TRENDS

করোনা ক্রান্তি কালে পরীক্ষা ছাড়াই চলতি সেমিস্টারের সমাপ্তি ঘোষনা আইআইটি খড়গপুরের

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল আইআইটি খড়গপুর। কোনও প্রথাগত পরীক্ষা ছাড়াই বসন্তকালীন সেমিস্টার বা ষান্মাসিক পঠনচক্র সমাপ্ত ঘোষনা করল ভারতের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানটি। আইআইটি খড়গপুরের ইতিহাসে সম্ভবত এটা প্রথম ঘটনা যেখানে পঠনচক্রের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা ছাড়াই পড়ুয়াদের মূল্যায়ন করা হবে। আইআইটি খড়গপুরের একটি সূত্র জানাচ্ছে গত ২৭মে প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত সর্বোচ্চ কমিটি সিনেটে গৃহীত হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।

ওই সূত্র মারফৎ আরও জানা গেছে যে করোনা ক্রান্তিবলয়ে সারা দেশ চলে আসায় গত মার্চ মাস থেকেই আইআইটি খড়গপুর পড়ুয়াদের বাড়ি চলে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেছিল। লকডাউন পর্বে আইআইটি শ্রেনীকক্ষের পঠন পাঠন এবং ল্যাবরেটরি ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। শুরু হয় অনলাইন পাঠক্রম। প্রায় ১৪হাজার পড়ুয়ার ৯হাজারই বর্তমানে বাড়িতে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে পঠন চক্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা যার মধ্যে প্র্যাকটিক্যালও রয়েছে তা সম্ভব নয়। অন্যদিকে চলতি ষান্মাসিক পঠনচক্রটিকেও আর প্রলম্বিত করা সম্ভব নয়। তাই বাস্তব অবস্থার নিরিখে দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মত আইআইটিতেও ষান্মাসিক পঠনচক্র বহাল রয়েছে। জানুয়ারি থেকে থেকে জুন আর জুলাই থেকে ডিসেম্বর। প্রথমভাগটি স্প্রিং সেমিস্টার বা বসন্তকালীন পঠনচক্র এবং পরেরটি অটাম সেমিস্টার বা শরৎকালীন পঠনচক্র। প্রতিটি পঠনচক্রেরই মধ্যবর্তী কালীন ও চূড়ান্ত এই দুটি স্তরে মূল্যায়ন হয়। চলতি বসন্তকালীন পঠনচক্রের মধ্যবর্তী কালীন মূল্যায়ন হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসে। এরপরই মার্চ মাস থেকে লকডাউন পর্ব চালু হয়ে যায়। সিনেটে ঠিক হয়েছে মধ্যবর্তী কালীন মূল্যায়ন, পড়ুয়াদের ক্লাশে উপস্থিতি ও মৌখিক প্রশ্নাবলীর নিরিখেই এবারের গ্রেডেশন বা মূল্যায়ন করা হবে। এর জন্য একটি কমিটি তৈরি হয়েছে। তারাই এই মূল্যায়ন করবে পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষের মাঝখানে যদি কেউ বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে স্থানান্তরিত হতে চায় সেই বিষয়টিও এই কমিটি খতিয়ে দেখবে।

তবে এখানে একটি সমস্যাও আছে তা হল যাঁরা ফাইনাল ইয়ারে উপনীত হয়েছে, যারা ডিগ্রি পাবেন। এঁদের বেশিরভাগই বলা যেতে পারে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেছেন যাকে প্লেসমেন্ট বলা হয়। এঁদের সামনের সমাবর্তনেই ডিগ্রি পাওয়ার কথা। এঁদের কী হবে? জানা গেছে এই বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি। এরজন্য একটি বিশেষ ভাবনা গ্রহন করার কথা ভাবছে কমিটি যদিও তা এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের ছাত্র প্রতিনিধি নীনাদ লোহাকারে পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সিনেটের এই সিদ্ধান্তের আর কোনও ভাল বিকল্প হতে পারেনা। আমরা কয়েকজন প্রতিনিধি মিলে নিরন্তর আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। আমাদের ডিরেক্টর, রেজিস্টার ও শ্রদ্ধেয় ডিনেরা, সিনেট ও অধ্যাপকবৃন্দকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য। পড়ুয়ারা এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে গ্রহন করেছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join