TRENDS

রাতের আঁধারে নৃশংস হত্যাকান্ড, গুলি করে ও গলার শ্বাসনালী কেটে পালাল দুষ্কৃতকারীরা

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: রাতের আঁধারে নৃশংস হত্যাকান্ড, গুলি করে ও গলার শ্বাসনালী কেটে খুন করা হল টোটো চালককে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থানার মাজিদা পঞ্চায়েতের বড় ধামাস গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম পিন্টু পাল, বয়স ৩৫ বছর। রহস্যজনক এই খুনের ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

জানা যায় রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নিজের বাড়ির সামনেই খুন হন ওই টোটো চালক। রাতে বাড়ীর অদূরে টোটোর ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়ার জায়গার কাছেই পড়ে থাকে টোটো চালকের রক্তাক্ত দেহ। খবর পেয়ে রাতেই পূর্বস্থলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতব্যক্তির দেহ সোমবার বর্ধমান হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। কারা টোটো চালককে খুন করে পালালো তা নিয়ে ধন্দে মৃতের পরিবার। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মৃতের ভাই তড়িৎ পাল জানান, তাঁর দাদা পিন্টু পাল বিবাহিত। তাঁর নাবালক দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। টোটো চালিয়ে যেটুকু রোজগার হত তা দিয়ে এবং চাষের কাজ করে পিন্টু কোনরকমে সংসার চালাতো। অন্যান্য দিনের মতো রবিবারও সন্ধ্যার পর পিন্টু টোটো নিয়ে বাড়ী ফিরে আসেন। তিনি আরও জানান, ‘দাদা রাতে টোটোতে চার্জ দিতে বাড়ীর সামনে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় দুষ্কৃতিরা দাদাকে গুলি করে খুন করে। পাশাপাশি গলার শ্বাসনালী কেটে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে আমার মা পূর্নিমা পাল প্রথমে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন। তিনিই দাদাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। আমরাও ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। দুষ্কৃতিদের চিনতে পারিনি।

তড়িৎ বাবু বলেন, তাঁর দাদার সঙ্গে কারও ঝগড়া আশান্তি ছিল এমনটা কোনদিনও তাঁরা শোনেননি। তাই কারা এমন নৃশংস ভাবে পিন্টুকে খুনকরে থাকতে পারে তার কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না বলে মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে তারা অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে তার কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়ে এদিন পূর্বস্থলী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, “মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত কোন অস্ত্র ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়নি। কি কারণে খুন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নারী সংক্রান্ত কোন কারনে এই খুন হতে পারে। তদন্তে নেমে সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে রাতের আঁধারে এমন এক নৃশংস ঘটনায় এলাকায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join