TRENDS

মধ্যপ্রদেশের বাস দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ৪৭! উদ্ধার ৪ বছরের শিশুর দেহও

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: মধ্যপ্রদেশের ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় বাড়ল মৃতের সংখ্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৭-এ। উদ্ধার হয়েছে এক চার বছরের শিশুর দেহও। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকাহত ও ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারের।

ঘটনার পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্যুইট করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল রিলিফ ফান্ড থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ও আহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান একটি ভিডিও বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ মধ্যপ্রদেশে একটি ভয়ানক বাস দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি সিধি জেলা (রাজধানী ভোপাল থেকে ৫৬০ কিমি দূরে) থেকে সাতনার দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় বানসাগর খালের ওপরের ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। অনেক জনের জলে ডুবে মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায় সেই সময়। নিখোঁজ হন আরও অনেকে।

জানা যায় বাসটিতে ৫৪ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি পুরোপুরি জলে ডুবে গিয়েছে এবং বাসটি জল থেকে টেনে তুলতে প্রায় তিন ঘন্টা সময় লেগেছে। আরও জানা যায় যে, বাস চালক সহ কমপক্ষে ৭ জন সাঁতরে তিরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। পুলিশ এবং রেওয়া, সাতনা, সিঙ্গারৌলির উদ্ধারকারী দল পাশাপাশি স্থানীয় দল গুলিও উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন এবং মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রী তুলসী সিলাওয়াত এবং রামখিলাওয়ান প্যাটেলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। মন্ত্রী তুলসী সিলাওয়াত বলেন, খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন তাঁরা। সেইসাথেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল তথা এসডিআরএফ জানিয়েছে, বানসাগর খালের ওপরের ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। ব্রিজ থেকে খালের জলে পড়ে যায়। উদ্ধারকারীরা বলছেন, এনেক যাত্রী খালের জলে ডুবে গেছেন। তাঁদের উদ্ধার করার জন্য খালের জলস্তর কমানো দরকার। তাই বানসাগর খাল থেকে এই মুহূর্তে জল সিয়াওয়াল খালে ছাড়া হচ্ছে। এতে জলস্তর অনেকটাই কমবে। উদ্ধারকাজে সুবিধা হবে। সকলেই আশঙ্কা করেছিলেন মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে আরও। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল, দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৭ জনে। উল্লেখ্য, খালে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালানো হয়।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join