TRENDS

ক্রান্তিকালের মনীষা-৪৪ : বিনয় কুমার সরকার।। বিনোদ মন্ডল

Chandramani Saha

চিন্তানায়ক বিনয় সরকার      ক্রান্তিকালের মনীষা-৪৪ : বিনয় কুমার সরকার।। বিনোদ মন্ডল বিনোদ মন্ডল

ভারতবর্ষের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন বিনয় কুমার সরকার; সংক্ষেপে বিনয় সরকার (২৬.১২.১৮৮৭ – ২৪.১১.১৯৪৯)। তিনি পৃথিবীর ইতিহাসের বিভিন্ন যুগ, বিশ্ব সংস্কৃতির নানা পর্যায় এবং সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারাটিকে নানা মৌলিক চিন্তাভাবনার দ্বারা বিশ্লেষণ করেছেন এবং নতুন নতুন পথের সন্ধান দিয়েছেন। বিশ্ব সারস্বত সমারোহে তাঁর অমূল্য অবদান দার্শনিক ভাষায় ‘সরকারবাদ’ বা ‘সরকারিজম’ নামে প্রসিদ্ধ।

মালদা জেলার মুকদুসপুরে জন্ম তাঁর। তারুণ্যে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় ডন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এর নিবিড় সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁর কাছে তিনি স্বদেশপ্রেম, আত্মত্যাগ তথা নিঃস্বার্থ কর্মযোগের দীক্ষা পান। পাশাপাশি ভারতাত্মা স্বামী বিবেকানন্দের পথ ও মত তাঁকে যথেষ্ট উদ্বুদ্ধ করেছিল। বিশেষ করে স্বামীজির যেকোনো বিষয়ে ‘এক বগগা ক্ষ্যাপামি’ বিনয় সরকারের মধ্যেও সৃষ্টিশক্তির অনন্ত সম্ভাবনাকে মূর্ত করেছিল।

অগ্রগামী ভাবুক এই মানুষটির বিচরণ ক্ষেত্র ছিল বিশাল। ইতিহাস, দর্শন, ধনবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সাহিত্য এমনকি ললিতকলা নিয়েও মাথা ঘামানোর মত মাথা ছিল তাঁর। তাও থোড়-বড়ি-খাড়া নয়।চর্বিত চর্বন নয়। মামুলি ও গতানুগতিক পথের চেনা ছকে গতায়াত নয়, অ-চলা পথে চলা ছিল তাঁর চিরকালের অভ্যাস। নিজের চোখ দিয়ে দেখেছেন, ভেবেছেন এবং তথ্য ও যুক্তির স্বরলিপিতে তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছেন। আবার এজন্য অপরাপর বহু বাঙালি গবেষকের মতো তিনি একমাত্র ইংরেজির উপর ভরসা না করে ফরাসি, জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষা আয়ত্ত করে আমেরিকা ও ইউরোপের চিন্তাক্ষেত্রে রাজ করেছেন।

আজকের দিনে বিশ্বায়নের সুবাদে বহু অধ্যাপক গবেষক বিশ্বের নানা প্রদেশে গিয়ে বক্তৃতা করছেন, অতিথি অধ্যাপনা করছেন। প্রতি সপ্তাহে নিত্যযাত্রীর মতো তাঁদের পাশ্চাত্য দেশে যাতায়াত। এক্ষেত্রে বিনয়বাবু স্বাতন্ত্রে উজ্জ্বল। ১৯১৭ থেকে ১৯৩১ টানা সতেরো বছর প্রবাসী ছিলেন। ভাবা যায়, আজ থেকে ১০০ বছর আগে এক বাঙালি মনীষী বিদেশে বসে ইউরোপ-আমেরিকার সেরা সেরা গবেষণা-পত্রিকায় ৩৬ খানা মৌলিক গবেষণা পত্রও প্রকাশ করেছেন। দেশে ফেরার পর তো অনেকগুলো আছেই।

