TRENDS

হৃদয়ে গোর্খাল্যান্ড নিয়েই মমতাকে ফের মূখ্যমন্ত্রী দেখতে চান বিমল গুরুং

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: মমতা ব্যানার্জী বাংলাকে বিভাজিত হতে দিতে চাননা, চাননা পৃথক গোর্খাল্যান্ড। কিন্তু বিমল গুরুংরা গোর্খাল্যান্ড দাবি থেকে সরবেননা। মমতা ব্যানার্জী গোর্খাল্যান্ড মানেননি তাই বিরোধ শুরু এবং অবশেষে প্রচুর সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে পলাতক হয়ে ছিলেন বিমল গুরুং। ঢুকে গিয়েছিলেন শেয়ালের গর্তে। কিন্তু নির্বাচনের সামনে ফের তাঁকে আনা হল প্রকাশ্যে। অবশ্যই সরকারি মদতে। আর এবার জানালেন তৃনমূলকে নয়, বিজেপিকে শিক্ষা দেবেন তিনি। শিলিগুড়িতে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর সভায় এসে এভাবেই বিজেপিকে আক্রমন করলেন পাহাড়ের অবিসংবাদী নেতা বিমল গুরুং। পাশাপাশি পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সভা করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শিলিগুড়িতে পা পড়ল বিমল গুড়ুংয়ের। প্রিয় নেতাকে দেখতে উপচে পড়ল অনুগামীদের ভিড়। দীর্ঘ দিন পরে দার্জিলিং জেলায় পা রাখবেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং। রবিবার কলকাতা থেকে ট্রেনে করে এনজেপি স্টেশনে এসে পৌছানোর কথা গুরুংয়ের। দলের শীর্ষ নেতাদের স্বাগত জানাতে স্টেশন চত্বরে প্রচুর পরিমাণ বিমল পন্থীরা উপস্থিত লক্ষ্য করা যায় সকাল থেকেই। স্টেশনে চত্বরে “জয় বিমল গুরুং, জয় গোর্খাল্যান্ডের” স্লোগানও দিতে থাকেন সমর্থকেরা। এরপর এদিন শিলিগুড়ির ইন্দিরা গান্ধী ময়দানে প্রিয় নেতাকে দেখে কার্যত উচ্ছ্বাসে ভেসে যান তার অনুগামীরা। আর এই জনসভাতেই বিজেপিকে আক্রমণ করে হুঙ্কার দেন বিমল।

এদিন স্থানীয় সাংসদ তথা বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্রকে ইস্তফা দেওয়ার দাবী জানান। তাকে আক্রমন করে তিনি বলেন, ক্ষমতা থাকলে আর একবার ভোটে জিতে দেখান রাজু বিস্তা। সেই সাথে নাম না করেই তার প্রতিপক্ষ অনীত থাপা, বিনয় তামাংদের বলেন, গোর্খা টেরিটোরিয়াল এডমিনিষ্ট্রেশনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সমস্ত কিছুর হিসেব নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, অক্টোবরে দীর্ঘ তিন বছর পর প্রকাশ্যে আসেন বিমল গুরুং। জানান শীঘ্রই পাহাড়ে ফিরবেন বলে ঘোষণা করেন এবং সেইসাথেই জানান, আসন্ন নির্বাচনে শাসক দলের পাশেই থাকবেন তিনি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পুনরায় বাংলার মসনদে দেখতে চান তিনি। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় পাহাড়ের রাজ্য রাজনীতি। বিমল গুরুং গো ব্যাক স্লোগানে গর্জে ওঠে পাহাড়। বিনয় তামাং- অনীত থাপার নেতৃত্ব শুরু হয় পাহাড়ের বিভিন্ন চত্বরে মিছিল।

এইসকল পরিস্থিতির মধ্যে ২৮ শে নভেম্বর হয় রোশনের ঘর ওয়াপসি। তাঁকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে উপচে পড়ে বিমল পন্থীদের ভিড়। বাগডোগরা বিমানবন্দরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই রোশন জানান, ডিসেম্বরের ৬ তারিখেই বিমল শিলিগুড়িতে ফিরছে এবং ঐদিনই শিলিগুড়িতে জনসভায় যোগ দেবেন বিমল। এই জনসভা প্রথমে শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্কে হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেই স্থান পরিবর্তন করে গান্ধী ময়দানে স্থির করা হয়।

তবে, বিমলের আসার খবর শুনে এবং আজ বিমলের জনসভার প্রতিবাদ জানিয়ে ভেনাস মোড়ে জয়বাংলা নামে একটি অরাজনৈতিক দলের সদস্যরা বিক্ষোভও দেখান। তবে তার তেমন কোনও প্রভাব দেখা যায়নি বিমলের জনসভায়। এদিনের জনসভায় বিমল পন্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতন। কিন্তু সভার অনেকেই একটা জিনিস বুঝতে পারেননি গোর্খাল্যান্ড দাবি বুকে নিয়ে মমতা ব্যানার্জীকে মূখ্যমন্ত্রী দেখবেন কী ভাবে গুরুং? মমতা কী তাঁর দাবি মেনে নিয়েছেন?

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join