TRENDS

দিন রাত এক করে, অতিমারীতে ঘরে ঘরে! কালচিনির কোভিড হিরো প্রশান্ত বর্মন

Chandramani Saha

নিউজ ডেস্ক : এখন গোটা ব্লকটাই তাঁর দপ্তর আর। নিজের ব্লককে করোনার গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। আক্রান্তকে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা, সন্দেহজনক মনে হলে নিজের হাতেই নমুনা সংগ্ৰহ করে সদরে পাঠিয়ে তা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা কিংবা আক্রান্তের বাড়িতে নিজের গাড়িতে করেই পৌঁছে দেওয়া রেশন সব দিকই সামাল দিচ্ছেন প্রশান্ত বর্মন, বিডিও, কালচিনি। স্থানীয় মানুষ যাঁকে স্যালুট করেন ‘কোভিড হিরো’ বলেই।

রাজ্যে করোনাকে সামাল দিতে কার্যত লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।বন্ধ সমস্ত সরকারী-বেসরকারী দপ্তর। ঠিক এই সময়েই নিজের অফিসে বসে না থেকে এদিক ওদিক ছুটে বেরচ্ছেন কালচিনীর বিডিও প্রশান্ত বর্মন। নিজের ব্লককে করোনার গ্রাস থেকে রক্ষা করতে দল বল নিয়ে দিন রাত এক করে কাজ করে চলছেন। কখনো নিজেই কাধে তুলে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে থাকা পরিবার গুলির কাছে।

কখনো আবার স্বাস্থ্য দপ্তরের দল নিয়ে পি.পি.ই কিট পড়ে বেরিয়ে পড়ছেন চা বাগানে শ্রমিক দের করোনা টেস্ট করতে। আর তাই সাধারণ মানুষ তাঁর নাম দিয়েছেন কালচিনির কোভিড হিরো।
যদিও তা নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামাতে নারাজ এই ব্লক প্রশাসক। তিনি চাইছেন আরও মানুষ এগিয়ে আসুন যাতে সবাই একসাথে মোকাবিলা করতে পারে করোনা মহামারীকে।

রাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্যে এই মুহুর্তে করোনা আক্রান্তের সংখায় ১,৩১,৫৬০। আলিপুরদুয়ার জেলাতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই মুহুর্তে জেলা জুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৪ জন।এই জেলাতেই রয়েছে রাজ্যের অন্যতম প্রতন্ত্য ব্লক কালচিনি। জঙ্গল, পাহার, চাবাগান এবং আন্তর্জাতিক সীমানা এই নিয়েই কালচিনি ব্লক। আজ থেকে ৬ মাস আগে এই প্রত্যন্ত ব্লককেই সামলানোর দায়িত্ব পান ডাব্লু.বি.সি.এস প্রশান্ত বর্মন। ছমাস পার হতেই
রাজ্যের পাশাপাশি কালচিনি ব্লকেও থাবা বসিয়েছে সার্স কভিড ভাইরাস। আর ভাইরাসের এই ভয়াল আক্রমন থেকে ব্লক ও ব্লকবাসীকে বাচাতে যেন একা হাতেই দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। অন্য কারো হাতে দায়িত্ব না দিয়ে নিজেই খাদ্য সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন করণা আক্রান্তের বাড়িতে। কখনো বা রাস্তায় বেরিয়ে সকলকে সতর্ক করছেন। পথচলতি মানুষদের সাথে আলাপ করছেন।

ব্লকের আধিকারিকের এমন উদ্যোগ দেখে একে একে ব্লকের কর্মীরাও যুক্ত হয়েছেন তার সাথে। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুভাষ কুমার বর্মন এবং বেশ কিছু কর্মীকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি দল। আর এই দলই এখন ছুটে বেড়াচ্ছে ব্লকের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। যেন সকলকে অভয় দিয়ে বলছেন ‘করোনাতে ভয় নেই আমরা আছি আপনাদের সাথে’।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join