ভুলে গেলে চলবে না, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসাধারণ কৃতিত্বের সঙ্গে বার হওয়ার পর তিনি কিন্তু বড় সরকারি চাকরির মোহমায়ায় আবদ্ধ হননি। জাতীয় শিক্ষা পরিষদ পরিচালিত ‘বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজে’ অবৈতনিক শিক্ষক রূপে (১৯০৬) পথ চলা শুরু করেন। তাঁরই নেতৃত্বে ১৯০৭ সালে মালদায় জাতীয় শিক্ষা সমিতি স্থাপিত হয়। আবার অয়নান্তের পর ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ‘যাদবপুর কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি’ বিষয়ে তিনি যখন সমাজতাত্ত্বিক বিবরণ রচনায় প্রবৃত্ত হন তখনো দেখা যায় ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর অপরিসীম প্রীতি ও গভীর আত্মীয়তাবোধ। বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি দেশসেবার আন্তরিক তাগিদ তাঁর জীবনে প্রবহমান ছিল। অথচ কখনো কোনো সংকীর্ণতা তাঁকে সেভাবে স্পর্শ করেনি। পাঁড় বাঙালী হয়েও তিনি ছিলেন যথার্থ আন্তর্জাতিক; বিশ্বনাগরিক।

দার্শনিক বিনয় সরকারের মনোভূমিতে মানবজাতির ঐক্য ছিল মূল ভিত্তি। ম্যাক্সমুলার, কিলিং, সতীশচন্দ্র, ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ যুগসারথীর ভাবনায় তিনি সংরক্ত হয়েছেন; বিবেকানন্দ এবং ভগিনী নিবেদিতার আহ্বানে আলোড়িত হয়েছেন অথচ বিনয়ের সাথে, তাঁদের মত ও পথের সব সময় অফুরান কার্যকারিতা স্বীকার করেও স্বকীয় চিন্তাভাবনায় অকপট থেকেছেন। ১৯১১-১৩ খ্রিস্টাব্দে বিনয়কুমার এলাহাবাদে গিয়ে পাণিনি অফিসে প্রাচীন ভারত নিয়ে নিবিড় গবেষণায় নিবিষ্ট হন। এই সময়ে তিনি শুক্রাচার্যের নীতিসার নামক সংস্কৃত গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। বিস্তর টীকা-টিপ্পনী সহযোগে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে মেজর বামন দাস বসুর উদ্যোগে সে গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। যা সারা বিশ্বের পন্ডিত মহলে ‘শুক্রনীতি’ নামে বহুল প্রসিদ্ধ। এখানে তিনি প্রমাণ করে দেন – ভারতীয় সভ্যতার প্রকৃতিগত বিশেষত্ব – আধ্যাত্মিকতা বা ধর্মচর্চাই শুধু নয়। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত হল সময়নিষ্ঠ, সংসারনিষ্ঠ, রাষ্ট্রনিষ্ঠ, হিংসানিষ্ঠ, এবং শান্তিনিষ্ঠ।

হিন্দু সমাজতত্ত্বের বাস্তব বা সাংসারিক ভিত্তি সম্পর্কে তাঁর অসাধারণ মূল্যায়ণ রয়েছে ‘পজিটিভ ব্যাকগ্রাউন্ড অফ সোশিওলজি’ (১৯১৪) গবেষণাগ্রন্থে। গ্ৰন্থখানি চার খণ্ডে সমাপ্ত। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত চতুর্থ খন্ডের নাম ‘ইন্ট্রোডাকশন টু হিন্দু পজিটিভিজম।’ বিশ্বের নানা প্রান্তের অভিনন্দন কুড়িয়েছেন তিনি। ফরাসি দার্শনিক ও মনীষী জাঁ আলবেয়ার এই চতুর্থ খন্ড পড়ে মন্তব্য করেছেন – ‘ পাশ্চাত্যবাসীগণ যদি সমাজবিজ্ঞানে বর্তমান ভারতকে সবচেয়ে ভালো ভাবে বুঝতে চায়, তবে এ বইখানি অপরিহার্য।’

একাংশের বুধসমাজ মনে করেন সরকারি মতবাদের পরিপূর্ণ বিকাশ পরিলক্ষিত হয় তাঁর ‘ফিউচারিজম অব ইয়াং এশিয়া’ গ্ৰন্থে (১৯২২)। রয়েল সাইজে চারশোর বেশি পৃষ্ঠা সম্বলিত এই গ্রন্থ জার্মানি থেকে প্রকাশিত হয়। প্রাচ্য – পাশ্চাত্য সভ্যতার তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী প্রকাশনা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত ও বিধ্বস্ত জার্মানির পুনর্গঠনের কাজে এই গ্রন্থ প্রেরণা জুগিয়েছিল। কথিত আছে, জার্মান পন্ডিত হাউসোফার তাঁর শোবার ঘরে একটি ছোট টেবিলে সোনার জলে বাঁধানো এই গ্রন্থখানি সাজিয়ে রেখেছিলেন। একবার বিনয়কুমারকে বাড়িতে লাঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। এই গ্রন্থটি দেখিয়ে বলেন – This is the new Bible of young Germany. মনে রাখতে হবে অ্যাডল্ফ হিটলারের পরিপূর্ণ পদধ্বনির তখনও বছর দুয়েক বাকি। শুধু পাণ্ডিত্যের নিদর্শন নয়, এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন পাশ্চাত্য পন্ডিতের লেখা প্রচলিত প্রাচ্যের ইতিহাসগুলি অধিকাংশ গোঁজামিলে ভরা ও যুক্তিবিরোধী। আধুনিক বিশ্বে তিনিই যেন প্রতিষ্ঠা করলেন, পৃথক মানদণ্ডে নয়, একই মানদণ্ডে পুবের ও পশ্চিমের রক্তমাংসের মানুষের ক্রমবিকাশের তুল্যমূল্য বিচার করা দরকার।

