TRENDS

টানা বৃষ্টিতে মশলা নেতিয়ে পড়ে আছে মাথায় হাত বাজি উৎপাদক থেকে বিক্রেতার

Abhirup Maity
টানা বৃষ্টিতে মশলা নেতিয়ে পড়ে আছে মাথায় হাত বাজি উৎপাদক থেকে বিক্রেতার

নিজস্ব সংবাদদাতা: হাতে মাত্র দুদিন তারপরেই শেষ হয়ে যাবে এ মরসুমের সব চেয়ে বড় বাজির বাজার। কিন্ত কোটি কোটি টাকার সেই ব্যবসাতে ছোবল বসিয়েছে নিম্নচাপ। বুধবার থেকেই নেমেছে বৃষ্টি। মুষলধারে নয়, কিন্তু টানা বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবারও  সারা দিন রাত্তির টানা চলেছে বৃষ্টি। তারপর একই অবস্থা শুক্রবারেও। গত তিনদিন সূর্যের মুখই দেখেনি দক্ষিনবঙ্গ। আর সে কারনেই ড্যাম্প বা নেতিয়ে পড়ে রয়েছে মিহি করে গুঁড়িয়ে রাখা সোরা, গন্ধক আর কাঠ কয়লা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
হ্যাঁ, শব্দ বাজিই হোক আর আলো, চকলেট, কালি পটকা, দোদমা কিংবা রসবাতি , ফুলঝুরি, হাওয়াই বাজির মূল অনুপান ওই তিনটি। তার সঙ্গে অন্য কিছু। সেই মিহি করে গুঁড়িয়ে রাখা সোরা, গন্ধক, কাঠ কয়লা শুকিয়ে খটখটে আর ঝুরঝুরে হলেই তাকে বিভিন্ন ফর্মুলায় বস্তুতে ঠেসে তবেই বাজি তৈরি হয়। কিন্তু জোলো আবহাওয়ায় সেই মশলা কার্যত ভিজে চুপসে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা এলাকার বড় মোহনপুর,  গুড়দলা, গোবিন্দপুর ,  সোহাগপুর, ক্রোড়দা কিংবা মেদিনীপুরের ছেড়ুয়া ইত্যাদি জেলার বড়সড় বাজি নির্মাতাদের মাথায় হাত কারন ভেজা মশলায় বাজি বানানো যাচ্ছেনা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
”এই মশলা আপনি ড্রায়ারে কিংবা আগুনে সেঁকতে পারবেননা। অন্তত আমাদের সেই ব্যবস্থা নেই। আমরা পুরোপুরি সূর্যর তাপের ওপরই নির্ভরশীল। পলিথিন বিছিয়ে আলাদা আলাদা করে মশলা রোদে শুকনো করা হয়। ঝরঝরে মশলা না হলে বাজিতে সঠিক অনুপানে মশলা ঠাসা যায়না।” জানালেন এক বাজি নির্মাতা। বেলদার ওই বাজি নির্মাতার ভাষায়, ” এতদিনে আমিই চার কুইন্টাল মশলার কাজ করে দিতাম কিন্তু এখনও কোনোমতে এক কুইন্টাল করেছি।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
অবশ্য শুধুই বাজির নির্মাতারা নয়,  ব্যাপক বৃষ্টির জেরে মাছি মারছে খড়গপুর মেদিনীপুর বেলদা ঝাড়গ্রামের বাজির বাজার। গত তিনদিন বাজিবাজার প্রায় জনশুন্য। এরওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বারুদের ড্যাম পড়ে যাওয়া। ফলে ফেলে দিতে হচ্ছে কয়েকহাজার টাকার বাজি।

টানা বৃষ্টিতে মশলা নেতিয়ে পড়ে আছে মাথায় হাত বাজি উৎপাদক থেকে বিক্রেতার

খুব বেশি আশার সংবাদও নেই আবহাওয়া দপ্তরের তরফে। অন্তত বাজি নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য। জানানো হয়েছে শুক্রবার ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে পুরুলিয়া, বরধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ইত্যাদি জেলায়। তুলনায় কিছুটা নিস্তার পাবে দুই চব্বিশ পরগণা, নদীয়া সহ কলকাতা। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতেও বৃষ্টির আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে অবস্থান করছে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ। তার জেরেই আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে উত্তর এবং দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায়। কারণ বুধবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে জলীয় বাষ্প পূর্ণ বাতাস ঢোকার পরিমাণ বেড়েছে।

টানা বৃষ্টিতে মশলা নেতিয়ে পড়ে আছে মাথায় হাত বাজি উৎপাদক থেকে বিক্রেতার

শুক্রবার বিকালের পর থেকে চাপ কাটতে পারে। শনিবার হয়ত পরিষ্কার হবে আকাশ কিন্তু তাতে বাজির মশলা শুকোবে কিনা তা বলা মুশকিল। তাছাড়া বাজি বানানোর সময়ও দিতে হবে। সব জায়গাতেই কুটির শিল্পের মত বাড়ির মধ্যেই ছোট ছোট ঘরে তৈরি হয় বাজি। পেশাদার লোকের সংখ্যাও সীমিত। সব মিলিয়ে এই দীপাবলির বাজার এবার ফসকে যাওয়ার মুখেই। 

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join