TRENDS

পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার সেই দু’মাথা ওয়ালা সাপের দেখা এবার মিলল ওড়িশায়

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: কয়েকমাস আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে মিলেছিল দু’মাথা ওয়ালা সাপ যা নিয়ে হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল সর্ব ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। এবার সেই একই রকম আরও একটি সাপের দেখা মিলল যার দেহ একটাই কিন্তু মাথা দুটো। বেলদার পর এবার সেই বিরল সাপের দেখা মিলল ওড়িশায়। সাপটির দুটি মাথায় চারটি চোখ। জোড়া মুখ। আর তাতে জোড়া জিভও রয়েছে। দুটি মাথা সচল। এবং দুটি মাথা আলাদাভাবে কাজ করে। অর্থাৎ সাপটি যখন খাবারের খোঁজ করে তখন দুটি মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। এমন বিরল সাপ দেখে বনকর্মীরাও আবাক। এর আগেও দুটি মাথার সাপ দেখা গিয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি মাথা নিস্ক্রিয় ছিল। চিতিবোড়া প্রজাতির এই সাপটির দুটি মস্তিষ্ক সমান তালে সক্রিয়। সাপটিকে মাটিতে ঘুরতে দেখে ছবি তুলে রাখেন বন দফতরের অফিসার সুশান্ত নন্দ।

সাপটি খাবারের সন্ধান পেলে দুটি মাথার লড়াই শুরু হয়ে যায়। খাবারের সামনে গিয়ে দুটি মাথার মধ্যে কে আগে সেটিকে খাবে তা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অর্থাৎশরীর একটি হলেও মাথা দুটি আলাদাভাবে কাজ করে। বন দফতরের অফিসার সুশান্ত নন্দ বলেছেন, দেনকিকোট অভয়ারণ্যের কাছাকাছি একটি বাড়ি থেকে সাপটিকে আমরা উদ্ধার করি। কেওনঝড় জেলায় এর আগে এমন সাপের দেখা মেলেনি। দুটি মাথার মধ্যে একটি একটু বেশি সক্রিয় থাকে। সর্পবিশারদ রাকেশ মোহালিক বলেছেন, দুটি মাথাই খাবারের জন্য লড়াই করে। এমন অবস্থায় সাপটি কতদিন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এটা বিরল ঘটনা।

বেলদা থানার একারখী গ্রামের নন্দদুলাল দাসের পানের বরজ থেকে ২৬ অক্টোবর ২০১৯ দুই মাথা ওয়ালা সেই দু’মাথা ওয়ালা সাপটি ধরে ছিলেন নন্দদুলাল আর সরোজ জানা। পরে বনদপ্তরের হাতে তুলে দেন তাঁরা। দু’মাস ধরেই সাপটি বরজ সংলগ্ন এলাকায় ঘোরা ফেরা করত। ওড়িশার সাপটি চিতি বোড়া প্রজাতির হলেও বেলদার সাপটি ছিল গোখুরো প্রজাতির। সেটি ফনা তুলত এবং মাথার পেছনে খড়ম জাতীয় চিহ্ন ছিল। স্থানীয় মানুষ ভগবানের পাঠানো বলে থালায় দুধ দেয়। সাপটিকে সেই দুধে মুখ রাখতেও দেখা যায়।

গত বছর আমেরিকায় দুটি মাথার একটি সাপ উদ্ধার করেছিল সেখানকার বন দফতরের কর্মীরা। উদ্ধারকারী দল সেই সাপটির নাম রেখেছিল ডাবল ডেভ। সেই সাপটিরও দুটি মাথাই সক্রিয় ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে অবশ্য এই দু’টি মাথা যুক্ত সাপ কোনও বিশেষ প্রজাতি নয়, এটি আসলে জন্মকালীন ভ্রুনের ত্রুটি। যে কারনে মানুষের ছ’টি আঙুল অথবা বাছুরের দুটি মাথা দেখা যায় এটিও সেরকম মাত্র। যা জিন গত ত্রুটি বলা চলে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join