TRENDS

করোনা আবহে চিকিৎসার গাফিলতি, প্রসূতি মৃত্যুতে রণক্ষেত্র বারাসত হাসপাতাল

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে একেই অন্যান্য চিকিৎসার পরিষেবা মিলছে না, তারওপর আবার চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতির মৃত্যু। ঘটনায় বুধবার রাত থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বারাসত হাসপাতাল। এদিন রাতে আচমকাই হাসপাতালের তরফে প্রসূতির পরিবারকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। মৃতা মহিলার নাম রত্না দাস। তিনি সোদপুরের ঘোলার কাজিপাড়ার বাসিন্দা৷ বুধবার রাতে মৃত্যুর খবর শোনা মাত্রই রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবার। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা হাসপাতাল চত্বর। হাসপাতাল চত্বরে ভাঙচুর শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে তাদের সঙ্গেও বচসা বাঁধে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের তরফে লাঠিচার্জ করা হয়।

জানা গিয়েছে, প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে বুধবার সকালেই বারাসত হাসপাতালে ভর্তি হন রত্না দাস নামে ওই প্রসূতি। দুপুরের দিকে যন্ত্রণা বাড়ায় উপায় না পেয়ে অন্য এক রোগীর ফোন থেকে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের করেন রত্না দেবী। খবর পাওয়া মাত্রই স্বামী বিশ্বজিৎ হাসপাতালে আসেন। অভিযোগ, সে সময় ভিতরে প্রবেশ করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে হাসপাতালের ভিতরে যেতে বাধা দেন। এরপর কোনোভাবে ভিতরে ঢুকে বিশ্বনাথবাবু জানতে পারেন সিজারের জন্য রত্নাদেবীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে একটি ইনজেকশনও দেওয়া হয়। এর মিনিট ২০ পরই হাসপাতালের তরফে স্বামীকে জানানো হয় তাঁর স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক, তাঁকে আইসিইউতে পাঠাতে হবে। তখন থেকেই পরিবারের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছিল। এরপর এদিন সন্ধেয় আচমকাই হাসপাতালের তরফে প্রসূতির মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হয়।

এদিকে রত্নাদেবীর মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারাসত থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদের সামনেই চলে বিক্ষোভ। হাসপাতালের সামনের চত্বরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বাধ্য হয়েই লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ঘটনায় রোগী পরিবারের তরফে অভিযোগ, করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাই করা হচ্ছে না। ব্যাথায় ছটফট করলেও রোগীকে দীর্ঘক্ষণ বেডেই ফেলে রাখা হয়। তাদের আরও অভিযোগ, অপারেশনের আগে প্রসূতিকে যে ইনজেকশনটি দেওয়া হয়েছিল তাঁর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে রত্নাদেবীর। ঘটনায় বারাসত হাসপাতালের চিকিৎসকদের গাফিলতিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন রোগী পরিবার।

এদিকে বুধবার রাতে এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালেই রোগীর পরিবারের তরফে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালের সুপার-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় আদতে কি ঘটেছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এখনও হাসপাতালের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। একই সাথে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মুখ খোলেননি বারাসত হাসপাতালের সুপার।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join