TRENDS

করোনার পটচিত্রে নগরকে সবক শেখাচ্ছেন পিংলার স্বল্প সাক্ষর স্বর্ন, গুরুপদ রা

Abhirup Maity

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ পড়াশুনা শেখার আগেই এঁদের সংসারের জোয়ালে বেঁধে ফেলা হয়েছিল। স্কুলে যাওয়ার আগেই নামতে হয়েছিল ধানের ক্ষেতে। অ-আ-ক-খ পড়বে কখন। সংসার আর সংসার সামলানোর কাজের মধ্যেই, অবসরে এঁদের বিনোদন ছিল পট চিত্র আঁকা। বাবা মা প্রতিবেশিদের কাছেই হাতে খড়ি। রামায়ন আর মহাভারতের, মনসা কিংবা চণ্ডিমঙ্গলের ছবি আঁকতে আঁকতেই একটু আধটু পড়াশুনা। কিন্তু সমাজ সচেতনতায় বরাবরই এগিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার নয়া গ্রামের এই পটুয়ারা। ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১, মার্কিন মুলুকে জঙ্গি হানায় ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারের জোড়া গম্বুজ ভেঙে পড়ার পটচিত্র এঁকে বিশ্বের দরবারে নাম উঠে এসেছিল এই ক্ষুদ্র গ্রামটির। এরপর বিশ্ব কাঁপানো করোনা নিয়ে পটচিত্র এঁকে সচেতনাতা প্রচারে গান বাঁধলেন সেই পিংলার পটশিল্পীরা।

বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের থাবা। বিশ্বের বাজারে মুখ থুবড়ে পড়বে বাংলার পট শিল্প। নিজেদের এই ভবিষ্যত জেনেও দেশবাসীকে সচেতন করতে করোনা নিয়ে পটচিত্র এঁকে সচেতনাতার গান বাঁধছেন পিংলার পট শিল্পীরা। এই লকডাউনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জন বিভিন্ন ছবি, ভিডিও, লেখা পোস্ট করছেন। বাড়ির বাইরে বেরোনোর উপায় নেই পট শিল্পীদেরও। তাই করোনা ভাইরাস নিয়ে পটচিত্র এঁকে গান গেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে সচেতন করতে চেয়েছেন, পিংলার নয়া গ্রামের স্বনামধন্য পটচিত্র শিল্পী স্বর্ণ চিত্রকর। করোনা ভাইরাস নিয়ে শিল্পী স্বর্ণর গাওয়া গান সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে বাংলা নাটক ডট কম। যারা সারা বছর পটশিল্পীদের নিয়ে কাজ করে।

এর আগেও বিভিন্ন সচেতনতা প্রচারে এগিয়ে আস্তে দেখা গেছে পটচিত্র শিল্পীদের। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পটচিত্র এঁকেছেন, গান বেঁধেছেন, সমাজে প্রচার করে বেড়িয়েছেন। বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের থাবা। দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। বাড়ির বাইরে বেরোনোর উপায় নেই। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতা প্রচারের জন্য করোনা নিয়ে পট এঁকে গান বেঁধেছেন শিল্পী স্বর্ণ চিত্রকর। তাঁর গানে তিনি বলেছেন, শোন শোন ওগো দয়াল, তোমায় জানাবো কেমনে? কেন বিশ্ব জুড়ে এই মারণ ভাইরাসের জম দিলে? দয়াল তুমি সবই পারো পারো, তাই মানুষকে তুমি রক্ষা করো ইত্যাদি। পাশাপশি লকডাউন মেনে চলুন, বাইরে বেরোলে মাস্ক পরুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন ইত্যাদি সামাজিক বার্তা দিয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজের শিল্প কর্ম নিয়ে একাধিক গেছেন শিল্পী স্বর্ণ চিত্রকর। পটশিল্পের বাজার ধরে রাখা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে শিল্পী স্বর্ণ চিত্রকর বলেন, ‘আমাদের কাজ হল নানান বিষয়কে পটচিত্রের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরা। তাই এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস নিয়ে পট এঁকে গানের মাধ্যমে সচেতনতা প্রচারের চেষ্টা করলাম। স্বর্ণ বলেন, ভবিষ্যতে এই শিল্প টিকবে কিনা জানিনা। তবে আগে মানুষতো বাঁচুক’।
করোনা নিয়ে পট এঁকেছেন নয়ার পটচিত্র শিল্পী গুরুপদ চিত্রকর। গুরুপদ বলেন, ‘সামনে ভয়ঙ্কর দিন। আমরা শুনেছি, সত্তরের এর দশকে আমাদের পূর্ব পুরুষরা পট ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গিয়েছিলেন। নব্বই এর দশকে আবার পট শিল্পে ফিরতে করে। ২০০০ সালের পর থেকে পটের চাহিদা বাড়তে থাকে বিশ্ব জুড়ে। আগামী দিনে আবার পটশিল্পীদের অন্য পেশায় না যেতে হয়!’
সত্তরোর্ধ দুখুশ্যাম চিত্রকর জানান, ” সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবাই যখন বারবার বলছেন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে, বাড়ির বাইরে কম বের হতে তখন টিভিতে মানুষের বাইরে বের হওয়ার ধুম দেখলে সত্যি কষ্ট হয় বিশেষ করে শহর এলাকায়। যেখানে এত শিক্ষিত সমাজ বাস করে সেখানেই যদি নৈরাজ্য বিরাজ করে তবে ধ্বংসের হাত থেকে আমাদের বাঁচাবে কে? এখন আর আগের মত আঁকতে পারিনা, হাত কাঁপে। যারা আঁকে তাদের কে বলি এই সব বেশি বেশি করে তুলে ধর। যা হতে চলেছে সেই হাহাকারের ছবি তুলে ধরতে পারলে যদি মানু্ষের কিছু সচেতনতা বাড়ে।”

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join