TRENDS

বুথের মধ্যে থাকবেনা ‘দিদির’ পুলিশ! ১০০মিটার এলাকার দখল নেবে ‘দাদার পুলিশ’ই! মিলে গেল দিলীপ ঘোষের কথাই

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: বেশ কয়েকমাস ধরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুর সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলে আসছিলেন যে, ‘এবার নির্বাচনে বুথে বুথে দিদির পুলিশ (রাজ্য পুলিশ) থাকবেনা, থাকবে দাদার পুলিশ (কেন্দ্রীয় বাহিনী।) দিদির পুলিশ ১০০মিটারের বাইরে বসে বসে ভোট দেখবে।’ ঠিক তেমনটাই হচ্ছে বলে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। অন্তত প্রথম দফার নির্বাচনে বুথের ১০০মিটার চৌহদ্দির মধ্যে থাকবেনা রাজ্য পুলিশ। একটি বুথের ১০০মিটার ব্যাসের মধ্যে শুধুই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা থাকবেন। কোনও রাজ্য পুলিশ থাকতে পারবেননা। রাজ্য পুলিশ থাকবে ভোট কেন্দ্রের ১০০মিটারের বাইরে।

কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথমদফার ভোটকে প্রথমেই মডেল হিসেবে দেখছে কমিশন। এই পর্বে প্রতিটি বুথই স্পর্শকাতর বা ১০০ভাগই সংবেদনশীল। তাই বুথকেন্দ্রের মধ্যে কোনও অবাঞ্চিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে কমিশন গোড়া থেকেই সতর্ক।করোনা পর্যায়ের প্রথম ভোট হচ্ছে বাংলায়। তাই নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনেই ভোটারদের দাঁড়াতে হবে। ফলে লাইন দীর্ঘ হতে পারে। ভোট কেন্দ্রের মুখ থেকে শুরু করে এই লাইনের প্রথম ১০০মিটারের দায়িত্ব থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর। পরের অংশ সামাল দেবে রাজ্য পুলিশই। আর রাজনৈতিক দলগুলি তাঁদের ক্যাম্প করতে পারেন ২০০মিটারের বাইরে।

তবে মনে রাখতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের এই অবস্থান নির্ধারিত হচ্ছে কেবলমাত্র সংবেদনশীল কেন্দ্রের বেলাতেই। যদি কোনও ভোট কেন্দ্র কমিশনের বিচারে সংবদেনশীল না হয় তবে সেক্ষেত্রে বুথের ১০০মিটারের মধ্যে রাজ্য পুলিশ থাকতে পারবে। উল্লেখ্য প্রথম দফায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং দুই মেদিনীপুরের ৩০টি বিধানসভা আসনের ১০ হাজার ২৮৮টি বুথে ভোট হবে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেই দফার ভোটে কমবেশি ৬৫৭ কোম্পানি বাহিনী ব্যবহার করা হতে পারে।

জানা গেছে একেকটি কোম্পানিতে ৮ সেকশন বা ৬৪ জন করে জওয়ান থাকবেন। সেই হিসেবে প্রায় ৪২ হাজার জওয়ানকে ভোট-নিরাপত্তার কাজে পাবে কমিশন। ওই দফায় ৬৫৭টি কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি থাকবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ন্যূনতম চারটি করে কিউআরটি থাকবে। মহকুমা এবং জেলাস্তরের স্ট্রাইকিং-বাহিনীতে ২৪ জন করে জওয়ানকে রাখা হবে। এ ছাড়া স্ট্রং-রুমের নিরাপত্তায় থাকবে ৭ কোম্পানি বাহিনী। সব মিলিয়ে ৬৮৬ কোম্পানি বাহিনী কমিশনের দরকার হবে। সব মিলিয়ে এবার যে ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেটা বলাবাহুল্য।

 

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join