অশ্লেষা চৌধুরী: কালী পুজোর বিসর্জন কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো কোচবিহারে। ঘটনায় এক বিজেপি বুথ সম্পাদকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর অশান্তি বহাল রইল। বিজেপির এক বুথ সম্পাদককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের তুফানগঞ্জ বলরাম পুর চৌপথী এলাকায় অবরোধ করলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এই অবরোধে সামিল হন বিজেপির জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা রায় ও সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। এমনকি এই ঘটার প্রতিবাদে তুফানগঞ্জ মহাকুমা ১২ ঘন্টা বন্ধের ডাক দিল জেলা বিজেপি।
প্রসঙ্গত, কালী পুজোর বিসর্জন ঘিরে দুই ক্লাবের সংঘর্ষ বাঁধে। ঝামেলা মেটাতে গিয়ে মৃত্যু বিজেপির বুথ সম্পাদকের। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার নাককাটিগাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের উওর শিকারপুর এলাকায়। ঘটনায় আহত হন আরও ২ জন। মৃত ব্যক্তির নাম কালাচাঁদ কর্মকার, বয়স ৫০-এর কাছাকাছি। তিনি বিজেপির ৯/১৯৮ বুথ সম্পাদক।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে তুফানগঞ্জ মহকুমার নাককাটিগাছ গ্রাম পাঞ্চায়েতের উওর শিকারপুর এলাকায় স্থানীয় দুই ক্লাবের মধ্যে কালিপুজার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাঁধে। সেই সংঘর্ষ থামাতে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে পরে যায় কালাচাঁদ কর্মকার। স্থানীয় সূত্রে খবর, আঘাত লেগে সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে যায় তাঁর । তারপর তাকে তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা কালাচাঁদ কর্মকারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কোচবিহার পুলিশ সুপার কে.কানান জানান, “গতকাল রাতে শিকারপুর এলাকায় দুটি ক্লাবের কালী পুজোর বিসর্জন ঘিরে কথা কাটাকাটি হয়। তখনকার মতো তা থেমে গেলেও আজ সকালে ফের ওই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। যেহেতু কালাচাঁদ বাবুর বাড়ির সামনে সেই ঘটনা ঘটে, তাই তিনি দুপক্ষের মধ্যে মিটমাট করাতে ছুটে যান। সেই সময় তাঁর ঘাড়ে ঘুসি লাগায় ঘটনাস্থলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তুফানগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।“ এই ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কোনও যোগসাজেশ নেই বলেই দাবী করেন পুলিশ সুপার।
তবে বিজেপির অভিযোগ, চক্রান্ত করেই কালাচাঁদ বাবুকে খুন করা হয়েছে, যাতে শাসক দলের মদত রয়েছে। তবে এই ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় তৃণমুল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই, ওই বুথ সম্পাদকের পরিবারের লোকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তে নেমে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কমল বর্মন নামে একজনকে আটকও করা হয়েছে।






