TRENDS

দাসপুরে দুর্ঘটনায় বধূ মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ক্যাম্প ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা; ঘাটাল: রবিবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানা এলাকায় পুলিশের তোলা আদায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে রাজ্য সড়কের ওপর থাকা একটি পুলিশ ক্যাম্প ভাঙচুর করার পর তাতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল জনতা। এখনো অবধি সেই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা থাকায় রয়েছে পুলিশ বাহিনী।

জানা গেছে রবিবার সন্ধ্যায় ঘাটাল পাঁশকুড়া রাস্তার ওপর খুকুড়দহ বাজারের এক ব্যবসায়ী দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ২৭ বছরের তনুশ্রী ও ৫ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে পাঁশকুড়ার কালীবাজার থেকে কিছু সামগ্রী কিনে বাইকে করে ফিরছিলেন। বাড়ির সামনেই দুর্বাচটি নদীর ওপর সেতুতে একটি লরি তাঁদের বাইকে ধাক্কা মারলে তনুশ্রী রাস্তার ওপরে পড়ে যান এবং লরিটি তাঁকে পিষ্ট করে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। অন্যদিকে তনুশ্রীর স্বামী ও সন্তান উল্টো দিকে পড়ে বরাত জোরে রক্ষা পায়। গোটা ঘটনাই চোখের সামনে ঘটে যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতার।

দীপঙ্কর নিজে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রায় বাড়ির সামনেই এই ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে পড়ে জনতা। তাঁদের সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ে করোনা পর্বে নির্মান হওয়া অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ওপর। ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ক্যাম্পের কম্পিউটার, সিসিটিভি ক্যামেরা। এরপরই আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় ক্যাম্পে।

ঘটনার খবর পেয়েই দাসপুর ও ঘাটাল থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ছুটে যায়। জনতার সঙ্গে উত্তপ্ত বাগ বিতণ্ডা শুরু হয়। ঘাটাল পাঁশকুড়া রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। রাস্তা থেকে সরতে নারাজ জনতার ওপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। যার মধ্যে থেকে ৭জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্যদিকে জনতার অভিযোগ ছিল করোনা পর্বে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার যানবাহন নিয়ন্ত্রন ও নজরদারি করার জন্য তৈরি হওয়া এই পুলিশ ক্যাম্প আদতে পুলিশের তোলা আদায় করার জায়গায় পরিনত হয়েছে। রবিবার রাতেও সেতুর কাছেই তোলা তুলছিল পুলিশ। পুলিশের তোলা এড়াতে গিয়েই লরিটি বেসামাল হয়ে ওই বাইকের পেছনে ধাক্কা মারে যার পরিনতিতেই ওই তরুণী গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ অবশ্য তোলা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে। সেতু সংলগ্ন রাস্তাটি খারাপ হয়ে যাওয়ায় নির্মান কার্য চলছে। এই অবস্থায় একটি লেনেই দুদিকের গাড়ি যাতায়ত করছে। পরিসর সঙ্কীর্ণ হওয়ায় অসাবধানতা বশতই এই দুর্ঘটনা।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join