তিনি জার্মান সংস্কৃতির অনুরাগী প্রচারক ছিলেন বলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কেউ কেউ তাঁকে গণতন্ত্রের শত্রু এবং হিটলারের সমর্থক বলে প্রচার চালান। তা কিন্তু নয়। তিনি যেকোনো ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার বিরোধী ছিলেন। তিনি অদ্বৈতবাদের বিরোধী, বহুত্ববাদের প্রবক্তা ছিলেন। তিনি মানতেন, সাম্রাজ্যবাদ মানে এক জাতির ওপর আরেক জাতির আধিপত্য কায়েম। আন্তর্জাতিকতায় বিশ্বাসী এই মানুষটি কখনো জাতীয় স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেওয়ার কথা বলেননি। তাঁর জীবনীকার হরিদাস মুখোপাধ্যায় লিখেছেন – “মানব জীবনের বা ঐতিহাসিক অভিব্যক্তির তিনি কোন একটি শক্তি বা প্রেরণার বদলে লক্ষ্য করেছেন রকমারি শক্তি ও প্রেরণার প্রভাব। কাল মার্কসের অর্থনৈতিক অদ্বৈতবাদকে তিনি ভ্রমাত্মক বিবেচনা করতেন, যতখানি হেগেলের ভাববাদী অদ্বৈতবাদকে, অথচ দুই চিন্তাবীরকে তিনি ঋষি বা যুগাবতার বলে কুর্নিশ করেছেন।

বাংলা ভাষায় অর্থশাস্ত্র ও সমাজবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার কাজে তিনি ছিলেন প্রথম বিজ্ঞানমনস্ক পথিকৃৎ। বিদেশে থাকার সময় পাশ্চাত্যের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের সান্নিধ্যে আসেন তিনি। তাদের পরিচালনাধীন ধনবিজ্ঞান বিষয়ক জার্নালে এই সংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি প্রকাশ করেন। দেশে ফিরে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ‘আর্থিক উন্নতি’ নামে একটি উন্নতমানের মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এক্ষেত্রে তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নরেন্দ্রনাথ লাহার সক্রিয় সহযোগিতা পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, ‘বঙ্গীয় ধনবিজ্ঞান পরিষদ'(১৯২৮) স্থাপন করে বাংলায় এই সংক্রান্ত গবেষণা ও বিশ্লেষণের ধারাকে পল্লবিত করেছেন। এই সংক্রান্ত তাঁর আকর গ্রন্থ ‘ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ এর সুবিশাল দুটি খণ্ডই তাঁর অবদানকে উজ্জ্বল করে রেখেছে।

নিরক্ষর অশিক্ষিত শব্দটিকে এখনও অনেকে সমার্থক ভাবেন। তিনি প্রথম যুক্তি দিয়ে এই ভাবনার অসারতা প্রমাণ করেন। তাঁর কাছে স্কুল কলেজের সাফল্যেই একমাত্র কৃতকার্যতা ছিল না। “The last boy in the class is not the worst figure in Bengal. Perhaps he is the most creative.” এই ছিল তাঁর মূল্যায়ন তারই সূত্র ধরে তিনি গণতন্ত্রকে প্রসারিত করতে নিরক্ষরদের অধিকার দানের কথা বলেছেন। তাই তিনি দেশের সংবিধান প্রণেতা ডঃ আম্বেদকরকে ‘একালের হিন্দু ঋষি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন।

