তিনিকোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন। ।উল্লেখ্য কল্যানের মৃত্যুকে ধরলে করোনা উপসর্গ সমেত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এ অবধি চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন খড়গপুর শহর এলাকার দেবলপুরের বাসিন্দা। পরের ২টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে দাসপুর ১ ও ২ ব্লকে। কল্যানের মতই আগের ২জন ভিনরাজ্যে কর্মরত স্বর্নশিল্পী ছিলেন।                                                   অন্যদিকে সোমবার রাতের রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট ৫জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে এঁদের মধ্যে দাসপুরের ৩ জন ও কেশপুরের ২জন পজেটিভ বলেই জানা গেছে। এই নিয়ে পর পর ২দিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সংক্রমনের চিত্র আশ্চর্য রকম কম। অথচ শনিবারই রাজ্যের সমস্ত জেলাকে পেছনে ফেলে এক লাফে ৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন যা রাজ্যে রেকর্ড। সেই পশ্চিম মেদিনীপুরের হঠাৎ করোনা গ্রাফ নিচে নেমে গেল কেন? অবশ্য শুধুই পশ্চিম মেদিনীপুর নয় গোটা রাজ্যেই এদিন একই চিত্র। জানা গেছে টেস্ট কম হতেই আক্রান্তের পরিমান কমেছে। আর বিপুলসংখ্যক নমুনা এখনও জমা রয়ে গেছে আইসিএমআর নেতৃত্বাধীন ল্যাবগুলিতে। গত তিনদিন আগে সেই সংখ্যাটা ছিল প্রায় ১৬হাজারের মত।

মঙ্গলবার সন্ধের বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন পজিটিভ রোগী ধরা পড়েছেন ৩৭২ জন। পরপর চার দিন এই সংখ্যা ছিল চারশোর বেশি। আজ তা কমে৩৭২। সব মিলিয়ে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৯৮৫। বুলেটিন বলছে, এদিন টেস্ট হয়েছে ৭৮০২টি। যা গত বেশ কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই কম। একটানা ৯ হাজার জনের বেশি টেস্ট হয়েছে প্রায় সপ্তাহ খানেক সময় ধরে। ফলে রোজই লাফিয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। আজ টেস্টের সংখ্যা কম হতেই আক্রান্তও কম ধরা পড়ল ২৪ ঘণ্টায়।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join