TRENDS

সরকারি উদ্যোগেই ছড়ানো হচ্ছে বিদ্বেষ, জানাল দিল্লির সংখ্যালঘু কমিশন

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: সরকারি উদ্যোগেই ছড়ানো হচ্ছে মুসলিম বিদ্বেষ এমনটাই দাবি করল দিল্লির সংখ্যালঘু কমিশন। কোথাও সরকারি তথ্যে কখনও আবার সরকারি বুলেটিনে আলাদা করে উল্লেখ করা হচ্ছে তাবলিগী জামাতের আলাদা করে সংক্রমনের সংখ্যা। আর এরফলে দেশের সমস্ত মুসলিম সমাজকেই দেগে দেওয়া হচ্ছে অপরাধী হিসাবে। এমনটাই দাবি করলেন সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান। দিল্লি’র স্বাস্থ্য দফতর থেকে প্রকাশিত কোভিড–১৯ সংক্রমণ সংক্রান্ত দৈনিক বুলেটিনে তাবলিগ–ই–জামাত এর সমাবেশের নিয়মিত উল্লেখ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দিল্লি’র স্বাস্থ্য সচিব ও ডিরেক্টরকে লেখা চিঠিতে সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ জাফারুল ইসলাম খান বলেন, ”করোনা আক্রান্তদের বিষয়ে আপনাদের বুলেটিনে ‘মরকজ মসজিদ’ নিয়ে একটি আলাদা কলাম থাকছে। এই ধরনের বোধহীন পৃথকীকরণ কিছু সংবাদ মাধ্যম ও হিন্দুত্ববাদী শক্তির ‘ইসলামাতঙ্ক’ ছড়ানোর উদ্দেশ্যকেই সহায়তা করছে। এই বিষয়টিকে সারা দেশে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ফলে বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, তাদের সামাজিক বয়কট করার ডাক দেওয়া হচ্ছে। উত্তর–পশ্চিম দিল্লির গ্রাম হারেওয়ালি–তে একটি বালক গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছে এবং অন্যরা আক্রান্ত হয়েছে।”

স্বাস্থ্য দফতরকে লেখা দিল্লির সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যানের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ”এই প্রবণতাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করেছে ভারতের অনন্য বৈশিষ্ট হিসেবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি প্রকল্পের ডিরেক্টর মাইক রায়ান ৬ এপ্রিল বলেছেন, ”কোনও দেশেরই উচিত নয় করোনা ভাইরাস রোগকে (কোভিড–১৯) কোনও ধর্ম বা অন্য কোনও বৈশিষ্টের সঙ্গে যুক্ত করা”।”

উল্লেখ্য শুধুই দিল্লির স্বাস্থ্য দপ্তর নয়, অনেক সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এমনকি উত্তর প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও পরিসংখ্যান দিয়ে আলাদা করে তাবলিগী জামাতে উপস্থিত আক্রান্তের সংখ্যা আলাদা ভাবে বলতে শোনা গেছে। দিল্লির সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যানের আগেও বিভিন্ন মহল থেকে এই বিষয়ে কয়েকটি সরকারের গূঢ় অভিসন্ধি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।  উল্লেখ্য কয়েকদিন আগেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও ।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join