নিজস্ব সংবাদদাতা: লজ্জা রাখার জায়গা নেই ভারতের। নেহাৎই পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে স্বদেশের পুলিশের হাতেই নিহত হলেন স্বদেশেরই পুলিশেরই ৬
জন জওয়ান। পাকিস্তান বা অন্য কোনও ভিন দেশের সঙ্গে কোনও সীমান্ত সংঘর্ষ নয়, নয় উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘটনা। একই দেশের মধ্যে দুটি রাজ্যের মধ্যে কিছু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে। সোমবার ভয়াবহ এই ঘটনায় মিজোরাম পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে ওই ৬ জন অসম পুলিশের কর্মী যেমন নিহত হয়েছেন তেমনি
একজন আইপিএস আধিকারিক সহ ৮০জন অসমবাসী আহত হয়েছেন।
অসম-মিজোরাম সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে ৬ পুলিশ কর্মীর মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিয়ে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে এই খবর জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। হিমন্ত বিশ্বশর্মা লেখেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে রাজ্যের সাংবিধানিক সীমানা রক্ষা করতে গিয়ে অসম-মিজোরাম সীমান্তে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন অসম পুলিশের ছয় সাহসী জওয়ান। তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে।” জানা গিয়েছে, অসমের কাছাড় জেলায় মিজোরাম সীমান্তে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সোমবার তা ভয়াবহ রূপ নেয়। অসম পুলিশের উপর মিজোরামের দিক থেকে গুলি চালানো হয়। ফলে মৃত্যু হয় ৬ পুলিশকর্মীর। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কাছাড় জেলার পুলিশ সুপার নিম্বলকর বৈভব চন্দ্রকান্ত।
আশ্চর্যের বিষয় হল , গত শনিবারই শিলংয়ে উত্তর-পূর্বের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপর দুই পড়শি রাজ্যের মধ্যে এহেন সংঘাতে উত্তাপ ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। অসমের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সীমান্তের অপর দিক থেকে অসমে ঢুকে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। গায়ের জোরে জমি দখল করে ফেলে তারা। বাধা দিতে গেলে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। একই অভিযোগ জানিয়েছে মিজোরামও। গোটা বিষয়এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা।
পরে রাতের দিকে আরও একটি বিবৃতি প্রকাশ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে এটা স্পষ্টতই দেখা গেছে যে মিজোরাম পুলিশ অসম পুলিশের ওপর লাইট মেশিন গান বা LMG দিয়ে আক্রমন করেছে। এই তথ্য সমর্থনও করেছে একটি সূত্র। অসমের কাছাড় থেকে নির্বাচিত এবং অসম মন্ত্রিসভার সদস্য পরিমল শুক্লবৈদ্য ঘটানটিকে ইংরেজ আমলের কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালা বাগের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন।
অন্যদিকে মিজিরামের পক্ষে জানানো হয়েছে প্রায় ২০০পুলিশ কর্মী নিয়ে আসাম পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ ছাড়াও অসমের ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, ডিএফও বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ অসমের সীমানায় ঢুকে পড়ে। তারা একটি স্থানীয় অটো স্ট্যান্ডে গিয়ে সেখানে ভাঙচুর চালায় বলে দাবি করা হয়েছে । অভিযোগ অসসীমের জায়গার দখল নিতে পারে এই ঘটনা।।
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা বলেছেন, অসম পুলিশের ওই দলটি মিজোরামের সীমানায়। তারা স্থানীদেরকে গালাগালি, ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে। বিকাল সাড়ে চারটা নাগাদ অসম পুলিশের দলটি প্রচুর টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটিয়েছে বলে অভিযোগ। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ করেছেন, ‘ অসম পুলিশের দলটি গ্রেনেড ব্যবহার করে। আমাদের পুলিশ প্রত্ত্যুতর দিয়েছে মাত্র।”






