TRENDS

এদিক ওদিক না করে দল ছাড়তে পারেন, কলকাতার নেতাদের জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাস কয়েকের মধ্যেই কর্পোরেশন আর পুরসভা আর বছর শেষ হলেই ঘাড়ের ওপর বিধানসভা। সবাই টিকিট পাবেননা, পেতে পারেননা আর না পেলেই অন্যদলের দিকে পা বাড়িয়ে অনেক নেতা। ওদিকে হাত বাড়িয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাদের জন্য বসে আছে বিজেপি। ছিল করোনা তার ওপর আমফানে বিপর্যস্ত শাসকদল। অতিরিক্ত সংখ্যালঘু তোষনে হিন্দু ভোট ক্রমশ পদ্মমুখী আর তার মধ্যে শুরু হয়েছে দলীয় কোন্দল। এই পরিস্থিতিতে আগে ভাগে বিদ্রোহীরা বেরিয়ে গেলে সুবিধা হয় তাই কলকাতার নেতাদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন,”কলকাতার নেতাদের বলছি, তাঁরা এদিকে ওদিকে মুখ খুলছেন। তাঁরা চাইলে দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন।” দলীয় বিধায়ক ও নেতৃত্বের সঙ্গে ভিডিয়ো বৈঠকে এমনটাই বললেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ মন্তব্য কেউ কেউ বলছেন সাধন পান্ডের প্রতি। ‘দলবিরোধী’ মন্তব্য করে ইতিমধ্যেই বিতর্কে জড়িয়েছেন মন্ত্রী সাধন পান্ডে। আজকে দলনেত্রীর এই মন্তব্য তাঁর জন্য সতর্কবার্তা বলেই মনে করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে এমনটাই যে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই কারন সত্যি বলার থাকলে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বলতেই পারতেন। বরং সবার উদ্দেশ্যে বলে তিনি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন সবারই প্রতি বিশেষ করে যাঁরা বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও নির্দেশ দেন, “রাজ্য কমিটির অনুমোদন ছাড়া জেলা সভাপতিরা কোনও সাংগঠনিক রদবদল করতে পারবেন না। যে কোনও রদবদল করতে হলে তা আগে রাজ্য কমিটিকে জানাতে হবে এবং তাদের অনুমতি নিয়েই সেই বদল করা যাবে। সভাপতি এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।” বলা বাহুল্য জেলায় গোষ্ঠীবাজি আটকাতেই এই নির্দেশ। কারন পছন্দ না হলেই যাকে তাকে পদ থেকে সরানোর প্রতিহিংসা দলের মধ্যে চলছে।

পাশাপাশি এদিন বৈঠকে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সভাপতি করা হয়েছে সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন তাঁকে ব্যারাকপুরের ‘হাল’ ধরার নির্দেশ বলেন। মমতা বলেন, “দীনেশদা আপনি এখনও ব্যারাকপুরের সাংসদ সদস্য। আপনি ওখানে গিয়ে সাংগঠনিক হাল ধরুন। ওখানে বিজেপি সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটাচ্ছে। রোজ অশান্তি হচ্ছে। আপনাকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।” প্রসঙ্গত, এতদিন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন নির্মল ঘোষ।

পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষকে সরিয়ে এবার লোকসভা কেন্দ্রের সভাপতি হলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর সঙ্গে আরও ১০ জন নেতাকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ১১ জনের এই কমিটি এবার থেকে ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকার কাজকর্ম দেখাশোনা করবেন। এদিন বৈঠকে বসিরহাটের সাংগঠনিক কাজকর্ম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও বসিরহাট জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join