TRENDS

ভারতকে বরাভয় দিয়ে করোনা জয় করলেন কেরালার নব্বই বর্ষীয় দম্পত্তি

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: করানোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসামান্য সাফল্যের নজির রাখল কেরল সরকার। আতঙ্কিত ভারতবাসীর কাছে বরাভয় হয়ে এসেছে সেই সাফল্য। যার স্পষ্ট বার্তা, করোনা মানেই মৃত্যু নয়। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় কেরালার প্রশাসনের বড়সড় আর্থিক বিনিয়োগ (২হাজার কোটি টাকা ) এবং করোনা পরীক্ষার জন্য বিপুল উদ্যোগের কারনেই নব্বইয়ের কোঠায় থাকা ওই দম্পতি এখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলেই দাবি করা হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল থেকে।

জানা গেছে স্বামী ও স্ত্রী, যথাক্রমে ৯৩বছর বয়সী এবং ৮৮ বছর বয়সী, কোট্টায়েম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন।এঁরা এঁদের ছেলে এবং তার পরিবার দ্বারা সংক্রামিত হয়েছিল যারা ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইতালি থেকে ফিরে এসেছিল। উল্লেখ্য বিশ্বব্যাপী, কোভিড -১৯ আক্রমনের ক্ষেত্রেই ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মারাত্মক ঝুঁকি প্রবন বলেই ধরা হয়ে থাকে।
এই দম্পত্তি ইতিমধ্যে বিভিন্ন বয়স জনিত অসুখে ভুগছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, একটা সময়ে বৃদ্ধের অবস্থা খুব মারাত্মক পর্যায়ে অবনতি হয়েছিল। তার হার্ট অ্যাটাক এবং শ্বাসকষ্টের প্রচণ্ড সমস্যা ছিল। জীবনরক্ষার ব্যবস্থা হিসাবে তাকে ভেন্টিলেটারে স্থানান্তরিত করা হয়।

তবে কোট্টায়েম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও কর্মীরা এই দম্পতির জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। চিকিৎসার নেতৃত্বদানকারী সাত সদস্যের টিমের পাশাপাশি, ২৫ জন নার্স সহ ৪০ জন মেডিকেল কর্মী চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।এই সম্পূর্ণ দলটির সাহায্যে পরিবারের পাঁচ সদস্য বর্তমানে কোভিড -১৯ মুক্ত।
আশ্চর্যের ব্যাপার চিকিৎসার শুরুতে এই দম্পতি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে যেতে চাইছিলেন এবং নার্সদের সাথে কোনও সহযোগিতা করছিলেননা। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের সাথে কথা বলে তাঁদের নিশ্চিত করে যে বয়স্ক দম্পতিকে বিশেষ নার্সিং কেয়ার দেওয়া হবে। একজন নার্স যিনি এই দম্পতির যত্ন নিয়েছিলেন পরে তিনি নিজেও পরে করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা ওই নার্সের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয় তাঁকে।
সম্পূর্ণ কোভিড-১৯ মুক্ত ঘোষনা করার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া পাঠানমথিতার এলাকার ওই পাঁচজনকে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীরা যারা ২৪দিন তাঁদের চিকিৎসা করেছিলেন বিদায় অভিনন্দন জানান। তাঁদের চিকিৎসক ডাঃ আশিস মোহন ও ডাঃ শরৎ জানান, ” পাঁচজন রোগীর পরীক্ষা নেতিবাচক হওয়ার পরই তাঁদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা আরও দু’সপ্তাহের জন্য কঠোর ভাবে হোম কোয়ারান্টিনে থাকবেন। এরপরে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে ফের তাঁদের আনা হবে এবং ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুনরায় তাঁদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে।”

পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে সদ্য রোগ মুক্ত ওই পরিবারের এক সদস্য বলেন, ”আমরা সরকার, চিকিৎসক এবং চিকিৎসা কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা আমাদের যত্ন নিয়েছিল। আমরা খুবই আশংকার মধ্যেই চলে গিয়েছিলাম, যে কারনে আমার বাবাকে কাউন্সেলিং অবধি করাতে হয়ে। আমাদের যে সমস্ত কর্মচারী আমাদের ভাল যত্ন নিয়েছিল তাদের কাছে আমাদের আজীবন কৃতজ্ঞতা রইল।”
পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলাজাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। গত ২৯ শে ফেব্রুয়ারি এই পরিবারের এক সদস্য ইতালির ভেনিস থেকে ভারতে ফিরেছিল দুটি বিমান পাল্টে। পরিবারের এক আত্মীয় জানিয়েছেন যে, আমরা ভাবতেই পারিনি ওই পরিবার বিশেষ করে ওই দম্পত্তি হাসপাতাল থেকে জীবিত বেরিয়ে আসবে। বাস্তবিকই সারা ভারতের কাছেই এটা আশার আলো।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join