TRENDS

ছেলে আর বউমার স্বাক্ষ্যে যাবজ্জীবন বাবার! ৫বছর পর সাজা ঘোষণা ডেবরা খুনের

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: চোখের সামনে ছেলে দেখেছিল মাকে বেধড়ক পেটাচ্ছে বাবা। বউমাও দেখেছিল শ্বশুরের সেই নৃশংসতা। আদালতে বিচারকের কাছে অকপট স্বাক্ষ্য দিয়েছিলেন তাঁরা। আর তারই ভিত্তিতে যাবজ্জীবন সাজা পেলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানা এলাকার বাসিন্দা লক্ষীকান্ত কিস্কু। সোমবার এমনই সাজা দিয়েছেন মেদিনীপুর জেলা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক নীলাঞ্জন দে। বিচারক জানিয়েছেন, ঘটনাটি যদিও ঠান্ডা মাথায় খুনের ঘটনা নয় তাই সর্বোচ্চ সাজা(ফাঁসি) এই ঘটনায় দেওয়া হয়নি ঠিকই কিন্তু ঘটনাটি ভয়ঙ্কর তাই যাবজ্জীবন সাজা দেওয়াটাই সমীচিন।

পুলিশের চার্জশিট ও কেস ডায়রি অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ৪ জুলাই ডেবরার রুস্তমপুর গ্রামে‌। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসার জেরে লক্ষ্মীকান্ত কিস্কু তাঁর ২৫বছরের বিবাহিত স্ত্রী আরতিকে বেধড়ক মারে বাঁশ দিয়ে। ছেলে-বউমা ছাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ভোরেই বাড়িতে মৃত্যু হয় আরতির। এরপরই পালিয়ে যায় লক্ষীকান্ত। আরতির মামা সুখচাঁদ হেমব্রম ডেবরা থানায় অভিযোগ জানিয়ে বলেছিলেন বাঁশ দিয়ে তাঁর ভাগ্নিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আরতির দেহের পাশাপাশি বাঁশের লাঠিটিও উদ্ধার করে। লক্ষ্মীকান্তর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮(এ)এবং ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার হয় আসামী।

সরকার পক্ষের আইনজীবী গৌতম মল্লিক বলেন, ‘‘ লক্ষীকান্তকে জেলবন্দি করেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পুলিশ এবং আইনজীবীর তৎপরতায় সঠিক সময়ে চার্জশিট জমা পড়ে যাওয়ায় জামিন পায়নি আসামী। লক্ষীকান্তের ছেলে এবং বউমা সহ মোট ১৩ জনের স্বাক্ষী দেন। যার মধ্যে লক্ষ্মীকান্তর ছেলে বিকাশ এবং বৌমাও রুমা ছিল ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।” গত শুক্রবারই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। সোমবার দুপুরে তারই সাজা ঘোষণা হিসাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মল্লিক জানিয়েছেন, করোনা জনিত লকডাউনের কারনে প্রায় ১বছর ব্যাহত হয়েছে আদালতের কাজ । যে কারনে ফার্স্ট ট্র্যাক হওয়া স্বত্ত্বেও বিচার প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হল। নচেৎ আরও আগে রায় হতে পারত। বিচারক জানিয়েছেন, অপরাধী তাঁর দোষ স্বীকার করে নিয়েছে। তাছাড়া ৫বছর সংশোধনাগারে কাটিয়েছে সে। তাই সমস্ত বিচার করেই এই রায় দেওয়া হল। ছেলে কিংবা বউমা অবশ্য এই রায়দানের সময় উপস্থিত ছিলেননা।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join