TRENDS

প্রার্থী ঘোষনার দিনেই বামপ্রার্থীর হাত ধরেই নারায়নগড়ে তৃনমূল ছেড়ে ‘ঘরে’ ফিরল ৬৭ টি পরিবার

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুক্রবারই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃনমূল আর বাম সংযুক্ত মোর্চা। শুরু হয়ে গেছে দেওয়ালে দেওয়ালে প্রার্থীর নাম লেখা। মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা আর শুরুর সেই প্রথম দিনেই নারায়নগড়ের বামপ্রার্থী তাপস সিনহার হাত ধরে তৃনমূল থেকে ঘরে ফিরলেন ৬৭ টি পরিবার।

এদিন নারায়নগড় বিধানসভা এলাকায় প্রচার শুরু করেন একদা ভারতের যুব ফেডারেশন ডিওয়াইএফআইয়ের এই সর্বভারতীয় সম্পাদক। বর্তমানে সিপিএমের রাজ্য কমিটি এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক মন্ডলীর এই নেতা আজ প্রচার শুরু করেন নারায়নগড় পঞ্চায়েত সমিতির ২নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত গ্রামরাজ এলাকায়। সেখানেই ভদ্রকালী গান্ধী বিদ্যাপীঠ এলাকায় একটি ছোট সভার আয়োজন করেন স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব। সেই সভায় এসেই সিপিএমের পতাকা তুলে নেন গ্রামরাজ অঞ্চল সভাপতি
শেখ ইয়াসিন। আর এই ইয়াসিনের সঙ্গেই আরও ৬৭ টি পরিবারের প্রায় ২০০ জন তৃনমূল সমর্থক আজ সিনহাকে নিয়ে প্রচারে সামিল হন।

ইয়াসিন জানিয়েছেন তিনি এবং এই পরিবার গুলি একসময় সিপিএম সমর্থক ছিলেন কিন্তু ২০১১ পরবর্তী সময়ে শাসকদলের চাপে, অত্যাচারে তৃনমূল করতে বাধ্য হয়েছিলেন। গত ১০ বছর ধরে শাসকদলের সঙ্গে থাকার পরও তাঁদের কিংবা সাধারণ মানুষের কোনোও উপকার হয়নি। উল্টে সবই হয়েছে নেতাদের। আর সেই কারণেই তাঁরা সিপিএমেই ফিরছেন। শুক্রবারের সভায় সিপিএমের পতাকা তুলে নেওয়া এই পরিবার গুলির অধিকাংশই সংখ্যালঘু এবং তফসিলি জাতি উপজাতি ভুক্ত পরিবার। এঁদের অনেকেই দাবি করেছেন যে, ২০১১পরবর্তী কালে বেশ কয়েকমাস এরা সিপিএম করতেন কিন্তু শাসকদলের তীব্র অত্যাচার আর জরিমানার চাপে এরা বাধ্য হয়েছেন তৃনমূল হয়ে গ্রামে থাকতে।

তাপস সিনহা জানিয়েছেন, ” শুধু এই এলাকা নয় সমগ্র নারায়নগড় জুড়েই মানুষের ঘরে ফেরা শুরু হয়েছে আর কয়েকদিনের মধ্যেই নারায়নগড়ের সমস্ত এলাকা থেকেই মানুষের ঘরে ফেরার এই স্রোত দেখতে পাওয়া যাবে। বোমা বন্দুক আর তোলাবাজি, কাটমানিতে নারায়নগড়ের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।” সিনহা জানান, শনিবার নারায়নগড় এলাকার হাঁদলা রাজবাড়ীর সামনে আমার জন্মস্থান থেকেই দল আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবে। আমি নিজেও থাকছি। ওই সময়ই বুঝতে পারা যাবে কী পরিমাণ মানুষ তাঁর প্রিয় লালঝান্ডার তলায় ফিরতে শুরু করেছে।”

তৃনমূলের নারায়নগড় ব্লকের সাধারণ সম্পাদক বিমল ভূইঁয়া জানিয়েছেন, কিছু মানুষ সিপিএমে গেছেন বলে শুনেছি কিন্তু তারা আমাদের কেউ নয় এবং ওতে আমাদের কোনও ক্ষতিও হবেনা।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join