TRENDS

দাঁতনে শুভেন্দু বিরোধী সভায় বিধায়ক ঐক্য দেখালো তৃনমূল, ভিড় দেখালেন বিক্রম

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: সম্ভবনা আছে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে এখনও বেশ কয়েকজন নেতা ও বিধায়ক শুভেন্দুর সঙ্গে যাবেন। শুভেন্দু এবং বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী ধিরে ধিরে এরা আসবেন, আসবেন ধাপে ধাপে। কারা এঁরা সে রহস্য এখনো উম্মোচন হয়নি। বিধানসভায় মমতা ব্যানার্জী কাদের টিকিট দেন আর কারা বাদ পড়ে এসব অঙ্ক হিসেব নিকেশ বাকি। তৃনমূল নেতৃত্ব মুখে যাই বলুন ভেতরে ভেতরে শুভেন্দু ভীতি রয়েছে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম থেকে বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতে। এই মুহুর্তে তাই দলের ঐক্য বজায় রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ তৃনমূলের কাছে। সেই চ্যালেঞ্জ রাখার কাজই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল দাঁতনে শুভেন্দু বিরোধী সভায়।

বিজেপিতে যোগদানের পর রবিবার দাঁতনে এসে প্রথম জনসভা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী পশ্চিম মেদিনীপুরের দক্ষিণ অংশের প্রায় সমস্ত বিধানসভায় পিছিয়ে তৃনমূল। দাঁতন এবং সংলগ্ন নারায়নগড়ে বড়সড় সংগঠন গড়ে তুলেছে বিজেপি। শুভেন্দু আধিকারী বিজেপিতে আসার পর স্বাভাবিক ভাবেই উল্লসিত বিজেপি কর্মীরা তাই রবিবারের সভা ও পদযাত্রায় ভিড় করেছে দলে দলে। বলা যেতেই পারে এই সময়ের বিজেপি দাঁতনের বুকে তার সর্বোচ্চ ভিড় দেখিয়েছে রবিবার।

আগে ভাগেই দাঁতনে বিজেপির এই সভার পাল্টা সভার আয়োজন করেছিল তৃনমূল। ‘বিজেপির মিথ্যা প্রচার ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে’ জনসভা ও পদযাত্রার আয়োজনে এদিন নজরকাড়া ভিড় দেখিয়েছে তৃনমূলও। যদিও এই সভা যতটা না বিজেপি বিরোধী তার থেকে বেশি শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী ছিল। সভার প্রধান বক্তা দেবাংশু ভট্টাচার্য এদিন তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগই বরাদ্দ করেছেন শুভেন্দু বিরোধিতায়। দলের যে ব্যক্তিকে তাঁরা নেতার আসনে বসিয়েছিলেন বিজেপিতে যাওয়ার পর তাঁকেই কেমন পূর্বস্থলীর জনসভায় দিলীপ ঘোষের সিংহাসনের পাশে ৫০ টাকার চেয়ারে বসতে হচ্ছে তা বলে শুভেন্দুকে এদিন তীব্র কটাক্ষ করেন দেবাংশু।

দেবাংশু এদিন শুভেন্দুকে আক্রমন শানিয়েছেন শুভেন্দুর সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলিকে কোট করেই। শুভেন্দু যেমন বলেছিলেন, ২১বছর তৃনমূল করেছেন ভেবে এখন তাঁর লজ্জা লাগছে তারই পাল্টা দেবাংশু বলেছেন, ‘ তাহলে এখনও যখন আপনার বাবা, ভাইরা তৃনমূল দলটা করছে তখন তাঁদের সঙ্গে শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে থাকতে আপনার লজ্জা করছেনা?” শুভেন্দু গতকাল দাঁতন থেকে তোপ দেগেছিলেন যে সব মন্ত্রীত্ব শুধু কলকাতাই পেয়ে থাকে, জেলার বিধায়করা মন্ত্রীত্ব পাননা। যে কারনে তাঁর দাবি জেলা দিয়েই এবার কলকাতাকে ঘিরতে হবে। প্রত্ত্যুতরে দেবাংশু বলেছেন, আপনি তো নন্দীগ্রামের বিধায়ক ছিলেন। আপনাকে তিনটে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়েছিল। এতই যদি আপনার জেলা প্রেম তাহলে একটা মন্ত্রীত্ব রেখে বাকি দুটো ফিরিয়ে দিলেননা কেন জেলার বিধায়কদের!নাকি তখন জেলার কথা মনে ছিলনা?”

এদিন দেবাংশুর ভাষণে উদ্দীপ্ত তৃনমূল কর্মীরা করতালিতে সভা ভরিয়ে দিয়েছেন। এদিনের সভায় দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান যেমন ব্যাপক জমায়েত করে দলের মান রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন তেমনই জেলা সভাপতি অজিত মাইতি সক্ষম হয়েছেন শুভেন্দু ধ্বসের মুখে মঞ্চে জেলার অধিকাংশ বিধায়ককে উপস্থিত করতে। দাঁতন সংলগ্ন নারায়ণগড়, কেশিয়াড়ির বিধায়করা তো ছিলেনই। তার সঙ্গে শালবনী, ডেবরা,খড়গপুর গ্রামীনের বিধায়কদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। যদিও সূত্রের খবর এই যে  দলত্যাগ না করা অবধি দলের প্রতিটি স্তরের নেতা, নেত্রী, কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের দলীয়সভায় উপস্থিত থাকার কৌশলী পরামর্শ রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join