TRENDS

বাড়া কমার মধ্যেই বহাল করোনার থাবা, দেশে আক্রান্ত ছাড়াল ৩৫ হাজার, ৫ রাজ্যেই আক্রান্তের ৭১ শতাংশ

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: আক্রান্তের হার বাড়ছে কমছে, সুস্থতার হার সামান্য হলেও বেশিরই দিকে কিন্ত তাতে খুব একটা কিছু উন্নতি বলা যাচ্ছেনা বরং বলা যেতে পারে ভারতে করোনার থাবা বহালই রয়েছে এবং হয়ত বা তা বিপজ্জনক পথেই এগুচ্ছে। দুদিন আগেও আক্রান্তের হার ১১শতাংশ হিসাবে বাড়ছিল বলেই জানানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যানের পরিসংখ্যানে। শুক্রবার তা ১২শতাংশ বলা হচ্ছে। হিসাবে এক শতাংশ ধরা হলেও দেশের জনসংখ্যার নিরিখে এই বৃদ্ধির খুব ভালো লক্ষন নয়।

অন্যদিকে গত দ’সুপ্তাহে এই রিকভারি রেট বা সুস্থতার হার অনেকটাই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সকাল ৮টার করোনা পরিসংখ্যানেও তার ছবি দেখা গেছে। রিপোর্ট বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৫৬৩ জন।
শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫০৪৩। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার রিপোর্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩০৫০। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়েছে ১৯৯৩ জন। করোনা অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ২৫০০৭।

বুধবারই দেশে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১১৪৭। তবে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও কম নয়। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, আজ অবধি মোট ৮৮৮৮ জন সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রকের আরও একটি তথ্য বলছে দেশের পাঁচটি রাজ্য মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশ মোট সক্রিয় আক্রান্ত ৭১ শতাংশ নিয়ে রয়েছে।
মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমনের সূচক ক্রমশই উর্ধ্বমুখী। আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই দেশের শীর্ষে। সংক্রমিত ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃতের সংখ্যা ৪৫৯। মহারাষ্ট্রের পরেই মৃতের সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাত। সে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১৪ জনের। আক্রান্ত ৪৩৯৫। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৩১৩ জন। দিল্লিতে করোনা পজিটিভের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫১৫। রাজধানীতে এখনও অবধি মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের। করোনা সংক্রমণের নিরিখে এগিয়ে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানও। দুই রাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা যথাক্রমে ২৬৬০ ও ২৫৮৪।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুসারে গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। আজ, শুক্রবার সকালে যে আপডেট প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে সকাল আটটা পর্যন্ত এ রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৫।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক আগেই জানিয়েছিল, মে মাসের পর থেকে অগস্ট পর্যন্ত দেশে করোনা ডাবলিং রেট কমতে পারে অর্থাৎ কম দিনে বেশি সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হবেন। দেশে এখন সংক্রমণ বৃদ্ধির যা হার তাতে অগস্টের মাঝামাঝি এই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে কেন্দ্রের তরফে এও জানানো হয় যে র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টের সংখ্যা বাড়া ও কনটেইনমেন্ট প্রক্রিয়া বাড়ানোর ফলেই  আক্রান্তের খোঁজ বেশি মিলছে এবং সঠিক চিকিৎসায় সুস্থতার হারও বেশি।

বেশ কিছু রাজ্যের ডাবলিং রেট ভাল বলেই জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। ১১ থেকে ২০ দিনের মধ্যে যেসব রাজ্যের ডাবলিং রেট সেগুলির নাম দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, জম্ম-কাশ্মীর, রাজস্থান, তামিওনাড়ু ও পঞ্জাব। ২০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে যেসব রাজ্যের ডাবলিং রেট সেগুলি হল কর্নাটক, লাদাখ, হরিয়ানা, উত্তরখণ্ড ও কেরল। ৪০ দিনের বেশি যেসব রাজ্যের ডাবলিং রেট সেগুলি হল অসম, তেলেঙ্গানা, ছত্তীসগড় ও হিমাচল প্রদেশ।
তবে আশার কথা এটাও যে দেশে রেড জোনের জেলার সংখ্যা কমছে । এপ্রিলের ২২ তারিখে রেড জোনে ছিল দেশের ১৭০টি জেলা এখন তা ১২৯ দাঁড়িয়েছে ।

অন্যদিকে গ্রিন জোনের জেলার সংখ্যাও কমেছে। ৩২৫ থেকে কমে হয়েছে ৩০৭। অর্থাৎ রেড জোন থেকে বেশ কিছু জেলার অরেঞ্জ জোনে উত্তরণ যেমন হয়েছে তেমন গ্রিন জোন থেকে অরেঞ্জ জোনে নেমে এসেছে বেশ কয়েকটি জেলা। যার ফলে অরেঞ্জ জোনের জেলার সংখ্যা ২০৭ থেকে লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ২৯৭টি। যদিও যে ৫টি রাজ্য দেশের মোট আক্রান্তের ৭১শতাংশ নিয়ে রয়েছে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রন না আনতে পারলে ফের দেশে সংক্রমন ছড়িয়ে আক্রান্ত বেড়ে যেতেই পারে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join