TRENDS

স্কুল খোলার পরই করোনায় আক্রান্ত শিক্ষক, জ্বরে কাবু আরও ২জন! তড়িঘড়ি বন্ধ করা হল স্কুল

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: করোনা আবহেই সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েই অন্য একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি এরাজ্যেও খুলে গিয়েছে স্কুল। তবে শুরুতেই জোর ধাক্কা। স্কুল খোলার পরেই বিপত্তি। করোনা আক্রান্ত কসবা চিত্তরঞ্জন হাই স্কুলের এক শিক্ষক। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও দুই শিক্ষকও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তড়িঘড়ি স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলটি স্যানিটাইজ করা হবে। আপাতত স্কুল বন্ধই থাকছে। স্কুল ফের কবে খুলবে তা নোটিশ দিয়ে জানানো হবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গতবছর মার্চ মাস থেকে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনার চোখ রাঙানিতে দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর চলতি মাসের ১২ তারিখ খুলে যায় রাজ্যের স্কুল, তবে কেবল নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত খোলে স্কুল। ২৮ পাতার গাইডলাইন জারি করে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। মূলত গাইডলাইনে স্কুলগুলিকে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, শিক্ষকদের কী দায়িত্ব থাকবে, প্রধান শিক্ষকদের কোন দায়িত্ব থাকবে, জেলা স্কুল বিদ্যালয় পরিদর্শকদের কী দায়িত্ব থাকবে, প্রশাসনের ভূমিকা কী হবে, সেই বিষয় নিয়ে। স্কুল খুললে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মানতে হবে এক গুচ্ছ বিধি নিষেধ মানার কথা উল্লেখ করা হয়, যেমন- প্রত্যেকটি স্কুলের নোটিশ বোর্ডে লাগাতে হবে, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক শিক্ষক শিক্ষক কর্মীদের জন্য। অভিভাবকদের জানাতে হবে যদি তাদের ছাত্র বা ছাত্রী জ্বর থাকে বা কোন রকম শারীরিক গত সমস্যা থাকে তাহলে ন্যূনতম সাতদিন বাড়ীতে বিশ্রামে রাখতে হবে।

এছাড়াও প্রত্যেকটি স্কুলে একটি নির্দিষ্ট করে আইসোলেশন রুম রাখতে হবে। প্রত্যেকদিন স্যানিটাইজ করতে হবে। সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় থাকে তা বিশেষভাবে দেখতে হবে। কোনও ভিজিটর,অভিভাবক স্কুলের ভেতরে ঢুকবেন না, ইত্যাদি। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ুয়ারা দিনের পর দিন বাড়ীতে থেকে মনমরা হয়ে পড়ছিল। পড়াশোনার ক্ষেত্রে যার প্রভাব পড়ছে খুব বেশি। তাই নিয়ম-বিধি সহ খুলে দেওয়া হয়েছিল স্কুল। কিন্তু স্কুল খুলতেই বিপত্তির মুখে পড়তে হল।

এদিকে অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি এই রাজ্যের করোনা-গ্রাফ ফের ঊর্ধ্বমুখী। নতুন করে রাজ্যে উদ্বেগ বাড়াতে শুরু করেছে করোনাভাইরাস। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একদিনে বাংলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৯ জন। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ জন কলকাতার বাসিন্দার। উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দার ৫৯ জন। সব মিলিয়ে এরাজ্যে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৯ জন।

অপরদিকে কেরল ও মহারাষ্ট্রে করোনার নয়া স্ট্রেনের হদিশ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে বর্তমানে ওই দুই রাজ্যে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পিছনে নয়া এই নয়া স্ট্রেনই যে দায়ী একথা নির্দিষ্ট করে মানতে নারাজ স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join