TRENDS

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুললেন বোলপুরের ‘১ টাকার ডাক্তার’

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : এক-দু’বছর নয় দীর্ঘ ৫৭ বছর রোগী দেখছেন। তাও আবার মাত্র ১ টাকায়। আর তাতেই ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে’ নাম তুললেন বোলপুরের ‘এক টাকার ডাক্তার’ সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকমাস আগেই তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার তাঁকে ‘লংগেষ্ট অ্যাওয়ারনেস রিবন’ পুরস্কার দেওয়া হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার বোলপুরের বাড়িতে এসে সুশোভনবাবুর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

প্রতিদিন সকাল হয়েই বাড়ির সামনে লম্বা লাইন। শুধু বীরভূম নয় আশেপাশের জেলা থেকেও ভিড় জমান রোগীরা। কেউ পেটের রোগে ভুগছেন। তো কেউ আবার হৃদযন্ত্রের সমস্যায়। ভিড় করে থাকা অধিকাংশ মানুষই দুস্থ পরিবারের। অনেকেরই সামর্থ নেই বেশী টাকার ডাক্তার দেখানোর। তাই তাদের একমাত্র ভরসা ‘ এক টাকার ডাক্তার’। কারো কাছে আবার তিনি গরীবের ডাক্তার নামে পরিচিত। আর এই সমস্ত রোগীদের চিকিৎসা করে হাসিমুখে বাড়ি ফেরানোর দায়িত্ব নিয়েছেন চিকিৎসক সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম জীবনে বিশ্বভারতীর পাঠভবনের ছাত্র ছিলেন। পরে তিনি ১৯৬২ সালে কলকাতার আরজি কর হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পড়েন। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তিনি লন্ডনেও যান। এরপর দেশে ফিরে তিনি প্রথম বিশ্বভারতীর পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন সেখানে থেকেই ডাক্তারি করেছেন তিনি। তবে বরাবরই গরীবদের জন্য প্রাণ কাঁদতো তাঁর। তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বরাবর। এরপর একসময় হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি নিজের বাড়িতে এক টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন।

১৯৬৩ সাল থেকে আজও অবধি দীর্ঘ ৫৭ বছর এভাবেই রোগী দেখে চলেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ কিন্তু তবুও রোগীদের কাছ থেকে তাকে কেউ সরাতে পারেনি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫০ জন করে রোগী দেখেন তিনি। ‘গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’-এ নাম ওঠায় অত্যন্ত খুশি সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পক্ষ থেকে ৫৭ বছর ধরে প্রতিদিন ১৫০ করে রোগী দেখার জন্য আমাকে সম্মান জানানো হয়েছে। এই সম্মানে আমি অভিভূত।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join