TRENDS

ফেসবুকে কুৎসিত মন্তব্য করার অভিযোগে পিংলায় গ্রেপ্তার বিজেপি আইটি সেলের কর্মী

Chandramani Saha

শশাঙ্ক প্রধান: উত্তেজনা ছড়ানোর পক্ষে পর্যাপ্ত এক কুৎসিত মন্তব্য করার অভিযোগে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানা এলাকার এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ধৃতের নাম পঞ্চানন জানা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (RSS) ঘনিষ্ঠ ২৮ বছরের পঞ্চাননের বাড়ি পিংলার করকাই গ্রাম পঞ্চায়েতের উজান গ্রামে।

বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যক্তি যে অভিযোগে বলা হয়, পঞ্চাননের ফেসবুকে করা মন্তব্যটি একটি সম্প্রদায়কে ঘৃণ্য করে দেখানো হয়েছে এবং সেই সম্প্রদায়কে কুৎসিত প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে যার ফলে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। এরপরই মধ্যরাতে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দায়ের করা মামলা অনুযায়ী ৬৭/৬৭এ ধারাটি ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT act) যেখানে বলা হয়েছে নগ্নতা, যৌনতা ইত্যাদি সমাজ মাধ্যমে ছড়ানো, প্রচার করলে তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। এই ধারায় দোষী সব্যস্ত হলে অনধিক ৫ এবং সর্বাধিক ৭বছরের জেল হতে পারে। জরিমানার পরিমান ১লক্ষ টাকা অবধি হতে পারে।

উল্লেখ্য গতকালই নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নাইসেডে (NICED)য়ে গিয়ে করোনা টিকা নিয়েছিলেন যা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেরকমই একটি খবর কেউ ফেসবুকে পোষ্ট করেছিলেন যার তলায় মন্তব্য করতে গিয়ে একটি সম্প্রদায়কে উল্লেখ করে ওই মন্তব্য করেন জানা।
পুলিশ জানিয়েছে তথ্য প্রযুক্তি ধারা ছাড়াও ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩-এ, ২৯৫-এ এবং ৫০৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে জানার বিরুদ্ধে।

দ্য খড়গপুর পোষ্ট কে এই ধারা গুলি সম্পর্কে জানতে গিয়ে এক আইনজীবী বলেছেন, ১৫৩এ ধারা হল বিভিন্ন সম্প্রদায়কে তাঁদের স্থান, জন্ম, ধর্ম, বর্ন ইত্যাদি উল্লেখ করে সমাজে বৈরিতা ছড়ানোর চেষ্টা করার অপরাধে এই ধারা প্রয়োগ করা হয়। ২৯৫-এ ধারাটি হল ধর্মীয় কারন দেখিয়ে গুজব ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করা এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যাতে মানুষ অপরাধ করতে প্ররোচিত হয়। অন্যদিকে ভারতীয় দন্ডবিধির (IPC) ৫০৫ নম্বর ধারায় জাতপাত, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং ঘৃনা ও বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য, লেখা, ছবি ইত্যাদিকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রতিটি ধারায় অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগ উঠলে তা অজামিন যোগ্য অপরাধ বলেই বিবেচিত হয় এবং দোষি প্রমাণিত হলে দন্ড হয় সশ্রম।

বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অন্তরা ভট্টাচার্য বলেছেন, “কী হয়েছে আমি ঠিক জানিনা তবে আমাদের দল কোনও অন্যায়, প্ররোচনা সমর্থন করেনা। আইন দেখবে বিষয়টি। যেহেতু অভিযুক্তরও আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার আছে তাই আমরা আইনজীবীর পরামর্শ নেব।”

অন্যদিকে বিজেপি কর্মীদের একাংশ এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নিজেদের পেজে দাবি করেছেন, মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পঞ্চাননকে। তাঁদের বক্তব্য, “রাত ১টার সময় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে পঞ্চানন জানা কে উজানে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে পিংলা থানার পুলিশ। তার অপরাধ সে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সক্রিয় এবং তিনি তৃণমূলের প্রত্যেকটা অন্যায় এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিল।এটাই কি পিংলার গণতন্ত্র? পিংলার পুলিশ কে বলি এইভাবে গ্রেফতার করে কি পিংলার বিজেপি কে রুখতে পারবেন?” এরপরই তারা বলছেন,”লোহাকে যত পেটাবে,লোহা তত বেশী শক্তিশালী হবে।”       যদিও পুলিশ বলেছে শুধুই অভিযোগ নয়, নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ সহই গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানাকে। পোষ্টের স্ক্রিনশট, ইউআরএল নম্বর সহ যাবতীয় তথ্য সংরক্ষন করেছে পুলিশ

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join