TRENDS

ঝুলন্ত হিমবাহ থেকে তুষারখন্ড পিছলে গিয়েই চামোলিতে আকস্মিক বন্যা; বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষায় উঠে এল চমকে দেওয়ার মত তথ্য

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: রবিবার উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় বন্যা এবং তুষারধসের ঘটনাটি নিয়ে হিমালয়ান জিওলজির ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এই নিয়ে বায়বীয় সমীক্ষা করেছে। তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুসারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ঝুলন্ত হিমবাহ থেকে এক বিশাল পরিমাণ তুষার পিছলে যাওয়ায় কারণে আকস্মিক বন্যার ঘটনাটি ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের দলটি রেনি গ্রামে ফিরে যায়, যেখানে তারা বন্যার সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পান এবং বুধবার তারা স্থলভাগে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ সংস্থাপনকারি গ্লিসোলজিস্ট ডি পি ডোভাল জানিয়েছেন, “তারা মঙ্গলবার বিকেলে একটি হেলিকপ্টারে বিমান সমীক্ষা চালিয়েছিল এবং প্রাথমিক মূল্যায়ন করতে পেরেছিল। এটি দেখতে অনেকটা বরফের ঝুলন্ত ঝলকানো হিমবাহ থেকে স্ফীত হয়ে যাওয়ার মতো। অন্যান্য সম্ভাবনা হল এটি কিছু উপ-হিমবাহের হ্রদটি ভেঙে দিয়েছে। এই হ্রদগুলি হিমবাহের নীচে বিদ্যমান। শীর্ষে তুষার, তবে এর নীচে রয়েছে প্রচুর জল। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি হিমবাহ রয়েছে। ”

তিনি আরও বলেছেন, “দলটিকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তাদের পথটি খুঁজে পেতে হবে। এটি কোনও সহজ রুট নয়, একানকার কয়েকটি সেতু ও রাস্তা ভেসে গিয়েছে। ” এদিকে, হায়দরাবাদ ভিত্তিক ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার, ইসরোর একটি ইউনিট, ঘটনার আগে এবং পরে ভারতের রিসোর্সস্যাট এবং কার্টোস্যাট -৩ উপগ্রহ দ্বারা নেওয়া অঞ্চলের ছবি প্রকাশ করেছে। ফটোগ্রাফগুলিতে হিমবাহের কোনও একটি গায়ে হারিয়ে যাওয়া বরফের আবরণ, রেনি গ্রামে ক্ষতির পরিমাণ এবং ভাঙ্গা রাস্তা ও সেতুগুলি দেখানো হয়েছে। ফটোগ্রাফগুলিতে প্রচুর শিলা ধ্বংসাবশেষও দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় রবিবার দুপুরে হিমবাহ ভেঙে আচমকা তুষারধসের ঘটনায় ভয়ঙ্কর বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায়। প্রচুর মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায়, যার মধ্যে বাংলারও ৬ জন শ্রমিক রয়েছেন। এই ধসের ফলে ঋষিগঙ্গা ও ধৌলিগঙ্গা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্য়াপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রেরই বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। চামোলি জেলার তপোবনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে, উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা৷ শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৩২টি দেহ উদ্ধার হয়েছে৷ এখনও নিখোঁজ ২০৬ জন৷ যাঁদের মধ্যে ২৫-৩৫ জন আটকে রয়েছেন তপোবন বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে৷ এই মুহূর্তে সেনা এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৬০০ সদস্য জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন৷ উত্তরাখণ্ডে কাজে গিয়ে নিখোঁজ পুরুলিয়ার দুই শ্রমিক। পুরুলিয়ার আড়ষা থানার বাগানডি গ্রামের বাসিন্দা ওই দুই শ্রমিকের নাম শুভঙ্কর তন্তুবায় ও অশ্বিনী তন্তু বায়। এদিকে এখনও খোঁজ মেলেনি মহিষাদলের লালু জানা বুলা জানা সহ চার জনের। এছাড়াও জোশীমঠ এলাকার ধৌলি গঙ্গা উপত্যকায় ঋষিগঙ্গা জলবিদ্যুত্‍ কেন্দ্রে কর্মরত বহু শ্রমিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join