বিশুদ্ধ সাহিত্য চর্চা এবং সুকুমার শিল্প অনুধাবনেও তাঁর অসংখ্য মৌলিক লেখালেখি রয়েছে। ‘বিনয় সরকারের বৈঠকে’ গ্রন্থের বিশাল দুই খণ্ডে বিংশ শতকের বাংলা সাহিত্য ও তার গতি প্রকৃতির মননশীল বিশ্লেষণ প্রকীর্ণ। রঙ্গলাল-মধুসূদন- হেমচন্দ্র থেকে রবীন্দ্র-নজরুল পর্যন্ত এসে তিনি থেমে থাকেননি।১৯৩১-৪০ পর্যন্ত আধুনিক বাংলা কবিতার ঝুঁটিও ধরে টান দিয়েছেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,বিষ্ণু দে থেকে জসীমউদ্দিন কেউ বাদ যাননি। নজরুল সম্পর্কে তাঁর অসাধারণ মূল্যায়ণ — ‘নজরুল – কাব্যের প্রথম মুদ্দা বিপ্লব, আর দ্বিতীয় মুদ্দা ভালোবাসা।’

বাংলা গদ্য রচনায় তিনি একটি বিশিষ্ট গদ্যশৈলীর ধারক। ৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯ এর দেশ পত্রিকার সম্পাদকীয় দ্রষ্টব্য : ” তাহার অভিব্যক্তির ভঙ্গিতে একটা বিশিষ্টতা ছিল। তিনি নিতান্ত সহজ এবং সরলভাবে দুরূহ এবং জটিল বিষয়ের বিশ্লেষণ করিতে পারিতেন। বাংলা সাহিত্যে এই ভাবে তাহার লেখায় একটা ‘স্টাইল’ গড়িয়া উঠে। আবার বাংলা ভাষায় নিজে মৌলিক গ্রন্থাবলি রচনা করেই ক্ষান্ত হননি, বাংলা সাহিত্যের উন্নয়নের স্বার্থে বহু বিদেশী গ্রন্থ বঙ্গানুবাদের প্রয়াস নিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের পঞ্চাশতম জন্মজয়ন্তী (১৯১১) উপলক্ষ্যে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের হাতে অনুদান বাবদ একটি অর্থভাণ্ডার তুলে দিয়েছেন। একটাই শর্ত ছিল অনুবাদ- প্রকাশনায় তা ব্যয়িত হবে।

বাংলা সাহিত্যে তাঁর সবচেয়ে বড় কীর্তি ‘বর্তমান জগৎ’ নামে তেরো খণ্ডে রচিত গ্রন্থমালা (১৯১৪-৩৫)। দীর্ঘজীবন ধরে বিশ্বভ্রমণের ফসল এই গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০০।এখানে শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পর্যালোচনা নয়, এর অধিকাংশ তথ্য তিনি এই গ্রন্থে সংযোজনের পূর্বে নানা প্রবন্ধের মাধ্যমে ফরাসি, ইতালি, জার্মানি এবং ইংরেজি ভাষায় সিদ্ধ নানা গবেষণাপাত্রে প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বাংলা ভাষার নানান পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ গ্রন্থের পরতে পরতে বিনয়কুমার উল্লেখ করেছেন ভারতের আত্মিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে দেশবাসীর উদাসীনতার দিকটি।

সদ্য স্বাধীন ভারতবর্ষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে নতুন বার্তা প্রচারের লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি বাংলাকে চিরবিদায় জানিয়ে বক্তৃতা সফরে বার হন। কখনো ভারতের কৃষি ও শিল্প সম্ভাবনা, কখনো দরিদ্র জাতির স্বদেশসেবক মহাত্মা গান্ধী, কখনও ভারতীয় জাতি ও সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে বক্তৃতা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বক্তৃতা সফরের মাঝখানে হঠাৎ অসুস্থ হন। তখন পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ইদা সরকার (অস্ট্রিয়ান)। ওয়াশিংটন ডি.সি.তে নিগ্ৰো জাতির হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সারা বিশ্বের সারস্বত সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে। ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় সম্পাদকীয় লেখা হয় (নভেম্বর’ ১৯৪৯), “সাম্প্রতিককালের যে সব চিন্তা লইয়া, মতবাদ লইয়া দেশে আজ এত মাতামাতি চলিতেছে, তাহার অনেকটুকুই আমাদের ভাষায় প্রথম আমদানি করেন বিনয় সরকার।………… অন্য বহু বিষয়ের মতো এবিষয়েও তিনি দেশের অগ্রগামী ভাবুক ও নায়ক স্বরূপ।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join