TRENDS

মায়ের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ! ইট দিয়ে থেঁতলে ছেলেকে খুন বাবার

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : মায়ের ওপর তীব্র অত্যাচার বাবার! সহ্য করতে না প্রতিবাদ করায় ঘুমন্ত অবস্থায় বাবার হাতেই খুন হতে হল ছেলেকে। ছেলেকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করলো বাবা। নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের রায়ানের নারানদিঘি এলাকায়। জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও বাবা ও মায়ের মধ্যে তুমুল অশান্তি চলছিল। আচমকা মাকে মারধোর শুরু করে বাবা৷ সেই সময় তারই প্রতিবাদ করেছিল ছেলে। সেই রাগেই গভীররাতে ঘুমন্ত ছেলের মুখে ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করল বাবা। বুধবার সকালে বাড়ির বারান্দার তক্তার উপর থেকে তার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে৷ এদিন সকাল থেকেই মৃতের বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মৃত যুবক বছর ২৩ এর তারক রায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তারকের বাবা রবি রায় বাড়িতে অশান্তি করত। এমনকি স্ত্রীকে মারধরও করে সে। প্রতিদিন মায়ের প্রতি বাবার অত্যাচার সহ্য করে ছেলে তারক, কিন্তু মঙ্গলবার রাতে অশান্তি চরমে ওঠে, বাবা মায়ের গায়ে হাত দিলে বাবার আচরণের প্রতিবাদ করে ছোটো ছেলে তারক। বাবা ছেলের মধ্যে অশান্তি এতটাই চরমে ওঠে পাড়া প্রতিবেশীরা বাড়িতে জড়ো হয়ে যায়৷ এরপর এক পর্যায়ে প্রতিবেশীদের মধ্যস্থতায় অশান্তি মিটেও যায়। এরপর মা বাবা ও পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর চলে গেলে প্রতিদিনের মতো বারান্দার তক্তায় উপরে শুয়ে পড়ে তারক। এরপরই সন্তানের প্রতি আক্রোশে মাঝরাতে বাইরে বেরিয়ে ইট দিয়ে ছোট ছেলের মুখ থেঁতলে দেয় বাবা।

এদিকে বুধবার সকালে বারান্দায় মুখ থেঁতলানো অবস্থায় মৃতদেহ তক্তার উপর পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তার বাবাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবে বোঝাই যাচ্ছে তীব্র আক্রোশের জেরে ছেলেকে খুন করে চম্পট দিয়েছে বাবা ববি রায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রুত থানায় খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনায় মৃতের মা ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাবা ববি রায়ের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা হয়েছে৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই মৃতের বাবার হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join