TRENDS

আমফানে উড়ে গেছে ফেন্সিং,বাঘের আতঙ্কে কাঁটা হয়ে আছে সুন্দরবনের গ্রাম

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: আয়লার সময়ে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। আর আমফানে সুন্দরবন-সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫ কিমি বেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে। কার্যত তছনছ হয়ে গেছে সুন্দরবন ও সুন্দরবন সহ লাগোয়া গ্রামগুলি। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প বলতে বোঝায় যে এলাকাগুলি তা হল সজনেখালি, বসিরহাট আর বিদ্যা ফরেস্ট রেঞ্জ। কার্যত দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গেছে এখানকার বাদাবন। দুর্যোগের আশঙ্কা মাথায় রেখেই ত্রানের সংগে রাখা হয়েছিল ঘুমপাড়ানি বন্দুকধারি দল। খুলে নেওয়া হয়েছিল সোলার প্যানেল। ঠিক হয়েছিল দুর্যোগ কেটে গেলে ফের বিদ্যুৎ সংযোগ করা হবে। কিন্তু কোথায় কী? সব তছনছ হয়ে গেছে।

সৌভাগ্যের কথা সুন্দরবনে বেড়েছে আটটি বাঘ। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৮৮টি। নতুন পরিসংখ্যানে তা বেড়ে হয়েছে ৯৬টি। একসঙ্গে আটটি বাঘ বৃদ্ধির ঘটনা সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে এই প্রথম। কিন্ত বাঘের সংগে যারা ঘর করে তাদের অবস্থাটাও ভাবতে হয় । তাই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে করা হয়েছে লোহার জাল দিয়ে ফেন্সিং যাতে চট করে লোকালয়ে বাঘ না ঢুকে পড়ে। আমফান ছিঁড়ে উড়িয়ে দিয়েছে সেই ফেন্সিং।

বুধবার বিকালেই ঝড়ের দাপটে স্থানীয় কন্ট্রোল রুম, ঘরের চাল সব উড়ে যেতে থাকে। সজনেখালি রেঞ্জ থেকে সরিয়ে দিতে হয় ট্রানক্যুলাইজার টিম। ছিঁড়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ অংশের ফেন্সিং। যার ফলে ঘর বাড়ি হারিয়ে তো বটেই, নতুন করে বাঘ ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হল সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায়।

নামখানা টাওয়ার, বকখালি রেঞ্জ অফিস, বসিরহাটের ঝিলা সর্বত্র চলেছে আমফান তাণ্ডব। বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সল্টলেকের কন্ট্রোল রুমে বসে যতটুকু খবর পেয়েছেন তার ভিত্তিতে রাতেই বলেছিলেন, “চারিদিকের অবস্থা খারাপ। কোনও জায়গার সঙ্গে টানা যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যতটুকু খবর এসেছে তাতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।”

বাঘের সংখ্যা বেড়েছে সে কথা মাথায় রেখে বিপর্যয়ের আগে বাড়তি সুরক্ষা নেওয়া হয়েছিল। যতটা সম্ভব বাড়তি বেড়া ও জাল লাগানো হয়েছিল। গ্রামের কাছে রাখা হয়েছিল বাড়তি ট্রানক্যুলাইজার টিম। বিশেষ করে পাখিরালয়ের কাছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সবটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে খবর।

ঝড় কেটে গেছে। কিন্ত ভয়ে কাঁটা হয়েছে পিরখালী, ঝড়খালি, নেতিধোপানি, হলদিবাড়ি, দোবাঁকি, সুধন্যখালি ইত্যাদি গ্রাম। প্রায় প্রতিঘরেই বাঘের পেটে যাওয়া মানুষের যন্ত্রনা। ঝড়ের তান্ডব কাটিয়ে এখন বাঘের তান্ডবের আশঙ্কায় মানুষ।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join