TRENDS

নয়াগ্ৰামের জঙ্গলে নির্মম হরিণ হত্যা! উদ্ধার একাধিক হরিণের রান্না মাংস, চামড়া ও শিং! জঙ্গল জুড়ে কী চোরা শিকারীদের রমরমা

Chandramani Saha

নয়াগ্ৰামের জঙ্গলে নির্মম হরিণ হত্যা! উদ্ধার একাধিক হরিণের রান্না মাংস, চামড়া ও শিং! জঙ্গল জুড়ে কী চোরা শিকারীদের রমরমাভবানী গিরি: শুক্রবার এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার স্বাক্ষী হল বনদপ্তর। ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম থানা এলাকায় জঙ্গল ঘেরা একটি গ্রামের বাড়িতে হানা দিয়ে উদ্ধার হল রান্না করা হরিণের মাংস! শুধু তাই নয় পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছুটা কাঁচা মাংসও! উদ্ধার হয়েছে হরিণের চামড়া এবং শিং। গোটা ঘটনায় রীতিমত হতবাক বনদপ্তর। বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে এই মূহুর্তে বেশ কিছু কাঁচা ও রান্না মাংস পাওয়া গেলেও প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে অন্ততঃ চারটে হরিণ হত্যা করা হয়েছে অল্প সময়ের ব্যবধানে। এর আগেও হরিণ হত্যা করা হয়েছে কিনা, হলে কতগুলি হরিণ তার খোঁজ চালাচ্ছে বনদপ্তর।

এক বন আধিকারিক মারফৎ জানা গেছে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁরা অভিযান চালান নয়াগ্ৰাম বন রেঞ্জের কুড়চিবনী গ্রাম। সেখানেই একটি বাড়িতে হানা দিয়ে উদ্ধার হয় হরিণের রান্না করা মাংস, কাঁচা মাংস, চামড়া এবং একাধিক আস্ত সিং। প্রাথমিক ভাবে বনদপ্তর মনে করছে ৫টি হরিণ হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে ১টি সদ্য এবং ১টি কয়েক দিন আগেই হত্যা করা হয়েছে। বাকি ৩ টি কয়েক মাসের মধ্যে। হত্যা করা হরিণ গুলির মধ্যে ২টি হরিণকে প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি ৩টি বয়সে তরুণ ছিল বলেই মনে হচ্ছে।

এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন রেঞ্জ আধিকারিক শিবরাম রক্ষিত। কুড়চিবনী গ্রামের জনৈক পাড়ু মুর্মু নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দিয়ে শিকার করা হরিণের শরীরের এই নানা অংশ গুলি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। বন আধিকারিক জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি এফআইআর করা হবে এবং পুলিশ সমস্ত ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে নয়াগ্রাম এবং সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় হরিণের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি হরিণ শিকার করছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছিল কিন্তু কে বা কারা এই শিকারের সঙ্গে যুক্ত তা জানা যাচ্ছিল না। শুক্রবার সেই সূত্র পাওয়া গেল বলে মনে করছেন বনদপ্তরের কর্তারা। মনে করা হচ্ছে ফাঁদ পেতে অথবা খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হরিণ গুলিকে মেরে ফেলা হচ্ছে। এটা কি কেবলই মাংসের জন্য ব্যক্তিগত স্তরে শিকার নাকি এর পেছনে কোনও চক্র রয়েছে যারা হরিণের চামড়া, শিং ইত্যাদির কারনে এই শিকার করাচ্ছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কারা কিভাবে সেই হরিণের শিং ও চামড়া চোরা বাজারে নিয়ে যেত তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশাতে ওই শিং ও চামড়া পাচার করা হত কোনও দালাল মারফৎ। যদিও শুধু চামড়া বা শিং নয় আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি সূত্র থেকে আরও একটি খবর জানা যাচ্ছে নয়াগ্রাম এবং আশেপাশের এলাকায় হরিণের মাংসের একটি চোরা বাজার সক্রিয় রয়েছে। বেশ কিছু ব্যক্তি জঙ্গলে অবস্থিত কিছু মানুষকে হরিণের মাংস সরবরাহ করার জন্য মোটা টাকা দেয়। ওই ব্যক্তিরা হরিণের মাংস দিয়ে  বন্ধুবান্ধব সহকারে ভোজ সারে তারা।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে হরিণ শিকার একটি মারাত্মক শাস্তি যোগ্য অপরাধ এবং বন আইন মোতাবেক শুধু শিকার করাই নয় পাশাপাশি সমান ভাবেই অপরাধী হরিণের চামড়া, শিং ইত্যাদি পাচার, বিক্রি এবং মাংস খাওয়াও। সেক্ষেত্রে যারা হরিণের মাংস কিনতেন তাদেরও খোঁজ করা হচ্ছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কী এখন নিরাপদ নয় নয়াগ্ৰামের জঙ্গলে থাকা হরিণ?

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join