অশ্লেষা চৌধুরী: শহরের বুকে ফের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। স্ট্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের একটি ভবনে আগুন লেগে ঝলসে মারা গেছেন রেলের একজন ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার, একজন আর পি এফ বা রেল নিরাপত্তা কর্মী সহ মোট ৯ জন যাঁর মধ্যে লিফটে আটকে ৪ জন দমকল কর্মীর ঝলসে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে । মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬ তা ১০ নাগাদ লাগা এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। রাত ৯ টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই জানা গেছে। এই দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

দমকল কর্মী গৌরব বেজ জানা গেছে সোমবার কলকাতার ১৪ নাম্বার স্ট্যান্ড রোড এলাকায় নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিং এর ১৩ তলায় আগুন লাগে। পূর্ব রেলের ঐ দফতরে লাগা বিধ্বংসী আগুনের খবর পেয়েই দমকলের ৬ টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে, পরে আরও ইঞ্জিন আনা হয়। ১৫ টির মতন ইঞ্জিন এসে আগুন নেভানোর প্রচেষ্টায় লেগে যায়। সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন অফিসে আগুন লাগার খবর সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় যান চলাচল, বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। দমকল কর্মীরা হাইড্রোলিক ল্যাডারের মাধ্যমে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
রাত ১০ টা ১০ নাগাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন কলকাতার নগরপাল সৌমেন মিত্র। তার কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে আসেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, একাধিক দমকল কর্মী ও পুলিশ কর্মীর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। যদিও কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা তখনও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি। পরে মন্ত্রী সুজিত বসু প্রথমে জানান, ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৪ জন দমকল কর্মী। একজন হেয়ার স্ট্রিট থানার এএসআই। একজন রেলের আরপিএফ কর্মী। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। লিফটে উঠতে গিয়েই দমকল কর্মীদের মৃত্যু হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।‘
এরপর সাড়ে ১১ টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী এসে পৌঁছান ঘটনাস্থলে। পরিস্থিতি দেখে চোখে জল ধরে রাখতে পারেন না তিনি। অশ্রুমিশ্রিত ও আবেগতাড়িত গলায় তিনি বলেন, “রেলের ভবন, অনেক পুরনো ভবন। যারা নেভাতে এসেছিলেন মোট ৭ জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। লিফট দিয়ে তাঁরা উঠতে গিয়েছিলেন। বিদ্যুতের ঝলকের মতো দেহ পুরো ঝলসে গিয়েছে। নামগুলো এসেছে, কিন্তু চিহ্নিত না করা পর্যন্ত নাম দেওয়া হচ্ছে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন , “যে কর্মীরা লড়াই করে জীবন দিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ও সরাকারি চাকরি দেওয়া হবে। এটা রেলের জায়গা। তাদের উপর দায়িত্ব বর্তায়। দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। তবে জায়গাটার ম্যাপও দেওয়া হয়নি। আগুন লাগলে লিফট ব্যবহার করা উচিৎ নয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু প্রাণগুলো চলে গিয়েছে। ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। কমিশনার বললেন আরও ২ জনের হয়ে থাকতে পারে।” সেই আশঙ্কা সত্যি করেই আরও ২জনের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় পূর্ব রেলের অনলাইন পরিষেবা ও টিকিট বুকিং বন্ধ রয়েছে। আরও কোনও মৃতদেহ আছে কিনা খোঁজ করা হচ্ছে। ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা কলকাতা। সহকর্মীদের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দমকল কর্মীরা। যদিও তাড়াহুড়ো করে আগুন নেভাতে গিয়ে জ্বলন্ত ভবনের লিফট কেন ব্যবহার করা হল তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় চরম অপেশাদারি মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে যাতে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও।






