TRENDS

পুরো পাঁশকুড়া পৌরসভাই করানোর লাল তালিকায়, হলদিয়া ও এগরা আংশিক, মুক্ত কাঁথি! পুর্ব মেদিনীপুরের কোথায় কড়া নজর আর কোথায় মুক্ত বাতাস

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: সংক্রমন ঠেকাতে রেড জোনে আনা হয়েছে পুর্ব মেদিনীপুরকে। যেমনটা আনা হয়েছে রাজ্যের আরও তিন জায়গা কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়াকেও। নিয়ম অনুযায়ী এই রেড জোনে পুরোপুরি বলবৎ থাকবে লকডাউন। আর এই রেড জোন এলাকাতে সংক্রমনের মাত্রা অনুযায়ী লকডাউনের মাত্রা বাড়বে আবার সংক্রমন কমলে ধিরে ধিরে প্রত্যাহার করা হবে লকডাউন। কিন্তু পুরো জেলাটাই রেড জোনের আওতায় আসবে নাকি জেলার কোনও কোনও অংশ সংক্রমনের মাত্রা অনুসারে ছাড় পাবে তা ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও জেলা প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাইক্রো প্ল্যানিং তৈরি করে চার জেলার কিছু কিছু অংশকে পুরোপুরি রেড জোনের আওতায় এনেছেন আবার কোনও কোনও অংশ ছাড় পেয়েছে। যে এলাকা রেড জোন তা ঘিরে ফেলে সিল করে দেওয়া হবে। সেখানকার বাসিন্দারা ঘরেই থাকবেন। তাঁরা যেমন অন্য এলাকায় যেতে পারবেননা তেমনই অন্য কোনও মানুষ সেই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেননা। সিল করে দেওয়া এলাকায় মানু্ষের প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন দেখবেন।

সংক্রমণের মাত্রা অনুযায়ী, পুর্ব মেদিনীপুর জেলার কোন এলাকা অতি স্পর্শকাতর বা কনটেনমেন্ট জোন, সোমবার সেই তালিকা প্রকাশ করেছে নবান্ন। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেই এলাকাগুলি। পূর্ব মেদিনীপুরের আটটি পুরসভা বা ব্লক বেশ কিছু এলাকাকে অতিস্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। পূর্ব মেদিনীপুরের সংক্রমিত এলাকার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে এগরা পুরসভার নাম। এই পুরসভার ১০টি ওয়ার্ড পুরোপুরি অতি স্পর্শকাতর। এগুলি হল ১, ২, ৩, ৬, ৭, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ । এই পৌরসভার আংশিক অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৪, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশকে। এছাড়াও মঞ্জুশ্রী ও ছত্রী গ্রামপঞ্চায়েতের একাংশ অতিস্পর্শকাতর চিহ্নিত হয়েছে।

এবার আসা যাক হলদিয়া পুরসভার বিষয়ে। হলদিয়ার সাতটি ওয়ার্ড পুরোপুরি সিল করা হবে এবং সেগুলি হল , ৪, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৩, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড। এছাড়া ৩, ৫, ৭, ১১, ১৫, ১৯, ২০, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।হলদিয়া পুরসভার ৪, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৩, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পুরো এবং ৩, ৫, ৭, ১১, ১৫, ১৯, ২০, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সুতাহাটা এলাকায় পাথর বেড়িয়ার জয়নগর এবং হরেখালি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকা অতিস্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এবং এই এলাকা সংলগ্ন হলদিয়া পুরসভার ২, ৩, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশ তালিকায় আছে।

শহীদ মাতঙ্গিনীর বল্লুক ও সবলারা গ্রামের কিছু অংশকে অতিস্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বল্লুক-১ ও ২ এলাকা। এছাড়া শান্তিপুর-২, রঘুনাথপুর-২ ও ৩ কালহারদা, খারুই-২ এলাকাগুলির কিছু অংশ এবং তমলুক ভিলা এলাকার নীলকুঠির একাংশ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শহীদ মাতঙ্গিনীর আরপিএফ বারাক এলাকায় শান্তিপুর-১ ও ২ এবং শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লক ও দেড়িয়াচক গ্রামপঞ্চায়েতের কিছুটা এবং সেই সঙ্গে ভোগপুর, সাগরবাড়, অমলহান্ডা গ্রামপঞ্চায়েতগুলির একাংশ অতিস্পর্শকাতর। কোলাঘাট ব্লকও এই তালিকায় রয়েছে।
গোটা পাঁশকুড়া পুরসভা বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পাঁশকুড়া ব্লকের চৈতন্যপুর-২, ঘোষপুর এবং গোবিন্দনগর গ্রামপঞ্চায়েতের কিছুটা অংশ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। উলেখ্য এই জেলার এক মাত্র পৌরসভা হল কাঁথি যেখানে কোনও রেড জোন নেই।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join