TRENDS

হবু শালীকে বিয়ে করার সুযোগ পেয়েও নিজের ভালবাসাকেই বিয়ে! প্রেমের অনবদ্য কাহিনী

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: মনে পড়ে জনপ্রিয় হিন্দি ছায়াছবি ‘মন’- এর কথা! যেখানে দুর্ঘটনায় দুটো পা কেটে যাওয়া মনীষা কৈরালাকে আমীর খান কোলে তুলে সাতপাক ঘুরেছিল। এবার বাস্তবেই অনেকটা সেরকম ঘটনারই সাক্ষী থাকলেন রাজস্থানের প্রতাপগড়ের মানুষেরা। আর বাস্তবের সেই নায়ক-নায়িকা হলেন অবধেশ ও আরতি।

জানা গিয়েছে, বিয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কনে পঙ্গু হয়ে যান। কিন্তু তাঁর পরেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে জীবনসঙ্গীনি হিসেবে সেই কনেকেই বেছে নিলেন পাত্র। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কনের দিন-রাত সেবা করলেন হাসপাতালে থেকেই।

রাজস্থান প্রতাপগড়ের কুন্ডা এলাকার আরতি মৌর্যের সঙ্গে পাশের গ্রামের অবধেশের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। ৮ ডিসেম্বর বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ওই যে বলে, বিপদ বলে-কয়ে আসে না! বিয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে একটি বাচ্চাকে বাঁচাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে যান আরতি। তার শিরদাঁড়া দুটুকরো হয়ে যায়। এমনকি, কোমর, হাত, পায়েও গুরুতর চোট লাগে তার। এর পরই তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায় বাড়ীর লোকজন । চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, আগামী কয়েক মাস আরতিকে বিছানায় শুয়ে কাটাতে হবে। এমনকি, তার সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম।

আরতির বাড়ীর লোক এরপর অবধেশকে অদ্ভুত এক প্রস্তাব দেয়। আরতির বোনকে বিয়ে করার অনুরোধ করা হয় তাকে। অবধেশ সেই অনুরোধ কানেও তোলেননি বরং তিনি ছুটে যান আরতির কাছে। তার পাশে থেকে অবধেশ জানিয়ে দেন, আরতিক ছাড়া কাউকে বিয়ে করবেন না। দরকার পড়লে হাসপাতালে বিয়ে করবেন আরতিকে। তারপর থেকেই আরতির পাশে থেকে তার সেবা শুরু করেন অবধেশ।

সাধারণ পরিবারের ছেলে অবধেশ। কিন্তু অসাধারণ কাজ করে সবার মন জয় করেছেন তিনি। চিকিৎসকরা ঘণ্টা দুয়েকের জন্য আরতিকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে বাড়ীতে পাঠান। সেখানে লগ্ন মেনে তার বিয়ে হয় অবধেশের সঙ্গে। আরতি আবার ফিরে আসেন হাসপাতালে। সঙ্গে অবধেশও। গত আটদিন ধরে স্ত্রীর পাশে থেকে দিন-রাত সেবা করেছেন অবধেশ।

আর আজকের দিনে যখন চারিদিকে বেশীরভাগ মানুষ একটা সাধারণ কারণে তিল কে তাল করে, অজুহাত খোঁজে সম্পর্ক ভেঙ্গে দেওয়ার; সেখানে অবধেশের মতো একজন মানুষ পাওয়া সত্যিই যেন হাতে স্বর্গ পাওয়ার মত। এই ভাবে আরতির পাশে থেকে তিনি এটাই প্রমাণ করে দিলেন, যে প্রকৃত ভালোবাসা আজও বেঁচে রয়েছে। আর প্রকৃত জীবনসঙ্গী হয়তো একেই বলে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join