TRENDS

হাওড়া-শিয়ালদহ-খড়গপুর শাখার বেশ কয়েকটি স্টেশনে আর দাঁড়াবে না লোকাল ট্রেন, আশঙ্কায় নিত্যযাত্রীরা

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : কয়েকদিন আগেই রেলের তরফে ১০৯টি রুটের ১৫১ টি ট্রেন বেসরকারিকরণের খবর মিলেছে। সেই খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রেলের নয়া সিদ্ধান্ত৷ এবার থেকে হাওড়া , শিয়ালদহ, খড়গপুর শাখার বেশ কিছু স্টেশনে আর নাও দাঁড়াতে পারে লোকাল ট্রেন। এমনই সিদ্ধান্ত নিল রেল কর্তৃপক্ষ। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক দুর্ভোগের স্বীকার হতে চলেছেন সাধারণ মানুষ। শিয়ালদহ- হাওড়া শাখায় প্রতিদিন প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর-শিয়ালদহ মেইন লাইনেই নিত্যযাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ। এছাড়া অন্যান্য শাখার ট্রেনও রয়েছে। একই অবস্থা খড়গপুর শাখাতেও। সেখানে এক একটি ট্রেনে প্রায় ৩-৪ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এই পরিস্থিতিতে যদি স্টেশনগুলিতে ট্রেন না দাঁড়ায় তবে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন নিত্যযাত্রীরা।

রেলবোর্ডের তরফে ঠিক করা হয়েছে,যাত্রী সংখ্যা কম এবং অলাভজনক স্টেশনগুলিতে আর ট্রেন দাঁড়াবে না। সেক্ষেত্রে শিয়ালদহ -কল্যানী সীমান্ত শাখার ঘোষপাড়া, শিল্পাঞ্চল, কল্যানী সীমান্ত, শিয়ালদহ- বজবজ শাখার স্যার গুরুদাস ব্যানার্জি হল্ট, হাওড়ার মৌরিগ্রাম, রামরাজা তলা সহ খড়গপুর শাখার কাঁসাই, ক্ষীরাই, ডুঁয়া সহ বেশকিছু স্টেশনকে সম্বল করে সেখানকার বেশ কিছু মানুষ প্রতিদিন রুজির টানে বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করেন। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই এই স্টেশনগুলিতে আদৌ ট্রেন দাঁড়াবে কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আশঙ্কায় রয়েছেন নিত্যযাত্রীরা।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নতুন টাইম টেবিলকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করা হচ্ছে। নতুন এই টাইম টেবিল প্রকাশের আগে প্যাসেঞ্জার ডাটা নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী দেখা হচ্ছে, কোন ট্রেনে প্রতিদিন কতজন যাত্রী উঠছেন বা নামছেন। যাত্রার সময়ই বা কত। এই সব তথ্য খতিয়ে দেখার পর ট্রেন চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রেল বোর্ডের তরফে একথা স্পষ্ট, যে সকল স্টেশনে যাত্রী সংখ্যা তেমন থাকবে না সেই স্টেশন থেকে তুলে নেওয়া হবে ট্রেন। এক্ষেত্রে কোনওরকম সুপারিশ মানা হবে না। এবিষয়ে পূর্ব রেলের অপারেশন বিভাগের এক অধিকর্তা জানিয়েছেন, “নির্দেশে সব যাত্রীবাহী ট্রেনের কথা বলা হয়েছে। ফলে তার মধ্যে এসে পড়ছে লোকাল ট্রেনও।”

তবে এই সিদ্ধান্তে রেলের তরফে মনে করা হচ্ছে, এর জেরে আর্থিক ক্ষতি বেশ খানিকটা কমানো যাবে। ট্রেনের গতি বাড়বে, সময়ও বাঁচবে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাওড়া, শিয়ালদহ, খড়গপুর শাখায় বেশ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রী একেবারে নেই বললেই চলে৷ ফলে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় একটি লোকাল ট্রেন স্টেশনে এসে দাঁড়ালেও তাতে কোনও যাত্রীই ওঠে নি। কিন্তু ট্রেনটি দাঁড়িয়ে ফের চলতে শুরু করায় প্রায় সাড়ে তিনশো টাকা বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয়। মেল এক্সপ্রেসে খরচ আরও বেশি। ফলে খরচ কমাতে রেলের এই নতুন সিদ্ধান্ত বেশ কার্যকর হবে বলেই মনে করেছেন রেল আধিকারিকদের
অনেকেই।

তবে এই সমস্ত স্টেশন গুলির ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন বহু মানুষ পেশার তাগিদে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতির কথা ভেবে এত মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে এভাবে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া রেলের একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলেই মনে করছেন অসংখ্য নিত্যযাত্রীরা।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join