TRENDS

রেড জোনে জোরালো ধাক্কা করোনার, ঘুম ছুটল হলদিয়ার,একই পরিবারে ৫ আক্রান্ত নিয়ে আজই পূর্ব মেদিনীপুরে ৬ সংযোজন, ৩৫ ছড়িয়ে গেল জেলা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা : পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘোরালো হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরে। বৃহস্পতিবার জেলার ৬ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে যার মধ্যে শুধু হলদিয়ারই ৫ জন এবং তারা একই পরিবারের। অন্য মামলাটি পাওয়া গেছে মেচেদাতে। গোটা ঘটনা রীতিমত উদ্বেগজনক বলেই জানা গেছে। এই নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে অন্তত ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হলেন যার মধ্যে হলদিয়াতেই ১৬ জন। এই হিসাব শুধুই পূর্ব মেদিনীপুরে বর্তমানে বসবাস করছেন এবং এখানেই আক্রান্ত হয়েছেন ধরে নিয়ে। জেলার বাসিন্দা অথচ অন্যত্র বসবাস করছেন এমনটি ধরলে সংখ্যাটি বাড়তেও পারে।

উল্লেখ্য গত সোমবারই হলদিয়ার ভবানীপুর থানার ব্রজলালচকের বাসিন্দা ৭৩ বছরের এক বৃদ্ধ মুদি দোকানির করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছিল পজিটিভ। গত ২মে থেকে নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। রবিবারই তাঁর করোনার নমুনা সংগ্ৰহ করা হয়। এরপরই পজিটিভ ফল আসে। সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধকে বড় মা কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বৃদ্ধের পরিবারের লোকেদের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ১৪ বছরের বালক, দুই মহিলা ও দুই যুবকের রিপোর্ট এসেছে পজিটিভ। ঘটনার পরই ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে সংলগ্ন এলাকায়। আগামী ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ব্রজলালচক বাজার।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবারই জেলার মেচেদার এক মহিলা ব্যাঙ্ককর্মীর করোনা পরীক্ষার রিপোর্টও এদিন পজিটিভ এসেছে। হলদিয়ার ৫ জনকেই পাঁশকুড়ার বড় মা কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তমলুকের বল্লুক গ্রামের বাসিন্দা মহিলা ব্যাংককর্মী কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মন্ডল।

এদিকে বৃহস্পতিবার নতুন করে জেলায় আক্রান্ত খুঁজে পাওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পক্ষে আগামী ১৪ দিন রেড জোন থেকে বেরিয়ে আসা অনিশ্চিত হয়ে গেল। হলদিয়া আরও কঠোর ভাবে প্রবেশ করল কন্টেইনমেন্ট এলাকায়।  ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু হয়েছে সারা হলদিয়া জুড়েই। সমস্ত কন্টাইনমেন্ট জোনের ঘেরাটোপ আরও নিশ্ছিদ্র করতে উঠে পড়ে লেগেছে হলদিয়া মহকুমা ও পুলিশ প্রশাসন। জেলা প্রশাসনও চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে।    এমনিতেই শুরু থেকেই রাজ্যের প্রথম চারটি রেড জোনের আওতায় ছিল পূর্ব মেদিনীপুর। যদিও প্রায় ৯৮ শতাংশ সুস্থতা নিয়ে অরেঞ্জ জোনে ফেরার জন্য লড়াই করছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। বৃহস্পতিবারের ধাক্কা সেই স্বপ্নে জোরালো বাধা হয়েই দাঁড়াল।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join